ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় আপনাদের সহযোগিতা চাই : নজরুল ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী

মুসলিম বিরোধী ভিডিও শেয়ার করে তীব্র সমালোচিত ট্রাম্প

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আবারো মুসলিম বিরোধিতার জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি তীব্র মুসলিশ বিরোধিতা সম্বলিত ভিডিও শেয়ার করে উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছেন। তার এসব ভিডিওকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বা ইংরেজিতে ইনফ্লেমেটরি ভিডিও হিসেবে আখ্যায়িত করেছে অনলাইন সিএনএন।

এতে বলা হয়েছে, বৃটেনের উগ্র ডানপন্থি এবং কট্টর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক গ্রুপ বৃটেন ফার্স্ট-এর উপনেতা জয়দা ফ্রানসেন তিনটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখানো হয়েছে মুসলিমরা সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে, অবমাননা করছে। একটি ভিডিওতে দেখানো হয়েছে তারা কুমারী মেরির মূর্তি ভাঙচুর করছে।

বুধবার সকালেই এই ভিডিওগুলো নিজের টুইট একাউন্ডে রিটুইট করেছেন ট্রাম্প। আর এতে সজাগ হয়ে উঠেছে মার্কিন মুলুক। সিএনএন টেলিভিশন তো এ নিয়ে টকশোর আয়োজন করে ফেলেছে। তাতে ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই ডনাল্ড ট্রাম্প তীব্র মুসলিম বিরোধিতা করে আসছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করা উচিত। ঠিকই নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি প্রথম দফায় ৭টি, পরে তা সংশোধন করে ৬টি মুসলিম প্রধান দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। যদিও তা আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।

এ ছাড়া তিনি এর আগে ইউরোপিয়ান দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অভিবাসীরা হুমকি বলে সতর্কতা দিয়েছিলেন তিনি। তবে বুধবার তিনি যে ভিডিও রিটুইট করেছেন তা অতীতের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। কদাচিৎ তিনি এত আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক বার্তা শেয়ার করেন না। তিনি ওই ভিডিও শেয়ার দেয়ার পর পরই বৃটেনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

এর ফলে বৃটেনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতি তিরস্কার করেছে বৃটিশ সরকার। ওদিকে ভিডিওটি পোস্ট করা জয়দা ফ্রানসেন তো উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। তিনি জানান দিচ্ছেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা তাদের ভিডিও প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুস অসুসরণ করছেন। তিনি তাই ট্রাম্পকে অভিবাদন জানিয়ে লিখেছেনÑ ‘গড ব্লেস ইউ ট্রাম্প’! অর্থাৎ ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।

ওদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিটুইটের পক্ষ অবলম্বন করেছেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে আলোচনা শুরু করার জন্য এটা করেছেন। সারা স্যান্ডার্স বলেন, তার (ট্রাম্পের) লক্ষ্য হলো সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করা। সেটা অনুমোদনের জন্যই তিনি এটা করে থাকবেন। তবে এই ভিডিওগুলো যথাযথ কিনা সে বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সারা স্যান্ডার্স উত্তর এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এটা নিয়েই কথা বলছেন। তিনি এটার দিকেই নজর দিয়েছেন। তিনি ওইসব বাস্তব হুমকির বিষয়ে কাজ করছেন। এসবই বাস্তব, আপনি সেটাকে যেভাবেই দেখেন। উল্লেখ্য, পোস্ট করা ভিডিওগুলোর মধ্যে একটিতে দেখা যায় একজন যুবক ‘মুসলিম অভিবাসী’ ক্র্যাচে ভর করা একটি বালকের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলা হাতে নিয়েছে ডাচ এটর্নি জেনারেলের অফিস। তারা বলছে, ঘটনাটি ঘটেছিল মে মাসে। সন্দেহজনক ব্যক্তির জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা নেদারল্যান্ডসে। তবে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা হামলাকারীর ধর্মীয় পরিচয় কি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হন নি ওই অফিসের মুখপাত্র। তারা বলেছেন, এসব বিষয়ে তথ্য শেয়ার করা তাদের নীতিবিরুদ্ধ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নভেম্বরে ধর্মীয় উদ্দেশে হয়রানির অভিযোগে দোষী হয়েছিলেন এই জয়দা ফ্রানসেন। হিজাব পরা এক মুসলিম নারী তার চার সন্তান নিয়ে নিজের কোনো কাজে বের হওয়ার পর তিনি তাদেরকে ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন। এ জন্য তাকে আদালত জরিমানা করে। সেই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এখানেই শেষ নয়। তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে এক বক্তব্যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তার জন্যও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এ মামলায় ১৪ই ডিসেম্বর বেলফাস্ট ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে তাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজার চাহিদার ভিত্তিতেই বিমানের বোয়িং কেনা: সিইও

