ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু

রোহিঙ্গা নিধনের কথা স্বীকার মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কথিত সন্ত্রাস দমনের নামে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন ও হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে বুধবার এক বিবৃতিতে এই স্বীকারোক্তি এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনী নির্যাতনের কথা স্বীকার করলো। এতদিন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমন কি সেনা তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মিয়ানমারের বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ করেনি।

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক দেয়া বিবৃতি বলা হয়, কথিত সন্ত্রাস দমন অভিযানে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও সেনা সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে একযোগে মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা, পরে চার মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ ও আন্তজার্তিক সম্প্রদায়। অভিযানে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে। হিউম্যান রাটস ওয়াচ যার সচিত্র প্রতিবেদনও দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্যরা বলেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালায়, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ ব্যাপক হারে ধর্ষণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে শপিংমলে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু

রোহিঙ্গা নিধনের কথা স্বীকার মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

আপডেট সময় ০১:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কথিত সন্ত্রাস দমনের নামে রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন ও হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে বুধবার এক বিবৃতিতে এই স্বীকারোক্তি এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনী নির্যাতনের কথা স্বীকার করলো। এতদিন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এমন কি সেনা তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মিয়ানমারের বাহিনী হত্যা, ধর্ষণ করেনি।

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক দেয়া বিবৃতি বলা হয়, কথিত সন্ত্রাস দমন অভিযানে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও সেনা সদস্যরা ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

গত ২৪ অগাস্ট রাতে একযোগে মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা, পরে চার মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ ও আন্তজার্তিক সম্প্রদায়। অভিযানে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শত শত রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে। হিউম্যান রাটস ওয়াচ যার সচিত্র প্রতিবেদনও দিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্যরা বলেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালায়, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ ব্যাপক হারে ধর্ষণ।