ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

পিলখানা হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দিনের রায় পড়ছে হাইকোর্ট

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২০০৯ সালে রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) বিদ্রোহে হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় পড়া দ্বিতীয় দিনের মত শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার রায় পড়া শুরু করেন। আজ পূর্ণাঙ্গ রায় পড়া শেষে সাজা ঘোষণা করা হবে।

গতকাল রবিবার সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে এ মামলার রায় পড়া শুরু করে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ। দুপুর ১টা থেকে এক ঘণ্টার বিরতির পর বিকাল ৪টা পর্যন্ত রায় পড়ে শোনায় আদালত। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

এ মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য ২০১৫ সালে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়। গত ১৩ এপ্রিল উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয়। এরপর রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয় মামলাটি। এই মামলায় দীর্ঘ ৩৭০ কার্যদিবস শুনানি হয় হাইকোর্টে। গত ৯ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ২৬ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এস এম শাহজাহান ও আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৫২ আসামির ফাঁসির রায় দেয় বিচারিক আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়া বিডিআরের উপসহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমসহ (৫৫) বাহিনীর ১৫২ জওয়ান ও নন কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয় রায়ে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ মামলার সাড়ে আট শ আসামির মধ্যে জীবিত আছেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড নেতা তোরাব আলীকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন আদালত। তাদের দুজনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক। নাসির উদ্দিন পিন্টু কারাগারে থাকাকালে মারা যান।

১৬১ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে আরো ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তাদের পর্যায়ক্রমে এই সাজা খাটতে হবে। এ ছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়। কারো কারো সাজা হয়েছে একাধিক ধারায়। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেন বিচারক।

বিডিআর হত্যাযজ্ঞ ঘটনায় প্রথমে লালবাগ থানায় মামলা হয়। পরে তা স্থানান্তরিত হয় নিউমার্কেট থানায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেয়ায় আলাদাভাবে দুই অভিযোগের বিচার শুরু হয়।

হত্যার ঘটনায় অভিযোগপত্র দেয়া হয় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ২৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ছাড়া বিস্ফোরক আইনে ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি হত্য মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করেন ঢাকার বিশেষ জজ জহুরুল হক। ওই বছরের ২৪ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে এ মামলার দায়িত্ব পান মো. আখতারুজ্জামান। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সাবেক ও বর্তমান সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক ও বর্তমান আইজি, বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ১ হাজার ৩৪৫ জনকে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৬৫৪ জন আদালতে জবানবন্দি দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পিলখানা হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দিনের রায় পড়ছে হাইকোর্ট

আপডেট সময় ০৩:১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২০০৯ সালে রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) বিদ্রোহে হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় পড়া দ্বিতীয় দিনের মত শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার রায় পড়া শুরু করেন। আজ পূর্ণাঙ্গ রায় পড়া শেষে সাজা ঘোষণা করা হবে।

গতকাল রবিবার সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে এ মামলার রায় পড়া শুরু করে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ। দুপুর ১টা থেকে এক ঘণ্টার বিরতির পর বিকাল ৪টা পর্যন্ত রায় পড়ে শোনায় আদালত। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।

এ মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য ২০১৫ সালে বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হয়। গত ১৩ এপ্রিল উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হয়। এরপর রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয় মামলাটি। এই মামলায় দীর্ঘ ৩৭০ কার্যদিবস শুনানি হয় হাইকোর্টে। গত ৯ নভেম্বর রায় ঘোষণার জন্য ২৬ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এস এম শাহজাহান ও আমিনুল ইসলাম।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৫২ আসামির ফাঁসির রায় দেয় বিচারিক আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়া বিডিআরের উপসহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমসহ (৫৫) বাহিনীর ১৫২ জওয়ান ও নন কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয় রায়ে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ মামলার সাড়ে আট শ আসামির মধ্যে জীবিত আছেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু ও আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড নেতা তোরাব আলীকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন আদালত। তাদের দুজনকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন বিচারক। নাসির উদ্দিন পিন্টু কারাগারে থাকাকালে মারা যান।

১৬১ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে আরো ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তাদের পর্যায়ক্রমে এই সাজা খাটতে হবে। এ ছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়। কারো কারো সাজা হয়েছে একাধিক ধারায়। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেন বিচারক।

বিডিআর হত্যাযজ্ঞ ঘটনায় প্রথমে লালবাগ থানায় মামলা হয়। পরে তা স্থানান্তরিত হয় নিউমার্কেট থানায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেয়ায় আলাদাভাবে দুই অভিযোগের বিচার শুরু হয়।

হত্যার ঘটনায় অভিযোগপত্র দেয়া হয় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ২৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ছাড়া বিস্ফোরক আইনে ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি হত্য মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করেন ঢাকার বিশেষ জজ জহুরুল হক। ওই বছরের ২৪ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে এ মামলার দায়িত্ব পান মো. আখতারুজ্জামান। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সাবেক ও বর্তমান সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশের সাবেক ও বর্তমান আইজি, বেসামরিক ব্যক্তিসহ মোট ১ হাজার ৩৪৫ জনকে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৬৫৪ জন আদালতে জবানবন্দি দেন।