ঢাকা ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

এতদিন একটি অন্ধকার কক্ষে ছিলাম: সিজার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৪৪ দিন পরে ফিরে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এতদিন তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়। তিনি কোনো আলো দেখতে পাননি। অপহরণকারীরা তার কাছে টাকা চাইত বলেও জানান তিনি। তবে কারা কী কারণে তাকে অপহরণ করেছিল এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

শুক্রবার সকালে বনশ্রীর বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে বাসায় ফিরে আসেন। তার বাবা মোতাহার হোসেন জানান, রাতে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে তার কাছে ফোন আসে। সিজার নিজেই কথা বলেন। সিজার জানান, একটি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে তিনি আসছেন, কেউ যেন নিচে নেমে ভাড়া পরিশোধ করেন। পরে স্বজনরা বাসার নিচ থেকে তাকে নিয়ে আসেন।

কীভাবে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল এর বর্ণনা দিয়ে সিজার বলেন, আমি ঘটনার দিন ইউএনডিপি’র একটি প্রোগ্রাম শেষে বাসায় ফিরছিলাম। যতটুকু মনে পড়ে আমি রোকেয়া সরণির দিকে উবারের একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম। এসময় আমি আমার ফোনটি ব্রাউজ করছিলাম।

ওইসময়ে একজন আমার গাড়িটি থামায় এবং বলে আমার গাড়িটি চোরাই গাড়ি। তুমি নামো। এরপর আমি নেমে যাই। নামার পর কে যেন পেছন দিক থেকে আমার চোখে মলম লাগিয়ে দেয়, কিছু একটা দিয়ে পেছন দিক থেকে আমার মুখে চেপে ধরে। এরপর আমি সেন্সলেস হয়ে যাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, পরদিন আমি যখন জ্ঞান ফিরে পাই তখন উঠে দেখি আমার হাত পেছন দিক থেকে বাঁধা। ময়লা তোষক ও জানালা বাইরে থেকে সিলগালা করে রাখা। ওই সময়ে শুনছিলাম চার পাঁচজন পাশের রুম থেকে কথা বলছিল। সেখানেই ছিলাম, দিনের আলো দেখতে পাইনি। অনেকদিন পর দিনের আলো দেখছি।

কীভাবে ছাড়া পেলেন এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল রাতে হাত বাঁধা অবস্থায় আমাকে এয়ারপোর্ট রোডে ফেলে রেখে যায়। আমাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে বলে, পেছনে তাকাবি না। আমি একটা সিএনজি নিয়ে বাড়ির যাই। রাস্তায় সিএনজিওয়ালার মোবাইল দিয়ে বাবাকে ফোন দিই। বাবা সিএনজি ভাড়া দিয়ে দেন।

৭ নভেম্বর সকালে রামপুরার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বের হন সিজার। পরে আর বাসায় ফেরেননি। এ ঘটনায় সিজারের বাবা মোতাহার হোসেন খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে ৭০ দিন পর ফিরে আসেন সাংবাদিক উৎপল দাস। তাকেও একইভাবে অপহরণ করা হয় এবং নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় চোখ বেঁধে রেখে যায়। পরে উৎপল যে বর্ণনা দেন তাতেও তিনি জানান, তাকেও একই কায়েদায় অপহরণ করে একটি অন্ধকার কক্ষে এতদিন আটকে রাখা হয়। সিজার ও উৎপল উভয়ের বর্ণনা প্রায় একই ধরনের।

উৎপল ও সিজার ছাড়াও গত এক বছরে ঢাকায় ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মিলিয়ে ১০ জনেরও বেশি নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবশেষ ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিদেশ থেকে আসা মেয়েকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে ধানমন্ডির বাসা বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মারুফ জামান। তারও কোনো খোঁজ মিলছে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

এতদিন একটি অন্ধকার কক্ষে ছিলাম: সিজার

আপডেট সময় ০১:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৪৪ দিন পরে ফিরে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। এতদিন তাকে একটি অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়। তিনি কোনো আলো দেখতে পাননি। অপহরণকারীরা তার কাছে টাকা চাইত বলেও জানান তিনি। তবে কারা কী কারণে তাকে অপহরণ করেছিল এ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

শুক্রবার সকালে বনশ্রীর বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে বাসায় ফিরে আসেন। তার বাবা মোতাহার হোসেন জানান, রাতে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে তার কাছে ফোন আসে। সিজার নিজেই কথা বলেন। সিজার জানান, একটি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে তিনি আসছেন, কেউ যেন নিচে নেমে ভাড়া পরিশোধ করেন। পরে স্বজনরা বাসার নিচ থেকে তাকে নিয়ে আসেন।

কীভাবে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল এর বর্ণনা দিয়ে সিজার বলেন, আমি ঘটনার দিন ইউএনডিপি’র একটি প্রোগ্রাম শেষে বাসায় ফিরছিলাম। যতটুকু মনে পড়ে আমি রোকেয়া সরণির দিকে উবারের একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম। এসময় আমি আমার ফোনটি ব্রাউজ করছিলাম।

ওইসময়ে একজন আমার গাড়িটি থামায় এবং বলে আমার গাড়িটি চোরাই গাড়ি। তুমি নামো। এরপর আমি নেমে যাই। নামার পর কে যেন পেছন দিক থেকে আমার চোখে মলম লাগিয়ে দেয়, কিছু একটা দিয়ে পেছন দিক থেকে আমার মুখে চেপে ধরে। এরপর আমি সেন্সলেস হয়ে যাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, পরদিন আমি যখন জ্ঞান ফিরে পাই তখন উঠে দেখি আমার হাত পেছন দিক থেকে বাঁধা। ময়লা তোষক ও জানালা বাইরে থেকে সিলগালা করে রাখা। ওই সময়ে শুনছিলাম চার পাঁচজন পাশের রুম থেকে কথা বলছিল। সেখানেই ছিলাম, দিনের আলো দেখতে পাইনি। অনেকদিন পর দিনের আলো দেখছি।

কীভাবে ছাড়া পেলেন এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল রাতে হাত বাঁধা অবস্থায় আমাকে এয়ারপোর্ট রোডে ফেলে রেখে যায়। আমাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে বলে, পেছনে তাকাবি না। আমি একটা সিএনজি নিয়ে বাড়ির যাই। রাস্তায় সিএনজিওয়ালার মোবাইল দিয়ে বাবাকে ফোন দিই। বাবা সিএনজি ভাড়া দিয়ে দেন।

৭ নভেম্বর সকালে রামপুরার বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বের হন সিজার। পরে আর বাসায় ফেরেননি। এ ঘটনায় সিজারের বাবা মোতাহার হোসেন খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এর আগে ৭০ দিন পর ফিরে আসেন সাংবাদিক উৎপল দাস। তাকেও একইভাবে অপহরণ করা হয় এবং নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় চোখ বেঁধে রেখে যায়। পরে উৎপল যে বর্ণনা দেন তাতেও তিনি জানান, তাকেও একই কায়েদায় অপহরণ করে একটি অন্ধকার কক্ষে এতদিন আটকে রাখা হয়। সিজার ও উৎপল উভয়ের বর্ণনা প্রায় একই ধরনের।

উৎপল ও সিজার ছাড়াও গত এক বছরে ঢাকায় ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মিলিয়ে ১০ জনেরও বেশি নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবশেষ ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিদেশ থেকে আসা মেয়েকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে ধানমন্ডির বাসা বের হয়ে নিখোঁজ হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও কূটনীতিক মারুফ জামান। তারও কোনো খোঁজ মিলছে না।