ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার আবেদন: খালেদা জিয়া

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাল-জালিয়াতি করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার নথিপত্র সৃষ্টি, মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগ এনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদসহ ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।

তার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী বুধবার রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ আবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন- মামলার চার্জশিটভুক্ত সাক্ষী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাব বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মাজেদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর সাবেক পিএস সৈয়দ জগলুল পাশা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক তৌহিদুর রহমান খান,প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাব বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মোস্তফা কামলা মজুমদার ও আব্দুল বারেক ভূইয়া।

আদালত খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া আবেদনটি গ্রহণ করলেও এ নিয়ে কোনো আদেশ দেননি। এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। তবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হলে আদালত বৃহস্পতিবার পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। ওই দিন একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

দুই মামলায় হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটের দিকে আদালতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। এরপর দুপুর ১২টার দিকে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করলে অনুমতি নিয়ে তিনি নির্ধারিত আসন (একটি চেয়ার ও একটি টেবিল) গ্রহণ করেন।

শুরুতেই বিচারক বলেন, একটি কথা আমি সবার আগে বলতে চাই- আমাদের কোর্ট টাইম সকাল সাড়ে ৯টায়। দুপুর ১২টায় কোর্ট চলতে পারে না। এখন ১২টা বাজে, এভাবে সময় নষ্ট করে কোর্ট কীভাবে চলবে? আমরা (বিচারক) আপনাদের (খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের) সম্মান করি বলে এভাবে যদি প্রতিদিনই দেরি করতেই থাকেন, তাহলে কোর্ট কীভাবে চলবে?

বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা লইয়াররা এখানে আছেন। আপনারা কি টাইম-টেবিল মেনটেইন করবেন না! আপনি (আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী) ১০টায় আসছেন, আমিও (বিচারক) ১০টায় এসেছি। তাহলে আমরা কিভাবে এলাম? আমি আগামীকাল থেকে সাড়ে ১০টায় বসব। আপনা থাকুন আর নাই থাকুন, আমি আমার মতো করে কোর্ট চালাব।

এভাবে চলতে পারে না। আপনারা যখন আসেন তখনই এজলাসে উঠি। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কিছুটা উত্তেজিত হয়ে যান। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনাদের বক্তব্য আমি শুনব, ঠাণ্ডা মাথায় বলেন। এরপর আইনজীবীরা আদালতে হইচই করলে বিচারক বলেন, আপনারা এভাবে করতে থাকলে আমি আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করে চলে যাব।

এরপর সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান আদালতকে বলেন, তিনটি কথার ওপর এই মামলা। প্রথম কথা- ম্যাডাম জিয়া (খালেদা জিয়া) অ্যাকাউন্ট খোলেন, দ্বিতীয় কথা- ম্যাডাম জিয়া টাকা উত্তোলন করেন, তৃতীয় কথা- ম্যাডাম জিয়া ডিস্ট্রিবিউশন করেন। আর অতিরিক্ত একটা কথা- তিনি ট্রাস্ট গঠন করেন।

এই চার কথার ওপর করা মামলায় কেন আমাদের এত দিন বলতে হচ্ছে? আমরা বলেছি, সবকিছুই জাল-জালিয়াতি করে করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়ে যুক্তিতর্ক তুলে ধরতে। যতক্ষণ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হয়, ততক্ষণ অনুগ্রহ করে আমাদের কথা শুনবেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে তিনি বলেন, দুদক কর্মকর্তা নূর আহমেদ ২০০৮ সালের ১১ জুন ‘অনুসন্ধানের নিদিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের সংশ্লিষ্ট নথি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যসংবলিত কাগজপত্র সরবরাহ না করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে মতামত প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, সবার আগে এই মামলায় টাকার উৎস নির্ণয় করা জরুরি। বাংলাদেশে কুয়েত দূতাবাস থেকে যে পত্র দেয়া হয়েছে, তাতে কুয়েতের আমির জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে টাকাটা দিয়েছেন মর্মে বলা আছে।

এজে মোহাম্মদ আলী অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদসহ ৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১২ পৃষ্ঠার একটি লিখিত আবেদন করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতিরও নিবেদন জানান।

তিনি বলেন, জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জিয়া অরফানেজ মামলাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এদিন তহবিল নামীয় কোনো তহবিল খালেদা জিয়া খোলেননি। এ সময় তিনি কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে কথা বলতে গিয়ে কান্না করে ফেলেন। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে আদালত বিরতি দেন। বিরতি শেষে দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি আদালতে বলেন, প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হলো সন্দেহাতীতভাবে আসামির অভিযোগ প্রমাণিত করা। এক্ষেত্রে প্রসিকিউশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। হিসাব খোলার ফর্মে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর নেই। তিনি ওই অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশও দেননি। তিনি ব্যক্তিগত কিংবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। এরপর এ দিনের মতো ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ হলে আদালত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

এর আগে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন আবদুর রেজ্জাক খান। তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এদিন এজে মোহাম্মদ আলী তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। অপর আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছেন।

এরও আগে ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দুদক প্রসিকিউশন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার আবেদন: খালেদা জিয়া

