অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ড. আতিউর রহমান (বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর) বলেছেন, আইসিটি-নির্ভর আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আর্থিক সেবাদাতাদের মনযোগী হতে হবে। তিনি বুধবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ‘৫ম ইউনি অ্যাপ্রো কমার্স এন্ড ফাইনান্স জয়েন্ট কনফারেন্স’- এ ‘ফাইনান্স সেক্টর ইন নিউ ইকোনমি: এমপাওয়ারিং দি ফাইনান্স ওয়ার্কার্স’ শিরোনামে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করার সময় এ কথা বলেছেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, ইউনি অ্যাপ্রো আইসিটিএস-এর পরিচালক ড. কুন ওয়ার্দানা আবোয়োতো। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেনশিরেন জাপানের পক্ষ থেকে ইপ্পেই ওশিমা, নেপালের এফআইইইউএন-এর প্রেসিডেন্ট কে. সি গণেশ, সিঙ্গাপুরের এসবিইইউ-এর জেনারেল ট্রেজারার ববি টে, এবং সারাওয়াক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের প্রধান নির্বাহী এন্ড্রিউ লো।
তিনি বলেন, ‘আজকের ‘নতুন অর্থনীতি’তে প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)’র করণে সনাতন সীমানাগুলো ভেঙ্গে পড়ছে আর বাণিজ্য ও অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণাতে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আজকের ভোক্তারা খুব সহজেই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। আর তাই এদের জন্য আইসিটি-নির্ভর আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে আর্থিক সেবাদাতাদের মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি এমনভাবে মানব সম্পদ উন্নয়ন করতে হবে যাতে তারা দক্ষতা ও কার্যকারিতার সাথে এই পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণ করতে পারে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর আর্থিক খাতের ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে সর্বাধুনিক পেমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস প্লাটফরমস তৈরি করা হয়েছে এবং এগুলোর পাশাপাশি ব্যবসা ও ভোক্তাবান্ধব আইনি পরিকাঠামোও দাঁড় করানো হয়েছে। মাত্র ৬ বছরের মধ্যেই মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস-এর গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রত্যন্ত অ লের অধিবাসী সহ দেশের সকল মানুষকেই এই সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।
‘নতুন অর্থনীতি’-তে আর্থিক খাতের জন্য মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. আতিউর বলেন যে, এ জন্য আর্থিক সেবাদানকারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পেশাদারদের সংগঠন এবং আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। মানব সম্পদকে মানবিক হয়ে উঠতে হবে যাতে সেবার আওতার বাইরে থাকা এবং কম সেবা পাওয়া গ্রাহকদের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এ জন্য পুরো আর্থিক খাতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে কাজ করে দক্ষ কর্মী তৈরি করতে পারে, আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক খাত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
সবশেষে তিনি বলেন, ‘এই প্রগতির অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে, কিন্তু এই যাত্রায় একা না হেটে দলবদ্ধ হয়ে এগোতে হবে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















