ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

জলজট-যানজটে চরম ভোগান্তি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কসহ অলিগলি ডুবে গেছে। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতের পর থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুর, কাজীপাড়া, বাংলামোটর, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, বনশ্রী, রামপুরা, সদরঘাট, গুলিস্তান, কাকরাইল, বিজয় সরণি, বিজয়নগর, বংশাল, নয়াবাজারসহ সর্বত্র পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে।

আজ বুধবার সকালে আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ধারা আজ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কাল একটু কমতে পারে বৃষ্টি।সকাল থেকেই বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীতে গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়। অফিসগামী মানুষকে বৃষ্টিতে ভিজে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ ছাড়া রাস্তায় পানি ওঠায় জ্যাম ছিল চোখে পড়ার মতো। ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টার বেশি।

মিরপুরের বাসিন্দা সায়মন জানান, তিনি মতিঝিলের একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। থাকেন মিরপুর ১১ নম্বরে। বৃষ্টিতে অফিস যেতে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সকাল ৭টায় রওনা দিয়ে মতিঝিল পৌঁছেন বেলা ১১টায়।শনির আখড়ার বাসিন্দা মমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, দনিয়া প্রায় ডুবে গেছে। পানি ঠিকমতো ড্রেন দিয়ে নামতে পারছে না।শনির আখড়ার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ গাফফার হোসেন ইমন বলেন, বৃষ্টিতে অফিসে যেতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সকাল থেকে পরিবহনের সংকট ছিল। এ ছাড়া বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঢাকার নিম্ন আদালত সদরঘাটেও পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। বিভিন্ন মানুষকে রাস্তায় হাঁটুপানি ডিঙিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

বংশালের বাসিন্দা নায়না বলেন, ‘সকালে বাহির হয়েছি গুরুত্বপূর্ণ কাজে, কিন্তু রাস্তাঘাটে কোমর সমান পানি ওঠায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। রিকশা ভাড়া তিন গুণ দিয়েও গন্তব্যে পৌঁছা যাচ্ছে না। আজ সারা দিন বৃষ্টি হলে ঢাকা শহর ডুবে যাবে মনে হচ্ছে।’

মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন সিরাজুম মুনিরা। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কোনো গণপরিবহনে উঠতে না পেরে অগত্যা রিকশা নেন। ৮০-১০০ টাকার ভাড়া আজ তাঁকে গুনতে হয়েছে ১৬০ টাকা। পথজুড়েই শত শত মানুষকে একটি বাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখেছেন বলে জানালেন। পথে খামারবাড়িসহ বেশ কিছু স্থানে জলজটে পড়েছিলেন। বিশেষ করে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের পেছনের রাস্তায় রিকশার পাদানি অবধি ছিল পানি।

অন্যদিকে সচিবালয়েও পানি থইথই করছে বলে জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানরত গণমাধ্যমকর্মীরা। পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে দুপুরের দিকে যন্ত্রের সাহায্যে সেই পানি সরিয়ে নেওয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির

জলজট-যানজটে চরম ভোগান্তি

আপডেট সময় ০৩:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কসহ অলিগলি ডুবে গেছে। আর এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতের পর থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুর, কাজীপাড়া, বাংলামোটর, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, বনশ্রী, রামপুরা, সদরঘাট, গুলিস্তান, কাকরাইল, বিজয় সরণি, বিজয়নগর, বংশাল, নয়াবাজারসহ সর্বত্র পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে।

আজ বুধবার সকালে আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ধারা আজ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কাল একটু কমতে পারে বৃষ্টি।সকাল থেকেই বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীতে গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়। অফিসগামী মানুষকে বৃষ্টিতে ভিজে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এ ছাড়া রাস্তায় পানি ওঠায় জ্যাম ছিল চোখে পড়ার মতো। ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লেগেছে দেড় ঘণ্টার বেশি।

মিরপুরের বাসিন্দা সায়মন জানান, তিনি মতিঝিলের একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। থাকেন মিরপুর ১১ নম্বরে। বৃষ্টিতে অফিস যেতে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সকাল ৭টায় রওনা দিয়ে মতিঝিল পৌঁছেন বেলা ১১টায়।শনির আখড়ার বাসিন্দা মমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিতে শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, দনিয়া প্রায় ডুবে গেছে। পানি ঠিকমতো ড্রেন দিয়ে নামতে পারছে না।শনির আখড়ার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ গাফফার হোসেন ইমন বলেন, বৃষ্টিতে অফিসে যেতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সকাল থেকে পরিবহনের সংকট ছিল। এ ছাড়া বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঢাকার নিম্ন আদালত সদরঘাটেও পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। বিভিন্ন মানুষকে রাস্তায় হাঁটুপানি ডিঙিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

বংশালের বাসিন্দা নায়না বলেন, ‘সকালে বাহির হয়েছি গুরুত্বপূর্ণ কাজে, কিন্তু রাস্তাঘাটে কোমর সমান পানি ওঠায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। রিকশা ভাড়া তিন গুণ দিয়েও গন্তব্যে পৌঁছা যাচ্ছে না। আজ সারা দিন বৃষ্টি হলে ঢাকা শহর ডুবে যাবে মনে হচ্ছে।’

মিরপুরের শেওড়াপাড়া থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন সিরাজুম মুনিরা। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কোনো গণপরিবহনে উঠতে না পেরে অগত্যা রিকশা নেন। ৮০-১০০ টাকার ভাড়া আজ তাঁকে গুনতে হয়েছে ১৬০ টাকা। পথজুড়েই শত শত মানুষকে একটি বাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখেছেন বলে জানালেন। পথে খামারবাড়িসহ বেশ কিছু স্থানে জলজটে পড়েছিলেন। বিশেষ করে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের পেছনের রাস্তায় রিকশার পাদানি অবধি ছিল পানি।

অন্যদিকে সচিবালয়েও পানি থইথই করছে বলে জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানরত গণমাধ্যমকর্মীরা। পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে দুপুরের দিকে যন্ত্রের সাহায্যে সেই পানি সরিয়ে নেওয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ।