ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

তত্ত্বাবধায়ক আমলে ক্ষতিপূরণে খালেদা কালো টাকা সাদা করেছিলেন: হাছান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে আইনি নোটিশ দিয়েছেন তাকে পাত্তা দিচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তারা বলছেন, মামলার হুমকি দিয়ে বিএনপির কোনো লাভ নেই। সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার নামে বিপুল সম্পদ এবং তার ছেলেদের বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এই বক্তব্যকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এসব উকিল নোটিশকে বঙ্গবন্ধু কন্যা ভয় পান না। এগুলো দিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা যাবে না। আদালতেই এর সমাধান হবে।’

গত ৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে তিনি দাবি করেন, সৌদি আরবে খালেদা পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক এবং সে দেশের সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তা ধরাও পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওর ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করায় গণমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার পরিবারকে নিয়ে এই ধরনের ভিডিও প্রচার হলে গণমাধ্যমগুলো কী করতো সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

এই সংবাদ সম্মেলনের পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। নইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন তিনি।

এর পরদিন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিদেশে খালেদা জিয়ার সম্পদের বিষয়ে তথ্য প্রমাণ আছে বলেই প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনের ১২ দিন পর মঙ্গলবার সকালে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়। এতে ৩০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে সব জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন সংবাদপত্র এবং সামাজিক মাধ্যমে আউটলেটে যথাযথভাবে প্রকাশ ও প্রচার করার আহ্বান জানানো হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘বিএনপি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। তাঁর পুত্রদ্বয়ের দুর্নীতির বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সাক্ষ্য দিয়েছিল এবং তাদের দুর্নীতির টাকা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরতও আনা হয়েছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে খালেদা জিয়া কালো টাকা সাদা করেছেন জানিয়ে হাছান বলেন, ‘এর মধ্যেমে তো তিনি (খালেদা জিয়া) প্রকারান্তরে নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি দুর্নীতিবাজ।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) পাবলিক অফিসে বসে ক্ষমতার অপব্যহার করে দেশ ও জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন ও পাচার করেন। একজন পাবলিক ফিগারের অনৈতিক কাজ সম্পর্কে বলা যাবে না এমন তত্ত্ব তিনি কোথায় পেলেন?’।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

তত্ত্বাবধায়ক আমলে ক্ষতিপূরণে খালেদা কালো টাকা সাদা করেছিলেন: হাছান

আপডেট সময় ০৯:০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে আইনি নোটিশ দিয়েছেন তাকে পাত্তা দিচ্ছেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। তারা বলছেন, মামলার হুমকি দিয়ে বিএনপির কোনো লাভ নেই। সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার নামে বিপুল সম্পদ এবং তার ছেলেদের বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এই বক্তব্যকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘এসব উকিল নোটিশকে বঙ্গবন্ধু কন্যা ভয় পান না। এগুলো দিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ করা যাবে না। আদালতেই এর সমাধান হবে।’

গত ৭ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে তিনি দাবি করেন, সৌদি আরবে খালেদা পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক এবং সে দেশের সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তা ধরাও পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওর ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ না করায় গণমাধ্যমের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার পরিবারকে নিয়ে এই ধরনের ভিডিও প্রচার হলে গণমাধ্যমগুলো কী করতো সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

এই সংবাদ সম্মেলনের পরদিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। নইলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন তিনি।

এর পরদিন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিদেশে খালেদা জিয়ার সম্পদের বিষয়ে তথ্য প্রমাণ আছে বলেই প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনের ১২ দিন পর মঙ্গলবার সকালে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়। এতে ৩০ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে সব জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন সংবাদপত্র এবং সামাজিক মাধ্যমে আউটলেটে যথাযথভাবে প্রকাশ ও প্রচার করার আহ্বান জানানো হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘বিএনপি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। তাঁর পুত্রদ্বয়ের দুর্নীতির বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সাক্ষ্য দিয়েছিল এবং তাদের দুর্নীতির টাকা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরতও আনা হয়েছে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ক্ষতিপূরণ দিয়ে খালেদা জিয়া কালো টাকা সাদা করেছেন জানিয়ে হাছান বলেন, ‘এর মধ্যেমে তো তিনি (খালেদা জিয়া) প্রকারান্তরে নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি দুর্নীতিবাজ।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) পাবলিক অফিসে বসে ক্ষমতার অপব্যহার করে দেশ ও জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন ও পাচার করেন। একজন পাবলিক ফিগারের অনৈতিক কাজ সম্পর্কে বলা যাবে না এমন তত্ত্ব তিনি কোথায় পেলেন?’।