ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি আরো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে, নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে: ড. বদিউল আলম ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

ভাঙা কুঁড়েঘর থেকে ৩৪০ কক্ষের রাষ্ট্রপতি ভবনে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দিল্লির আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়ছিল। আগে থেকেই জানা ছিল, কে হচ্ছেন ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি। বিকেলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপি জোটের ‘দলিত প্রার্থী’ রামনাথ কোবিন্দ।

কিন্তু ‘বৃষ্টিভেজা’ এই বিজয়ের দিনে সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি যেন কিছুটা স্মৃতিকাতর, আবেগাপ্লুত। তাঁর মনের গহিনে বারবার ফিরে আসছিল দারিদ্র্যক্লিষ্ট ফেলে আসা সেই শৈশবের দিনগুলো। যখন বৃষ্টির দিনে উত্তর প্রদেশের নিভৃত গ্রামে তাঁদের ভাঙা কুঁড়েঘরের চাল চুইয়ে জল পড়ত, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পরিবারের সবাই ঘরের এক কোণে আশ্রয় নিতেন। সেদিনের সেই বৃষ্টি আর গতকাল বিকেলে দিল্লির আকাশ ভেঙে অঝোরধারার মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই। সেদিনের উত্তর প্রদেশের সেই বৃষ্টি গতকালের দিল্লির মতো মোটেও মধুর ছিল না, ছিল অভিশাপের মতো।

নির্বাচনে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে গতকাল ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন রামনাথ কোবিন্দ। কয়েক দিন পরেই তিনি ৩৪০ কক্ষবিশিষ্ট দুই লাখ বর্গফুট আয়তনের ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে উঠবেন। তবু শৈশবের সেই ভাঙা কুঁড়েঘর, চাল দিয়ে অনরবত বৃষ্টির পানির পড়ার কথা ভুলতে পারছেন না তিনি। স্মৃতি তাঁকে বারবার পিছু টানছে।

হয়তো এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আবেগ সামলাতে পারলেন না রামনাথ কোবিন্দ। সহজ ভাষায় সাবলীলভাবে বললেন, ‘আমার জন্য এ এক আবেগী মুহূর্ত। আজ সকাল থেকে দিল্লিতে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আমাকে শৈশবের কথা মনে করিয়ে দিল, যখন আমি আমার গ্রামে বাস করতাম।’

এরপর একটু থেমে আবার হিন্দিতে কোবিন্দ বলেন, ‘আমাদের ঘর ছিল কাঁচা, দেয়াল ছিল মাটির। বর্ষার সময় ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত, আমরা সব ভাইবোন ঘরের এক কোণে গিয়ে দাঁড়াতাম; অপেক্ষা করতাম কখন বৃষ্টি থামবে।’

রামনাথ কোবিন্দ নিজেকে গোটা ভারতের গরিব ও কৃষকদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি নিজের এই উত্তরণকে সেসব গবির মানুষের উত্তরণ বলে অ্যাখ্যা দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, রাষ্ট্রপতি ভবনে তিনি তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এখন হয়তো অনেক মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষেত-খামারে দিনমজুরের কাজ করছেন কোনোমতে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পরে বাঁচার জন্য। আমি তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাচ্ছি।’

রামনাথ কোবিন্দ বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া আমাকে বড় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিল। আমার আগে এই পদ অলংকৃত করেছেন রাজেন্দ্র প্রসাদ, এস রাধাকৃষ্ণান, এ পি জে আবুল কালাম ও প্রণব মুখার্জির মতো জ্ঞানী মানুষেরা।’

কোবিন্দ ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কানপুর দেহাত জেলার ঝিনঝাক গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর শৈশব কেটেছে এ গ্রামেই। এরপর তিনি কানপুরে চলে আসেন, এখনো তিনি সেখানেই থাকছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন

ভাঙা কুঁড়েঘর থেকে ৩৪০ কক্ষের রাষ্ট্রপতি ভবনে

আপডেট সময় ১১:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দিল্লির আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়ছিল। আগে থেকেই জানা ছিল, কে হচ্ছেন ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি। বিকেলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপি জোটের ‘দলিত প্রার্থী’ রামনাথ কোবিন্দ।

কিন্তু ‘বৃষ্টিভেজা’ এই বিজয়ের দিনে সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি যেন কিছুটা স্মৃতিকাতর, আবেগাপ্লুত। তাঁর মনের গহিনে বারবার ফিরে আসছিল দারিদ্র্যক্লিষ্ট ফেলে আসা সেই শৈশবের দিনগুলো। যখন বৃষ্টির দিনে উত্তর প্রদেশের নিভৃত গ্রামে তাঁদের ভাঙা কুঁড়েঘরের চাল চুইয়ে জল পড়ত, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পরিবারের সবাই ঘরের এক কোণে আশ্রয় নিতেন। সেদিনের সেই বৃষ্টি আর গতকাল বিকেলে দিল্লির আকাশ ভেঙে অঝোরধারার মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই। সেদিনের উত্তর প্রদেশের সেই বৃষ্টি গতকালের দিল্লির মতো মোটেও মধুর ছিল না, ছিল অভিশাপের মতো।

নির্বাচনে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে গতকাল ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন রামনাথ কোবিন্দ। কয়েক দিন পরেই তিনি ৩৪০ কক্ষবিশিষ্ট দুই লাখ বর্গফুট আয়তনের ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে উঠবেন। তবু শৈশবের সেই ভাঙা কুঁড়েঘর, চাল দিয়ে অনরবত বৃষ্টির পানির পড়ার কথা ভুলতে পারছেন না তিনি। স্মৃতি তাঁকে বারবার পিছু টানছে।

হয়তো এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আবেগ সামলাতে পারলেন না রামনাথ কোবিন্দ। সহজ ভাষায় সাবলীলভাবে বললেন, ‘আমার জন্য এ এক আবেগী মুহূর্ত। আজ সকাল থেকে দিল্লিতে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আমাকে শৈশবের কথা মনে করিয়ে দিল, যখন আমি আমার গ্রামে বাস করতাম।’

এরপর একটু থেমে আবার হিন্দিতে কোবিন্দ বলেন, ‘আমাদের ঘর ছিল কাঁচা, দেয়াল ছিল মাটির। বর্ষার সময় ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত, আমরা সব ভাইবোন ঘরের এক কোণে গিয়ে দাঁড়াতাম; অপেক্ষা করতাম কখন বৃষ্টি থামবে।’

রামনাথ কোবিন্দ নিজেকে গোটা ভারতের গরিব ও কৃষকদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি নিজের এই উত্তরণকে সেসব গবির মানুষের উত্তরণ বলে অ্যাখ্যা দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, রাষ্ট্রপতি ভবনে তিনি তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এখন হয়তো অনেক মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষেত-খামারে দিনমজুরের কাজ করছেন কোনোমতে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পরে বাঁচার জন্য। আমি তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাচ্ছি।’

রামনাথ কোবিন্দ বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া আমাকে বড় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিল। আমার আগে এই পদ অলংকৃত করেছেন রাজেন্দ্র প্রসাদ, এস রাধাকৃষ্ণান, এ পি জে আবুল কালাম ও প্রণব মুখার্জির মতো জ্ঞানী মানুষেরা।’

কোবিন্দ ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কানপুর দেহাত জেলার ঝিনঝাক গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর শৈশব কেটেছে এ গ্রামেই। এরপর তিনি কানপুরে চলে আসেন, এখনো তিনি সেখানেই থাকছেন।