ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

ভাঙা কুঁড়েঘর থেকে ৩৪০ কক্ষের রাষ্ট্রপতি ভবনে

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দিল্লির আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়ছিল। আগে থেকেই জানা ছিল, কে হচ্ছেন ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি। বিকেলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপি জোটের ‘দলিত প্রার্থী’ রামনাথ কোবিন্দ।

কিন্তু ‘বৃষ্টিভেজা’ এই বিজয়ের দিনে সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি যেন কিছুটা স্মৃতিকাতর, আবেগাপ্লুত। তাঁর মনের গহিনে বারবার ফিরে আসছিল দারিদ্র্যক্লিষ্ট ফেলে আসা সেই শৈশবের দিনগুলো। যখন বৃষ্টির দিনে উত্তর প্রদেশের নিভৃত গ্রামে তাঁদের ভাঙা কুঁড়েঘরের চাল চুইয়ে জল পড়ত, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পরিবারের সবাই ঘরের এক কোণে আশ্রয় নিতেন। সেদিনের সেই বৃষ্টি আর গতকাল বিকেলে দিল্লির আকাশ ভেঙে অঝোরধারার মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই। সেদিনের উত্তর প্রদেশের সেই বৃষ্টি গতকালের দিল্লির মতো মোটেও মধুর ছিল না, ছিল অভিশাপের মতো।

নির্বাচনে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে গতকাল ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন রামনাথ কোবিন্দ। কয়েক দিন পরেই তিনি ৩৪০ কক্ষবিশিষ্ট দুই লাখ বর্গফুট আয়তনের ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে উঠবেন। তবু শৈশবের সেই ভাঙা কুঁড়েঘর, চাল দিয়ে অনরবত বৃষ্টির পানির পড়ার কথা ভুলতে পারছেন না তিনি। স্মৃতি তাঁকে বারবার পিছু টানছে।

হয়তো এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আবেগ সামলাতে পারলেন না রামনাথ কোবিন্দ। সহজ ভাষায় সাবলীলভাবে বললেন, ‘আমার জন্য এ এক আবেগী মুহূর্ত। আজ সকাল থেকে দিল্লিতে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আমাকে শৈশবের কথা মনে করিয়ে দিল, যখন আমি আমার গ্রামে বাস করতাম।’

এরপর একটু থেমে আবার হিন্দিতে কোবিন্দ বলেন, ‘আমাদের ঘর ছিল কাঁচা, দেয়াল ছিল মাটির। বর্ষার সময় ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত, আমরা সব ভাইবোন ঘরের এক কোণে গিয়ে দাঁড়াতাম; অপেক্ষা করতাম কখন বৃষ্টি থামবে।’

রামনাথ কোবিন্দ নিজেকে গোটা ভারতের গরিব ও কৃষকদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি নিজের এই উত্তরণকে সেসব গবির মানুষের উত্তরণ বলে অ্যাখ্যা দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, রাষ্ট্রপতি ভবনে তিনি তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এখন হয়তো অনেক মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষেত-খামারে দিনমজুরের কাজ করছেন কোনোমতে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পরে বাঁচার জন্য। আমি তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাচ্ছি।’

রামনাথ কোবিন্দ বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া আমাকে বড় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিল। আমার আগে এই পদ অলংকৃত করেছেন রাজেন্দ্র প্রসাদ, এস রাধাকৃষ্ণান, এ পি জে আবুল কালাম ও প্রণব মুখার্জির মতো জ্ঞানী মানুষেরা।’

কোবিন্দ ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কানপুর দেহাত জেলার ঝিনঝাক গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর শৈশব কেটেছে এ গ্রামেই। এরপর তিনি কানপুরে চলে আসেন, এখনো তিনি সেখানেই থাকছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙা কুঁড়েঘর থেকে ৩৪০ কক্ষের রাষ্ট্রপতি ভবনে

আপডেট সময় ১১:২৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দিল্লির আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পড়ছিল। আগে থেকেই জানা ছিল, কে হচ্ছেন ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি। বিকেলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপি জোটের ‘দলিত প্রার্থী’ রামনাথ কোবিন্দ।

কিন্তু ‘বৃষ্টিভেজা’ এই বিজয়ের দিনে সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি যেন কিছুটা স্মৃতিকাতর, আবেগাপ্লুত। তাঁর মনের গহিনে বারবার ফিরে আসছিল দারিদ্র্যক্লিষ্ট ফেলে আসা সেই শৈশবের দিনগুলো। যখন বৃষ্টির দিনে উত্তর প্রদেশের নিভৃত গ্রামে তাঁদের ভাঙা কুঁড়েঘরের চাল চুইয়ে জল পড়ত, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে পরিবারের সবাই ঘরের এক কোণে আশ্রয় নিতেন। সেদিনের সেই বৃষ্টি আর গতকাল বিকেলে দিল্লির আকাশ ভেঙে অঝোরধারার মধ্যে পার্থক্য অনেকটাই। সেদিনের উত্তর প্রদেশের সেই বৃষ্টি গতকালের দিল্লির মতো মোটেও মধুর ছিল না, ছিল অভিশাপের মতো।

নির্বাচনে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে গতকাল ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন রামনাথ কোবিন্দ। কয়েক দিন পরেই তিনি ৩৪০ কক্ষবিশিষ্ট দুই লাখ বর্গফুট আয়তনের ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে উঠবেন। তবু শৈশবের সেই ভাঙা কুঁড়েঘর, চাল দিয়ে অনরবত বৃষ্টির পানির পড়ার কথা ভুলতে পারছেন না তিনি। স্মৃতি তাঁকে বারবার পিছু টানছে।

হয়তো এ কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আবেগ সামলাতে পারলেন না রামনাথ কোবিন্দ। সহজ ভাষায় সাবলীলভাবে বললেন, ‘আমার জন্য এ এক আবেগী মুহূর্ত। আজ সকাল থেকে দিল্লিতে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টি আমাকে শৈশবের কথা মনে করিয়ে দিল, যখন আমি আমার গ্রামে বাস করতাম।’

এরপর একটু থেমে আবার হিন্দিতে কোবিন্দ বলেন, ‘আমাদের ঘর ছিল কাঁচা, দেয়াল ছিল মাটির। বর্ষার সময় ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত, আমরা সব ভাইবোন ঘরের এক কোণে গিয়ে দাঁড়াতাম; অপেক্ষা করতাম কখন বৃষ্টি থামবে।’

রামনাথ কোবিন্দ নিজেকে গোটা ভারতের গরিব ও কৃষকদের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি নিজের এই উত্তরণকে সেসব গবির মানুষের উত্তরণ বলে অ্যাখ্যা দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, রাষ্ট্রপতি ভবনে তিনি তাঁদেরই প্রতিনিধিত্ব করবেন।

সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এখন হয়তো অনেক মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষেত-খামারে দিনমজুরের কাজ করছেন কোনোমতে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পরে বাঁচার জন্য। আমি তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাচ্ছি।’

রামনাথ কোবিন্দ বলেন, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া আমাকে বড় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিল। আমার আগে এই পদ অলংকৃত করেছেন রাজেন্দ্র প্রসাদ, এস রাধাকৃষ্ণান, এ পি জে আবুল কালাম ও প্রণব মুখার্জির মতো জ্ঞানী মানুষেরা।’

কোবিন্দ ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের কানপুর দেহাত জেলার ঝিনঝাক গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর শৈশব কেটেছে এ গ্রামেই। এরপর তিনি কানপুরে চলে আসেন, এখনো তিনি সেখানেই থাকছেন।