মুসলিম বিরোধী ভিডিও শেয়ার করে তীব্র সমালোচিত ট্রাম্প

আপডেট সময় ০২:৩৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আবারো মুসলিম বিরোধিতার জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি তীব্র মুসলিশ বিরোধিতা সম্বলিত ভিডিও শেয়ার করে উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছেন। তার এসব ভিডিওকে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বা ইংরেজিতে ইনফ্লেমেটরি ভিডিও হিসেবে আখ্যায়িত করেছে অনলাইন সিএনএন।

এতে বলা হয়েছে, বৃটেনের উগ্র ডানপন্থি এবং কট্টর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক গ্রুপ বৃটেন ফার্স্ট-এর উপনেতা জয়দা ফ্রানসেন তিনটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখানো হয়েছে মুসলিমরা সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে, অবমাননা করছে। একটি ভিডিওতে দেখানো হয়েছে তারা কুমারী মেরির মূর্তি ভাঙচুর করছে।

বুধবার সকালেই এই ভিডিওগুলো নিজের টুইট একাউন্ডে রিটুইট করেছেন ট্রাম্প। আর এতে সজাগ হয়ে উঠেছে মার্কিন মুলুক। সিএনএন টেলিভিশন তো এ নিয়ে টকশোর আয়োজন করে ফেলেছে। তাতে ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই ডনাল্ড ট্রাম্প তীব্র মুসলিম বিরোধিতা করে আসছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করা উচিত। ঠিকই নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি প্রথম দফায় ৭টি, পরে তা সংশোধন করে ৬টি মুসলিম প্রধান দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। যদিও তা আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।

এ ছাড়া তিনি এর আগে ইউরোপিয়ান দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অভিবাসীরা হুমকি বলে সতর্কতা দিয়েছিলেন তিনি। তবে বুধবার তিনি যে ভিডিও রিটুইট করেছেন তা অতীতের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। কদাচিৎ তিনি এত আক্রমণাত্মক ও বিস্ফোরক বার্তা শেয়ার করেন না। তিনি ওই ভিডিও শেয়ার দেয়ার পর পরই বৃটেনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

এর ফলে বৃটেনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের প্রতি তিরস্কার করেছে বৃটিশ সরকার। ওদিকে ভিডিওটি পোস্ট করা জয়দা ফ্রানসেন তো উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। তিনি জানান দিচ্ছেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা তাদের ভিডিও প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ মানুস অসুসরণ করছেন। তিনি তাই ট্রাম্পকে অভিবাদন জানিয়ে লিখেছেনÑ ‘গড ব্লেস ইউ ট্রাম্প’! অর্থাৎ ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।

ওদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিটুইটের পক্ষ অবলম্বন করেছেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে আলোচনা শুরু করার জন্য এটা করেছেন। সারা স্যান্ডার্স বলেন, তার (ট্রাম্পের) লক্ষ্য হলো সীমান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করা। সেটা অনুমোদনের জন্যই তিনি এটা করে থাকবেন। তবে এই ভিডিওগুলো যথাযথ কিনা সে বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে সারা স্যান্ডার্স উত্তর এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এটা নিয়েই কথা বলছেন। তিনি এটার দিকেই নজর দিয়েছেন। তিনি ওইসব বাস্তব হুমকির বিষয়ে কাজ করছেন। এসবই বাস্তব, আপনি সেটাকে যেভাবেই দেখেন। উল্লেখ্য, পোস্ট করা ভিডিওগুলোর মধ্যে একটিতে দেখা যায় একজন যুবক ‘মুসলিম অভিবাসী’ ক্র্যাচে ভর করা একটি বালকের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলা হাতে নিয়েছে ডাচ এটর্নি জেনারেলের অফিস। তারা বলছে, ঘটনাটি ঘটেছিল মে মাসে। সন্দেহজনক ব্যক্তির জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা নেদারল্যান্ডসে। তবে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা হামলাকারীর ধর্মীয় পরিচয় কি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হন নি ওই অফিসের মুখপাত্র। তারা বলেছেন, এসব বিষয়ে তথ্য শেয়ার করা তাদের নীতিবিরুদ্ধ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নভেম্বরে ধর্মীয় উদ্দেশে হয়রানির অভিযোগে দোষী হয়েছিলেন এই জয়দা ফ্রানসেন। হিজাব পরা এক মুসলিম নারী তার চার সন্তান নিয়ে নিজের কোনো কাজে বের হওয়ার পর তিনি তাদেরকে ওপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন। এ জন্য তাকে আদালত জরিমানা করে। সেই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এখানেই শেষ নয়। তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে এক বক্তব্যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তার জন্যও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এ মামলায় ১৪ই ডিসেম্বর বেলফাস্ট ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে তাকে।