অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বিচার বিভাগ একদিন তা অনুধাবন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
তিনি বলেন, ‘সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সংবিধানের যেসব ধারা পরিবর্তিত হয়েছিল, আমরা চাই সেগুলো পুনঃস্থাপিত হোক। আমি মনে করি, এটা হওয়ার আগে আমাদের সাংবিধানিক সংগ্রাম শেষ হবে না। এখন হয়তো আদালত ভিন্ন রায় দিয়েছেন। তবে আমি বিশ্বাস করি কোনো না কোনো দিন হয়তো আমাদের এই আদালত বুঝবে আমাদের মূল বিষয়গুলো পুনঃস্থাপিত হওয়া দরকার।’
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। সকালে বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত ‘পিঠা উৎসবে’ প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
মাহবুবে আলম আরও বলেন, ‘আমরা সংবিধানের মূল প্রভিশনে ফিরে যাব-সেটার সামনে বিচার বিভাগ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। বিএনপির আইনজীবীদের সমস্যাটা হচ্ছে সাইকোলজিক্যাল বা মনস্তাত্ত্বিক। যেহেতু জিয়াউর রহমানের তৈরি করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বাতিল করে আমরা বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে চাই, এটাই হলো তাদের মানসিক সমস্যা।’
‘সরকার বিচার বিভাগকে নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত করতে চায়’ সরকার বিচার বিভাগকে নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ড এবং ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ আবেদনের ৯৪টি পয়েন্ট (গ্রাউন্ড) দেখে মনে হচ্ছে তারা পুরো বিচার বিভাগকে নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত করতে চায়। তারা যেভাবে চায় সেভাবেই আদালতকে রায় দিতে হবে।’
সোমবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি। জয়নুল আবেদীন দাবি করেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে বিদায় করে অন্যান্য বিচারপতিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগ হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। এটা স্বীকৃত যে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবেন। সে আইন সংবিধান মোতাবেক হয়েছে কি-না এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কি-না এবং কোন দলের বা ব্যক্তির স্বার্থে কি-না, তা দেখার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। বিচার বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে সে দায়িত্বই পালন করেছেন।’
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘অতীতে বহুবার বেআইনি সংশোধনীর বিরুদ্ধে অনেক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এবং আদেশের বিরুদ্ধে কোনও সরকার সংক্ষুব্ধ হয়ে রিভিউ আবেদন করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। একটি রায়ের মধ্যে সরকারের মতে ২/১একটি পর্যবেক্ষণ অপ্রাসঙ্গিক থাকতেই পারে। আমাদের মনে হচ্ছে, এই সরকার বিচার বিভাগকে পূর্ণনিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত সুকৌশলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমেই নিতে চাচ্ছেন। যে কারণে, এই রায়ের পরে তারা বিভিন্ন রকম অহেতুক ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য প্রদান করে রায়টিকে বিতর্কিত করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের এ সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘যে কোন রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ কেউ রিভিউ আবেদন দায়ের করতে পারে। এটা সাংবিধানিক অধিকার।’
তিনি আরও বলেন,রিভিউ আবেদন বিষয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সুপ্রিম কোর্ট সমিতি ব্যবহার করে সংবাদ সম্মেলন করা অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্খিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















