ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

অপপ্রচারে কী অর্জন করতে চান: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৌদি আরবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিপুল সম্পদ ধরা পড়ার তথ্য ছড়িয়ে সরকার কী অর্জন করতে চায় সে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির ১০ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ প্রশ্ন রাখেন বিএনপি নেতা।

বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের মধ্যপ্রাচ্যে অর্থ পাচারের যে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তুলেছেন তাকে ভিত্তিহীন দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করে, অপপ্রচার চালিয়ে কী অর্জন করতে চান? এই ধরণের কু রাজনীতি করে কী অর্জন করতে চান?

গত কয়েকদিন ধরে কানাডাভিত্তিক টেলিভিশনের প্রোগ্রাম দ্য ইন্টারন্যাশনালের নামে একটি ভিডিও ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে দাবি করা হচ্ছে সৌদি আরব, কাতারসহ ১২ দেশে খালেদা জিয়া পরিবারের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। খালেদা জিয়া নিজে সৌদি আরবে একটি শপিং মল এবং একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন এবং কাতারে আরও একটি বাণিজ্যিক ভবনের মালিক তার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।

এই ভিডিওতে থাকা তথ্য দেশের দুটি টেলিভিশন এবং দুটি পত্রিকা ছাড়া মূলধারার কোনো গণমাধ্যম প্রচার করেনি। গত বৃহস্পতিবার গণভবনে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ জন্য গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই অর্থপাচারের বিচার হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেখানে সাংবাদিকদের একহাত নিলেন। খুব বকাঝকা করলেন। কী কারণে? বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের লোকজন নাকি সৌদি আরবসহ আরো কয়েকটি দেশে ১২ বিলিয়ন সম্পদ আছে এমন খবর বেরুল কিন্তু আপনারা তা ছাপলেন না কেন? বলেছেন, বিএনপি কি রসগোল্লা মুখে দিয়ে দিছে আপনাদের, নাকি শপিংমলের শপিং কার্ড দিয়েছে?’

কিন্তু আমরা খবর শুনে সৌদি আরবে যোগাযোগ করেছি। যে এমন খবরের কোনো সত্যতা বা ভিত্তি আছে কি না? কিন্তু ভিত্তি নেই।’ একই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে আনতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়া বা আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেন। তার এই অবস্থানেরও সমালোচনা করেছেন ফখরুল।

‘আপনারা আবারও একা একা নির্বাচন করতে চান। বিএনপি নির্বাচনে আসলে নাকি খবর হয়ে যাবে। তাই বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। সেজন্য যা যা করার তাই করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ ৫ জানুয়ারির মতো আর নির্বাচন হতে দেবে না। সে নির্বাচন আপনার অধীনে নয়, নির্বাচন হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘মানুষকে আন্ডারস্টিমেট করবেন না। মানুষ সবকিছু মেনে নেবে তা কিন্তু না। এ দেশের মানুষই ৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটিয়েছিল আন্দোলনের মাধ্যমে। তাই মানুষকে আন্ডারস্টিমেট করবেন না।’

গণতন্ত্রের জন্য আওয়ামী লীগ একসময় ত্যাগ স্বীকার করেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘কিন্তু দুর্ভাগ্য এই দলটি যখন ক্ষমতায় আসে তখনই ভিন্ন চেহারা প্রকাশ পায়। তা হলো ফ্যাসিস্ট চেহারা। আওয়ামী লীগই সব রাজনৈতিক দল বন্ধ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। চারটি পত্রিকা রেখে বাকিসব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল।’

শুধু বিএনপি বা ২০ দল নয়, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

৯৭দিন ধরে নিখোঁজ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম আমিনুর রহমানের সন্ধান দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘একটি দলের সাধারণ সম্পাদক এতদিন ধরে নিখোঁজ। কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হল। কয়েকদিন আগে একজন সাবেক রাষ্ট্রদূতকে গাড়ি থেকে তুলে নেয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক যেই এদের (সরকার) বিরোধীতা করবে, তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে বাধা ‍সৃষ্টি করবে তাদেরই গুম করবে।’

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি অধ্যাপক রেহেনা প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জাতীয়তাবাদী মুত্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. ইকবাল হাসান, অ্যাডভোকেট আজাদ মাহমুদ, শাহজাদা আলম, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অপপ্রচারে কী অর্জন করতে চান: ফখরুল

আপডেট সময় ১২:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সৌদি আরবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিপুল সম্পদ ধরা পড়ার তথ্য ছড়িয়ে সরকার কী অর্জন করতে চায় সে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির ১০ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ প্রশ্ন রাখেন বিএনপি নেতা।

বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের মধ্যপ্রাচ্যে অর্থ পাচারের যে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তুলেছেন তাকে ভিত্তিহীন দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে বিভ্রান্ত করে, অপপ্রচার চালিয়ে কী অর্জন করতে চান? এই ধরণের কু রাজনীতি করে কী অর্জন করতে চান?