আপডেট সময় ১০:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

জাল-জালিয়াতি করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার নথিপত্র সৃষ্টি, মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগ এনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদসহ ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।

তার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী বুধবার রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ আবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন- মামলার চার্জশিটভুক্ত সাক্ষী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাব বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মাজেদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর সাবেক পিএস সৈয়দ জগলুল পাশা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক তৌহিদুর রহমান খান,প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাব বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মোস্তফা কামলা মজুমদার ও আব্দুল বারেক ভূইয়া।

আদালত খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া আবেদনটি গ্রহণ করলেও এ নিয়ে কোনো আদেশ দেননি। এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। তবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হলে আদালত বৃহস্পতিবার পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। ওই দিন একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

দুই মামলায় হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটের দিকে আদালতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। এরপর দুপুর ১২টার দিকে বিচারক এজলাসে প্রবেশ করলে অনুমতি নিয়ে তিনি নির্ধারিত আসন (একটি চেয়ার ও একটি টেবিল) গ্রহণ করেন।

শুরুতেই বিচারক বলেন, একটি কথা আমি সবার আগে বলতে চাই- আমাদের কোর্ট টাইম সকাল সাড়ে ৯টায়। দুপুর ১২টায় কোর্ট চলতে পারে না। এখন ১২টা বাজে, এভাবে সময় নষ্ট করে কোর্ট কীভাবে চলবে? আমরা (বিচারক) আপনাদের (খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের) সম্মান করি বলে এভাবে যদি প্রতিদিনই দেরি করতেই থাকেন, তাহলে কোর্ট কীভাবে চলবে?

বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা লইয়াররা এখানে আছেন। আপনারা কি টাইম-টেবিল মেনটেইন করবেন না! আপনি (আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী) ১০টায় আসছেন, আমিও (বিচারক) ১০টায় এসেছি। তাহলে আমরা কিভাবে এলাম? আমি আগামীকাল থেকে সাড়ে ১০টায় বসব। আপনা থাকুন আর নাই থাকুন, আমি আমার মতো করে কোর্ট চালাব।

এভাবে চলতে পারে না। আপনারা যখন আসেন তখনই এজলাসে উঠি। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কিছুটা উত্তেজিত হয়ে যান। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনাদের বক্তব্য আমি শুনব, ঠাণ্ডা মাথায় বলেন। এরপর আইনজীবীরা আদালতে হইচই করলে বিচারক বলেন, আপনারা এভাবে করতে থাকলে আমি আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করে চলে যাব।

এরপর সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান আদালতকে বলেন, তিনটি কথার ওপর এই মামলা। প্রথম কথা- ম্যাডাম জিয়া (খালেদা জিয়া) অ্যাকাউন্ট খোলেন, দ্বিতীয় কথা- ম্যাডাম জিয়া টাকা উত্তোলন করেন, তৃতীয় কথা- ম্যাডাম জিয়া ডিস্ট্রিবিউশন করেন। আর অতিরিক্ত একটা কথা- তিনি ট্রাস্ট গঠন করেন।

এই চার কথার ওপর করা মামলায় কেন আমাদের এত দিন বলতে হচ্ছে? আমরা বলেছি, সবকিছুই জাল-জালিয়াতি করে করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়ে যুক্তিতর্ক তুলে ধরতে। যতক্ষণ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হয়, ততক্ষণ অনুগ্রহ করে আমাদের কথা শুনবেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে তিনি বলেন, দুদক কর্মকর্তা নূর আহমেদ ২০০৮ সালের ১১ জুন ‘অনুসন্ধানের নিদিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের সংশ্লিষ্ট নথি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যসংবলিত কাগজপত্র সরবরাহ না করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে মতামত প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, সবার আগে এই মামলায় টাকার উৎস নির্ণয় করা জরুরি। বাংলাদেশে কুয়েত দূতাবাস থেকে যে পত্র দেয়া হয়েছে, তাতে কুয়েতের আমির জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে টাকাটা দিয়েছেন মর্মে বলা আছে।

এজে মোহাম্মদ আলী অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর রশিদসহ ৬ সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১২ পৃষ্ঠার একটি লিখিত আবেদন করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে তিনি খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতিরও নিবেদন জানান।

তিনি বলেন, জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জিয়া অরফানেজ মামলাটি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এদিন তহবিল নামীয় কোনো তহবিল খালেদা জিয়া খোলেননি। এ সময় তিনি কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে কথা বলতে গিয়ে কান্না করে ফেলেন। দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে আদালত বিরতি দেন। বিরতি শেষে দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি আদালতে বলেন, প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হলো সন্দেহাতীতভাবে আসামির অভিযোগ প্রমাণিত করা। এক্ষেত্রে প্রসিকিউশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। হিসাব খোলার ফর্মে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর নেই। তিনি ওই অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশও দেননি। তিনি ব্যক্তিগত কিংবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। এরপর এ দিনের মতো ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ হলে আদালত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

এর আগে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন আবদুর রেজ্জাক খান। তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। এদিন এজে মোহাম্মদ আলী তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। অপর আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছেন।

এরও আগে ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দুদক প্রসিকিউশন।