ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানব রচিত আইন এ বাংলায় চলতে দেওয়া হবে না: চরমোনাইর পীর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আগামী বছরের মধ্যে গোটা রাখাইন দখলের ঘোষণা আরাকান আর্মির অবরোধ ভাঙতে চাইলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ নতুন সাংবিধানিক সংকটে পড়বে:শিশির মনির সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে: মামুনুল হক খোলা চিঠিতে ‘বিদায়ের বার্তা’ দিলেন মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের নামে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হচ্ছে: সারোয়ার তুষার

বিআরটিসির বাসে উন্নত বিশ্বের আদলে চড়বে যাত্রীরা: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিআরটিসির নগর পরিবহনে বাসে উঠতে টিকিট কাটার পদ্ধতি পাল্টে যাচ্ছে। র‌্যাপিড পাস নামে প্রিপেইড একটি কার্ড সংগ্রহ করে সেটি পাঞ্চ করেই ভাড়া পরিশোধ করবেন যাত্রীরা। ধীরে ধীরে বিআরটিসির আন্তঃজেলা রুটেও এই সুবিধা এবং ই টিকেটিং চালুর ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে বসে এই র‌্যাপিড পাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে মতিঝিল এবং মতিঝিল থেকে নবীনগর রুটে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে। এখন সব ‍রুটেই চালু হলো তা। মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে র‌্যাপিট পাস নেবে, তারা যেন যথাযথভাবে সেবা পায়, সে দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখার জন্য বিআরটিসির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই পাস উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রীকে র‌্যাপিড পাসের রেপ্লিকা তুলে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর এটা সংগ্রহ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা সংগ্রহ করলাম ভালো হলো, যখন এখানে (প্রধানমন্ত্রী) থাকব না, তখন তো আর গাড়ি থাকবে না, বাসে চলতে হবে। এখানে বাসে চলব, আর গ্রামে ভ্যানে চলব।’

র‌্যাপিড পাস উদ্বোধনের সময় কমলাপুরে বিআরটিসির বাস ডিপোতে ছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন ভুঁইয়া।সেখান থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নানা প্রশ্নের জবাব দেন। সেখান থেকে কয়েকজন যাত্রীও তাদের প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

‘আমি সাধারণ যাত্রী, আমি যাব, র‌্যাপিড পাস সংগ্রহ করব কীভাবে?’- প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশ্নে বিআরটিসির চেয়ারম্যান জানান, প্রাথমিকভাবে ডাচ বাংলা ব্যাংকের আটটি বুথ থেকে এই পাস সংগ্রহ করা যাবে। তবে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পথে যাত্রীদের সুবিধাজনক এলাকা থেকেও র‌্যাপিড পাস নেয়া যাবে। আর প্রতিটি বাসেই কোথায় কোথায় পাস পাওয়া যাবে, সে তথ্য দেয়া থাকবে। আর বাসের পাশাপাশি এই তথ্য অন্যান্যভাবেও প্রচার করা যাবে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, এই র‌্যাপিড পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে উন্নত সেবা পাবে। আন্তঃজেলা ও সিটি সার্ভিসের সব ‍রুটে এই র‌্যাপিড পাস চালু হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা বাসে ই টিকিটিং চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।

বাসে থাকা তিন জন যাত্রীও এ সময় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। সাদিয়া নামে চাকরিজীরী জানান, তিনি উত্তরা থেকে মতিঝিল যাতায়াত করেন। এই পাস ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করছেন, টিকিট কিনতে হচ্ছে না। খিলক্ষেত থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত যাতায়াতকারী আরেক যাত্রী এই উদ্যোগ বিআরটিসি ছাড়াও সব পরিবহনে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটাই চাই, আপনাদের জীবন সুন্দর হোক, সহজ হোক, স্বচ্ছন্দে আপনারা যেন চলাচল করতে পারেন।’ হাসান শাহরিয়ার নামে আরেক যাত্রী চলাচল করেন উত্তরা থেকে শাহবাগ পর্যন্ত। তিনি বলেন, ‘টিকিট করার জন্য এখন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। অ্যাকুরেট ভাড়া কাটছে, চালক বা সহকারীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে না ‘

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা চলতে চাই। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।…বারবার পকেট থেকে টাকা করে করা, লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একটা টিকিট কেনা, তারপর বাসে উঠা .. এই সমস্যা যেন আর না হয়, মানুষ যেন দ্রুত বাসে উঠতে পারে, যেতে পারে।’

বিদেশে চলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিদেশে যখন চলেছি, তখন দেখেছি একটা কার্ড কিনে পাঞ্চ করেই বাসে উঠা যায়। ওখান থেকেই টাকাটা চলে যাচ্ছে, আমাকে টিকিটের জন্য লম্বা লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।’

