অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই নিজ দেশ মিয়ানমারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বলেছেন, ‘রাখাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই রোহিঙ্গাদের পাঠানো হবে। কাউকে জোর করে পাঠানো হবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘চীন, ভারত, কম্বোডিয়া ও লাওসের কূটনীতিকদের নিয়ে মিয়ানমারের পরিস্থিতি দেখানো হয়েছিল। তাদের আবার সেখানে পরিদর্শনে নেয়া হবে। আর তখনই রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থা ফেরত আসবে। এরপরই এই প্রত্যাবাসন নির্বিঘ্ন হতে পারে।’
রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চুক্তি অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রথম পর্বে তিনশ থেকে পাঁচশজন রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা আসলে দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না। তবে খুব শিগগির যেতে শুরু করবে। ওইদিনই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো শুরু হবে কি না তা এখনোই বলবো না। তবে সেদিন দুই দেশের সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরতদের ফেরত পাঠানো শুরু হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে খুবই শিগগির বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি (এমইউ) করা হবে। আর মিয়ানমারের পক্ষে চীন, ভারত ও জাপানকে নিয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি (এমইউ) করা হবে।’
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক এখন বাংলাদেশের আশ্রয়ে রয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