গত কয়েকদিন ধরে কানাডাভিত্তিক টেলিভিশনের প্রোগ্রাম দ্য ইন্টারন্যাশনালের নামে একটি ভিডিও ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে দাবি করা হচ্ছে সৌদি আরব, কাতারসহ ১২ দেশে খালেদা জিয়া পরিবারের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে। খালেদা জিয়া নিজে সৌদি আরবে একটি শপিং মল এবং একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন এবং কাতারে আরও একটি বাণিজ্যিক ভবনের মালিক তার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।

এই ভিডিওতে থাকা তথ্য দেশের দুটি টেলিভিশন এবং দুটি পত্রিকা ছাড়া মূলধারার কোনো গণমাধ্যম প্রচার করেনি। গত বৃহস্পতিবার গণভবনে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ জন্য গণমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই অর্থপাচারের বিচার হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেখানে সাংবাদিকদের একহাত নিলেন। খুব বকাঝকা করলেন। কী কারণে? বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের লোকজন নাকি সৌদি আরবসহ আরো কয়েকটি দেশে ১২ বিলিয়ন সম্পদ আছে এমন খবর বেরুল কিন্তু আপনারা তা ছাপলেন না কেন? বলেছেন, বিএনপি কি রসগোল্লা মুখে দিয়ে দিছে আপনাদের, নাকি শপিংমলের শপিং কার্ড দিয়েছে?’

কিন্তু আমরা খবর শুনে সৌদি আরবে যোগাযোগ করেছি। যে এমন খবরের কোনো সত্যতা বা ভিত্তি আছে কি না? কিন্তু ভিত্তি নেই।’ একই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে আনতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়া বা আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করেন। তার এই অবস্থানেরও সমালোচনা করেছেন ফখরুল।

‘আপনারা আবারও একা একা নির্বাচন করতে চান। বিএনপি নির্বাচনে আসলে নাকি খবর হয়ে যাবে। তাই বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। সেজন্য যা যা করার তাই করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ ৫ জানুয়ারির মতো আর নির্বাচন হতে দেবে না। সে নির্বাচন আপনার অধীনে নয়, নির্বাচন হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘মানুষকে আন্ডারস্টিমেট করবেন না। মানুষ সবকিছু মেনে নেবে তা কিন্তু না। এ দেশের মানুষই ৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটিয়েছিল আন্দোলনের মাধ্যমে। তাই মানুষকে আন্ডারস্টিমেট করবেন না।’

গণতন্ত্রের জন্য আওয়ামী লীগ একসময় ত্যাগ স্বীকার করেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘কিন্তু দুর্ভাগ্য এই দলটি যখন ক্ষমতায় আসে তখনই ভিন্ন চেহারা প্রকাশ পায়। তা হলো ফ্যাসিস্ট চেহারা। আওয়ামী লীগই সব রাজনৈতিক দল বন্ধ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। চারটি পত্রিকা রেখে বাকিসব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল।’

শুধু বিএনপি বা ২০ দল নয়, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

৯৭দিন ধরে নিখোঁজ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম আমিনুর রহমানের সন্ধান দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘একটি দলের সাধারণ সম্পাদক এতদিন ধরে নিখোঁজ। কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হল। কয়েকদিন আগে একজন সাবেক রাষ্ট্রদূতকে গাড়ি থেকে তুলে নেয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক যেই এদের (সরকার) বিরোধীতা করবে, তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে বাধা ‍সৃষ্টি করবে তাদেরই গুম করবে।’

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি অধ্যাপক রেহেনা প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জাতীয়তাবাদী মুত্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. ইকবাল হাসান, অ্যাডভোকেট আজাদ মাহমুদ, শাহজাদা আলম, মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।