‘এই চিন্তা করেই… র‌্যাপিড পাস হাতে থাকলে বাসে উঠতে গেলে আর টাকা বের করতে হবে না।’ ভবিষ্যতে এই ধরনের কার্ডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির মতো ইউটিলিটি বিল, সেতুতে টোল বা শপিং করা যাবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জানান অনলাইনে কেনাকাটা করলে পোস্ট অফিস পণ্য বাসায় পৌঁছে দেবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বেলুনের ভেতরেই চলছে নির্মাণকাজ, ধুলা-শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চীনের নতুন প্রযুক্তি

বিআরটিসির বাসে উন্নত বিশ্বের আদলে চড়বে যাত্রীরা: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিআরটিসির নগর পরিবহনে বাসে উঠতে টিকিট কাটার পদ্ধতি পাল্টে যাচ্ছে। র‌্যাপিড পাস নামে প্রিপেইড একটি কার্ড সংগ্রহ করে সেটি পাঞ্চ করেই ভাড়া পরিশোধ করবেন যাত্রীরা। ধীরে ধীরে বিআরটিসির আন্তঃজেলা রুটেও এই সুবিধা এবং ই টিকেটিং চালুর ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে বসে এই র‌্যাপিড পাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে মতিঝিল এবং মতিঝিল থেকে নবীনগর রুটে এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে। এখন সব ‍রুটেই চালু হলো তা। মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে র‌্যাপিট পাস নেবে, তারা যেন যথাযথভাবে সেবা পায়, সে দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখার জন্য বিআরটিসির কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই পাস উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রীকে র‌্যাপিড পাসের রেপ্লিকা তুলে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর এটা সংগ্রহ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা সংগ্রহ করলাম ভালো হলো, যখন এখানে (প্রধানমন্ত্রী) থাকব না, তখন তো আর গাড়ি থাকবে না, বাসে চলতে হবে। এখানে বাসে চলব, আর গ্রামে ভ্যানে চলব।’

র‌্যাপিড পাস উদ্বোধনের সময় কমলাপুরে বিআরটিসির বাস ডিপোতে ছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন ভুঁইয়া।সেখান থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নানা প্রশ্নের জবাব দেন। সেখান থেকে কয়েকজন যাত্রীও তাদের প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

‘আমি সাধারণ যাত্রী, আমি যাব, র‌্যাপিড পাস সংগ্রহ করব কীভাবে?’- প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রশ্নে বিআরটিসির চেয়ারম্যান জানান, প্রাথমিকভাবে ডাচ বাংলা ব্যাংকের আটটি বুথ থেকে এই পাস সংগ্রহ করা যাবে। তবে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পথে যাত্রীদের সুবিধাজনক এলাকা থেকেও র‌্যাপিড পাস নেয়া যাবে। আর প্রতিটি বাসেই কোথায় কোথায় পাস পাওয়া যাবে, সে তথ্য দেয়া থাকবে। আর বাসের পাশাপাশি এই তথ্য অন্যান্যভাবেও প্রচার করা যাবে।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, এই র‌্যাপিড পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে উন্নত সেবা পাবে। আন্তঃজেলা ও সিটি সার্ভিসের সব ‍রুটে এই র‌্যাপিড পাস চালু হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা বাসে ই টিকিটিং চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।

বাসে থাকা তিন জন যাত্রীও এ সময় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। সাদিয়া নামে চাকরিজীরী জানান, তিনি উত্তরা থেকে মতিঝিল যাতায়াত করেন। এই পাস ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করছেন, টিকিট কিনতে হচ্ছে না। খিলক্ষেত থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত যাতায়াতকারী আরেক যাত্রী এই উদ্যোগ বিআরটিসি ছাড়াও সব পরিবহনে ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটাই চাই, আপনাদের জীবন সুন্দর হোক, সহজ হোক, স্বচ্ছন্দে আপনারা যেন চলাচল করতে পারেন।’ হাসান শাহরিয়ার নামে আরেক যাত্রী চলাচল করেন উত্তরা থেকে শাহবাগ পর্যন্ত। তিনি বলেন, ‘টিকিট করার জন্য এখন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। অ্যাকুরেট ভাড়া কাটছে, চালক বা সহকারীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে না ‘

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা চলতে চাই। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।…বারবার পকেট থেকে টাকা করে করা, লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একটা টিকিট কেনা, তারপর বাসে উঠা .. এই সমস্যা যেন আর না হয়, মানুষ যেন দ্রুত বাসে উঠতে পারে, যেতে পারে।’

বিদেশে চলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বিদেশে যখন চলেছি, তখন দেখেছি একটা কার্ড কিনে পাঞ্চ করেই বাসে উঠা যায়। ওখান থেকেই টাকাটা চলে যাচ্ছে, আমাকে টিকিটের জন্য লম্বা লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।’

‘এই চিন্তা করেই… র‌্যাপিড পাস হাতে থাকলে বাসে উঠতে গেলে আর টাকা বের করতে হবে না।’ ভবিষ্যতে এই ধরনের কার্ডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির মতো ইউটিলিটি বিল, সেতুতে টোল বা শপিং করা যাবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জানান অনলাইনে কেনাকাটা করলে পোস্ট অফিস পণ্য বাসায় পৌঁছে দেবে।