ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, সংসদে জানালেন স্পিকার তারেক রহমানের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ গত অর্থবছরে দেশে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী সাইপ্রাসে রায়পুরার শাহরিয়ারকে হত্যা, বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতার নিষিদ্ধ সংগঠনকে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না : মীর হেলাল ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ‘সৌর বিপ্লব’ থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে : সিপিডি ৫-৭ খাতেই বদলে যেতে পারে রপ্তানি অর্থনীতি: বাণিজ্যমন্ত্রী স্থায়ীভাবে বন্ধ ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং, ১৮০০ শ্রমিকের মাঝে উদ্বেগ-হতাশা অধিবেশন চলাকালে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোরালো নির্দেশ স্পিকারের

শেষবারের মতো নিজ বাসায় মেয়র আনিসুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ শেষবারের মতো তাঁর বাসায় নেয়া হয়েছে। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে তাঁর মরদেহ বহনকারী গাড়ি ২৩ নম্বর সড়কের বাসায় পৌঁছে। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের।

মেয়রের মরদেহ বিকাল তিনটা পর্যন্ত বাসায় রাখা হবে। সেখানে তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবারের মতো তাঁকে দেখবেন।

এর আগে আনিসুল হকের মরদেহবাহী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বেলা পৌনে একটার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ বনানীর বাসায় আনা হয়।

বিমানবন্দরে পরিবারের পক্ষ থেকে আনিসুল হকের মরদেহ গ্রহণ করেন মেয়রের ছোটভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ বিশিষ্টজনেরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মেয়রের মরদেহের সঙ্গে দেশে এসেছেন তাঁর স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে নাভিদুল হক, দুই মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা ও তানিশা ফারিয়াম্যান হক।

বাসা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটায় আর্মি স্টেডিয়ামে নেয়া হবে মেয়রের মরদেহ। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আনিসুল হকের মরদেহ বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে ছোট ছেলের কবরে দাফন করা হবে।

মেয়রের ক‌ফিনবাহী বিমান‌টি শুক্রবার লন্ডন সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ছাড়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর ৭টা ৫৮ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৫৮ মিনিটে) সেটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এজন্য তাঁকে বহনকারী বিমানটি বেলা ১১টায় পৌঁছার কথা থাকলেও তা দুই ঘন্টা বিলম্বে পৌঁছে।

মেয়র আনিসুল হক দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ অবস্থায় লন্ডনে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

চলতি বছরের ২৯ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যে গমন করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স হসপিটালে ভর্তি ও আইসিইউতে রাখা হয়। গত ১৩ আগস্ট চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস শনাক্ত করেন। পরে তাকে ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলেটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং বিজিএমইএ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আনিসুল হক ১৯৫২ সালে ২৭ অক্টোবর নোয়াখালীর কবিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, সংসদে জানালেন স্পিকার

শেষবারের মতো নিজ বাসায় মেয়র আনিসুল

আপডেট সময় ০১:৩৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ শেষবারের মতো তাঁর বাসায় নেয়া হয়েছে। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে তাঁর মরদেহ বহনকারী গাড়ি ২৩ নম্বর সড়কের বাসায় পৌঁছে। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের।

মেয়রের মরদেহ বিকাল তিনটা পর্যন্ত বাসায় রাখা হবে। সেখানে তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা শেষবারের মতো তাঁকে দেখবেন।

এর আগে আনিসুল হকের মরদেহবাহী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি বেলা পৌনে একটার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ বনানীর বাসায় আনা হয়।

বিমানবন্দরে পরিবারের পক্ষ থেকে আনিসুল হকের মরদেহ গ্রহণ করেন মেয়রের ছোটভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ বিশিষ্টজনেরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মেয়রের মরদেহের সঙ্গে দেশে এসেছেন তাঁর স্ত্রী রুবানা হক, ছেলে নাভিদুল হক, দুই মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা ও তানিশা ফারিয়াম্যান হক।

বাসা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটায় আর্মি স্টেডিয়ামে নেয়া হবে মেয়রের মরদেহ। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আনিসুল হকের মরদেহ বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে ছোট ছেলের কবরে দাফন করা হবে।

মেয়রের ক‌ফিনবাহী বিমান‌টি শুক্রবার লন্ডন সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ছাড়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর ৭টা ৫৮ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৫৮ মিনিটে) সেটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এজন্য তাঁকে বহনকারী বিমানটি বেলা ১১টায় পৌঁছার কথা থাকলেও তা দুই ঘন্টা বিলম্বে পৌঁছে।

মেয়র আনিসুল হক দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ অবস্থায় লন্ডনে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে ইন্তেকাল করেন।

চলতি বছরের ২৯ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যে গমন করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স হসপিটালে ভর্তি ও আইসিইউতে রাখা হয়। গত ১৩ আগস্ট চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস শনাক্ত করেন। পরে তাকে ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলেটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং বিজিএমইএ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আনিসুল হক ১৯৫২ সালে ২৭ অক্টোবর নোয়াখালীর কবিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।