ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আত্মসমর্পণ করলেন জাহের আলভী আ.লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না: মীর শাহে আলম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি পাকিস্তানিদের জন্য গর্বের: আতাউল্লাহ তারার সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের জুবাইদা রহমান রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন : মঈন খান বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা জামায়াতের সেই এমপির বাবা এখনো বেঁচে আছেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল যুবকের লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাঁঠাল দিয়ে সিঙ্গারা-সমুচা-কাবাব, ফল হবে দেশের শক্তিশালী রপ্তানি পণ্য: কৃষিমন্ত্রী যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারকে সই করলেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান

মৃত মায়ের পাশে পাঁচ বছরের ছেলের ঘুম

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

শ্বাস চলছে কোনও মতে। দুই পা প্রায় অসাড়। অবলম্বন বলতে পাঁচ বছরের একরত্তি শিশু। এভাবেই কোনও মতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিজেকে টেনে এনেছিলেন এক মা। মৃত্যু তখন মাত্র আধ ঘণ্টা দূরে।

চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে মা, পাশে ক্লান্ত শরীরে তত ক্ষণে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে ছেলে। হোক না নিথর, তবু তো মায়ের শরীরের স্পর্শেই ঘুম।

রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এভাবেই শেষ মুহূর্তে মাকে নিয়ে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওসমানিয়া জেনারেল হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে এসেছিল ছেলেটি। মহিলাকে বাঁচাতে না পেরে পুলিশে খবর দেন চিকিৎসকরাই। সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক কেউ না থাকায় হেল্পিং হ্যান্ড ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দ্বারস্থ হন হাসপাতালের কর্মীরা।

ছেলের কাছ থেকেই পাওয়া যায় ৩৬ বছর বয়সী মৃত নারীর আধার কার্ড। জানা যায় তিনি সামিনা সুলতানা, পেশায় নির্মাণকর্মী। হায়দ্রবাদ শহরের কাতেদান এলাকার বাসিন্দা।

হেল্পিং হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সদস্য মুজতবা হাসান আসকরি জানান, তিন বছর আগেই সুলতানাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন স্বামী আইয়ুব। রাজেন্দ্রনগরে কোনও এক পুরুষের সঙ্গে থাকলেও তিনিও হয়তো তাকে হাসপাতালের বাইরে ছেড়েই চলে গিয়েছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবশেষে মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টা পর জহিরাবাদে সুলতানার বাবা-মায়ের হাতে দেহ তুলে দেন হেল্পিং হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। শিশুটিকে তার মামার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্মসমর্পণ করলেন জাহের আলভী

মৃত মায়ের পাশে পাঁচ বছরের ছেলের ঘুম

আপডেট সময় ১১:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

শ্বাস চলছে কোনও মতে। দুই পা প্রায় অসাড়। অবলম্বন বলতে পাঁচ বছরের একরত্তি শিশু। এভাবেই কোনও মতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিজেকে টেনে এনেছিলেন এক মা। মৃত্যু তখন মাত্র আধ ঘণ্টা দূরে।

চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে মা, পাশে ক্লান্ত শরীরে তত ক্ষণে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে ছেলে। হোক না নিথর, তবু তো মায়ের শরীরের স্পর্শেই ঘুম।

রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এভাবেই শেষ মুহূর্তে মাকে নিয়ে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওসমানিয়া জেনারেল হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে এসেছিল ছেলেটি। মহিলাকে বাঁচাতে না পেরে পুলিশে খবর দেন চিকিৎসকরাই। সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক কেউ না থাকায় হেল্পিং হ্যান্ড ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দ্বারস্থ হন হাসপাতালের কর্মীরা।

ছেলের কাছ থেকেই পাওয়া যায় ৩৬ বছর বয়সী মৃত নারীর আধার কার্ড। জানা যায় তিনি সামিনা সুলতানা, পেশায় নির্মাণকর্মী। হায়দ্রবাদ শহরের কাতেদান এলাকার বাসিন্দা।

হেল্পিং হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সদস্য মুজতবা হাসান আসকরি জানান, তিন বছর আগেই সুলতানাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন স্বামী আইয়ুব। রাজেন্দ্রনগরে কোনও এক পুরুষের সঙ্গে থাকলেও তিনিও হয়তো তাকে হাসপাতালের বাইরে ছেড়েই চলে গিয়েছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অবশেষে মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টা পর জহিরাবাদে সুলতানার বাবা-মায়ের হাতে দেহ তুলে দেন হেল্পিং হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। শিশুটিকে তার মামার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।