ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

জেলে গেলেও খালেদা জিয়াই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী: আদালতে মওদুদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় কারাগারে গেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকালে এ দাবি করেন মওদুদ।

মওদুদ আহ‌মদ আদালতে বলেন, ‘এই মামলায় খালেদা জিয়ার কোন ক্ষ‌তি হবে না, বরং উনার জন‌প্রিয়তা আরও বাড়বে। উনি পরবর্তী নির্বাচ‌নে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।’

মওদুদ পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরদ্ধে দুর্নীতির মামলার উদাহরণও দেন আদালতে। বলেন, ‘‌বিরোধীদলের রাজনী‌তিকে নি‌শ্চিহ্ন করার জন্য মামলা করা হয়।’

পরে মওদুদ উদাহরণ দেন সাউথ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার। বলেন, ‘বিশ্বের বহু নেতার বিরু‌দ্ধে মামলা করা হয়েছে।’

মওদুদ উদাহরণ হিসেবে বিশ্ব বরেণ্য এই নেতাদের পাশাপাশি তার কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, ‘মামলা আমার বিরুদ্ধেও হয়েছে।’

‘বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই নেত্রী‌কে মাইনাস করার জন্য এসব মামলা দেওয়া হয়ে‌ছিল।’

তত্ত্ববধায়ক সরকা‌রের সময় নিজের এক‌টি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমায় জেলখানায় নেওয়া হয়েছিল, সেখানে তো আর ঘুম ধ‌রে না,‌ এক‌দিন রাতে আমার চোখ বেঁধে ফেলা হলো, বলা হলো বড় সাহেবের কা‌ছে আপনা‌কে যেতে হবে, এরপর সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা আমাকে জানাল , দুই নেত্রীকে বিদেশে পা‌ঠিয়ে দেয়া হবে।’

‘আমি জানতে চাইলাম তারা যেতে না‌ চাইলে কী করবেন। তখন তারা বলল, তাহলে তা‌দের বিরু‌দ্ধে মামলা করা হবে। বিদেশ যেতে একজন রাজি হলেন, অন্যজন হলেন না।’

এ সময় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি আইনানুগ হয়নি দাবি করে এটি প্রথম দিনেই খারিজ করে দেয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মওদুদ বলেন, শাসক দলের দ্বারা বিরোধী রাজনীতিকরা সব সময় নির্যাতিত হয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে শুরু করে আমরাও জেল খেটেছি। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠাতে পারবেন কিন্তু এতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে যাবে না। বরং আমি বলতে পারি- খালেদা জিয়াই হচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া।

এর পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি ৯ম দিনের মতো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। ওই দিন যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাতেও যুক্তি উপস্থাপনের জন্য একই দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এ দিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

এর পর ২০, ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩ , ৪, ১০ ও ১১ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্ত উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় প্রথম মামলাটি করা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জেলে গেলেও খালেদা জিয়াই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী: আদালতে মওদুদ

আপডেট সময় ০১:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্নীতি মামলায় কারাগারে গেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। মঙ্গলবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকালে এ দাবি করেন মওদুদ।

মওদুদ আহ‌মদ আদালতে বলেন, ‘এই মামলায় খালেদা জিয়ার কোন ক্ষ‌তি হবে না, বরং উনার জন‌প্রিয়তা আরও বাড়বে। উনি পরবর্তী নির্বাচ‌নে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।’

মওদুদ পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরদ্ধে দুর্নীতির মামলার উদাহরণও দেন আদালতে। বলেন, ‘‌বিরোধীদলের রাজনী‌তিকে নি‌শ্চিহ্ন করার জন্য মামলা করা হয়।’

পরে মওদুদ উদাহরণ দেন সাউথ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার। বলেন, ‘বিশ্বের বহু নেতার বিরু‌দ্ধে মামলা করা হয়েছে।’

মওদুদ উদাহরণ হিসেবে বিশ্ব বরেণ্য এই নেতাদের পাশাপাশি তার কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, ‘মামলা আমার বিরুদ্ধেও হয়েছে।’

‘বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই নেত্রী‌কে মাইনাস করার জন্য এসব মামলা দেওয়া হয়ে‌ছিল।’

তত্ত্ববধায়ক সরকা‌রের সময় নিজের এক‌টি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমায় জেলখানায় নেওয়া হয়েছিল, সেখানে তো আর ঘুম ধ‌রে না,‌ এক‌দিন রাতে আমার চোখ বেঁধে ফেলা হলো, বলা হলো বড় সাহেবের কা‌ছে আপনা‌কে যেতে হবে, এরপর সেখানে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা আমাকে জানাল , দুই নেত্রীকে বিদেশে পা‌ঠিয়ে দেয়া হবে।’

‘আমি জানতে চাইলাম তারা যেতে না‌ চাইলে কী করবেন। তখন তারা বলল, তাহলে তা‌দের বিরু‌দ্ধে মামলা করা হবে। বিদেশ যেতে একজন রাজি হলেন, অন্যজন হলেন না।’

এ সময় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি আইনানুগ হয়নি দাবি করে এটি প্রথম দিনেই খারিজ করে দেয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মওদুদ বলেন, শাসক দলের দ্বারা বিরোধী রাজনীতিকরা সব সময় নির্যাতিত হয়েছে। নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে শুরু করে আমরাও জেল খেটেছি। খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠাতে পারবেন কিন্তু এতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে যাবে না। বরং আমি বলতে পারি- খালেদা জিয়াই হচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া।

এর পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি ৯ম দিনের মতো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। ওই দিন যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাতেও যুক্তি উপস্থাপনের জন্য একই দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এ দিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

এর পর ২০, ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩ , ৪, ১০ ও ১১ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্ত উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় প্রথম মামলাটি করা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুদক।