ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে গ্রামপুলিশের আত্মহত্যা চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু: স্পিকার হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করা দুই জাহাজ জব্দ করেছে আইআরজিসি জনগণের কাছে যান, শহর ঘুরে দেখুন: সিটি প্রশাসকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার

নির্বাচন নিয়ে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন কাউন্সিলর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ঝালকাঠিতে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন এক কাউন্সিলর। এসময় প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বাইরে লাঠিসোটা নিয়ে কাউন্সিলরের লোকজন মহরা দেয়।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলার ইছানীল জে বি আই ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে।

জানাযায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার জে বি আই ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচনে ৯জন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে পাঁচজন অভিভাবক, তিনজন শিক্ষক ও একজন দাতা সদস্য রয়েছেন। গত ৩১ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে প্রতিটি পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম হারুন অর রশীদ।

বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত সদস্যরা সাত দিনের মধ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করবেন। রোববার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করেন। কিন্তু সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দুটি গ্রুপ হওয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পক্ষে গত কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন এবং অন্য পক্ষে রয়েছেন পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু।

নির্বাচনের দিন বিদ্যালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে সন্দেহে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রোববারের পরিবর্তে ৭ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাচনের দিন ধার্য করেন। বিষয়টি চিঠি দিয়ে ভোটারদের জানানো হয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার দুপুরে পৌর কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম শরীফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। এসময় কক্ষের ভেতরে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বাইরে লাঠিসোটা নিয়ে মহরা দেয় কাউন্সিলরের লোকজন।

প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম শরীফ বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করেছেন প্রিসাইডিং অফিসার, এখানে আমার দোষ কোথায়। আমাকে স্থানীয় কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু লোকজন নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। তিনি আমাকে কক্ষের মধ্যে আটকে রাখেন। এ ঘটনায় আমি ঝালকাঠি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

পৌর কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু বলেন, উনি শিক্ষক মানুষ, তাই আমি ওনার গায়ে হাত দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে সাবেক কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন ষড়যন্ত্র করে অভিযোগগুলো করাচ্ছেন। আমার বড় ভাইকে (হুমায়ুন কবির খান) অনেকে সভাপতি করতে চাইছেন, কিন্তু আফজাল হোসেন এতে বাধা দিচ্ছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম হারুন অর রশীদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপ হয়েছে বলে আমার কাছে খবর এসেছে। এ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে ৭ ফেব্রুয়ারি করা হয়। ভোটারদেরও চিঠি দেয়া হয়েছে।

ঝালকাঠি থানার এসআই মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষকদের অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির

নির্বাচন নিয়ে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন কাউন্সিলর

আপডেট সময় ১০:০২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ঝালকাঠিতে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন এক কাউন্সিলর। এসময় প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বাইরে লাঠিসোটা নিয়ে কাউন্সিলরের লোকজন মহরা দেয়।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলার ইছানীল জে বি আই ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে।

জানাযায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার জে বি আই ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচনে ৯জন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে পাঁচজন অভিভাবক, তিনজন শিক্ষক ও একজন দাতা সদস্য রয়েছেন। গত ৩১ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে প্রতিটি পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম হারুন অর রশীদ।

বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত সদস্যরা সাত দিনের মধ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করবেন। রোববার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সভাপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করেন। কিন্তু সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দুটি গ্রুপ হওয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পক্ষে গত কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন এবং অন্য পক্ষে রয়েছেন পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু।

নির্বাচনের দিন বিদ্যালয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে সন্দেহে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রোববারের পরিবর্তে ৭ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাচনের দিন ধার্য করেন। বিষয়টি চিঠি দিয়ে ভোটারদের জানানো হয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার দুপুরে পৌর কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম শরীফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। এসময় কক্ষের ভেতরে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে বাইরে লাঠিসোটা নিয়ে মহরা দেয় কাউন্সিলরের লোকজন।

প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম শরীফ বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করেছেন প্রিসাইডিং অফিসার, এখানে আমার দোষ কোথায়। আমাকে স্থানীয় কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু লোকজন নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। তিনি আমাকে কক্ষের মধ্যে আটকে রাখেন। এ ঘটনায় আমি ঝালকাঠি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

পৌর কাউন্সিলর শাহ আলম ফারসু বলেন, উনি শিক্ষক মানুষ, তাই আমি ওনার গায়ে হাত দেয়নি। আমার বিরুদ্ধে সাবেক কমিটির সভাপতি আফজাল হোসেন ষড়যন্ত্র করে অভিযোগগুলো করাচ্ছেন। আমার বড় ভাইকে (হুমায়ুন কবির খান) অনেকে সভাপতি করতে চাইছেন, কিন্তু আফজাল হোসেন এতে বাধা দিচ্ছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম হারুন অর রশীদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপ হয়েছে বলে আমার কাছে খবর এসেছে। এ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে ৭ ফেব্রুয়ারি করা হয়। ভোটারদেরও চিঠি দেয়া হয়েছে।

ঝালকাঠি থানার এসআই মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষকদের অভিযোগ পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে কাউকে পায়নি।