ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

সরকারকে নামানোর শক্তি কোনো দলের নেই: হানিফ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগকে অসম্মানজনকভাবে ক্ষমতা থেকে নামানোর শক্তি কোন রাজনৈতিক দলের নেই বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। সরকারকে অসম্মানজনক ভাবে বিদায়ের বিষয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন হানিফ। মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ান বাজারের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া দেন হানিফ।

সোমবার রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দুটি পথ আছে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার। একটা হলো সম্মানজনকভাবে বিদায় নেয়া। আরেকটি হলো একেবারে অপমানিত-লাঞ্ছিত এবং একেবারে অসম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করা বা সরকার থেকে চলে যাওয়া।

প্রধানমন্ত্রীকে এখন পছন্দ করতে হবে, কোনটা উনি চান। যদি উনি সম্মানের সঙ্গে যেতে চান, তাহলে সমঝোতায় আসতে হবে। একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে আওয়ামী লীগ যদি হেরেও যায় তবুও প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেবেন ‘

মওদুদের এই বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এমন কোন অবস্থা তৈরি করেনি যে, বাংলাদেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। জনগণ সব সময় আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষে। আর জনগণ যখন পক্ষে থাকবে তখন আর কেউ ক্ষমতা থেকে অপমানজনকভাবে সরাতে পারবে না।’

মওদুদকে ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা হারানো আর ৯৬ সালে খালেদা জিয়া সরকারের পতনের কথা স্বরণ করিয়ে দেন হানিফ।

হানিফের ভাষায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, পল্টিবাজ নেতা হচ্ছেন মওদুদ। তিনি বলেন, ‘সেই ধরনের একজন ব্যাক্তি বর্তমান সরকারের সম্পর্কে যখন এমন উক্তি ব্যবহার করে এটা জনগণের কাছে ধৃষ্টতা বলেই মনে হয়।’

রাজনীতিতে মওদুদের ‘ডিগবাগি’ ছাত্রজীবন থেকেই শুরু হয় জানিয়ে হানিফ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আনেন। বলেন, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারে ডাকটিকিট থেকে অর্থ আত্মসাতের কারণে দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৭৩ সালে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার শ্বশুর পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের অনুরোধে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর তিনি তার সরকারে যোগ দেন। কিন্তু দুর্নীতির কারণে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া হয়। এরশাদ সরকারের আমলে দুর্নীতি মামলায় তার ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংবিধান মেনে বাংলাদেশের সব দল অংশ নেবে বলেও আশা করছেন হানিফ। এই সময় সরকারকে টেনে নামানোর মতো কথা ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য পরিহার করতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে মওদুদকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান হানিফ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

সরকারকে নামানোর শক্তি কোনো দলের নেই: হানিফ

আপডেট সময় ০৪:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগকে অসম্মানজনকভাবে ক্ষমতা থেকে নামানোর শক্তি কোন রাজনৈতিক দলের নেই বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। সরকারকে অসম্মানজনক ভাবে বিদায়ের বিষয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন হানিফ। মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ান বাজারের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া দেন হানিফ।

সোমবার রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দুটি পথ আছে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার। একটা হলো সম্মানজনকভাবে বিদায় নেয়া। আরেকটি হলো একেবারে অপমানিত-লাঞ্ছিত এবং একেবারে অসম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করা বা সরকার থেকে চলে যাওয়া।

প্রধানমন্ত্রীকে এখন পছন্দ করতে হবে, কোনটা উনি চান। যদি উনি সম্মানের সঙ্গে যেতে চান, তাহলে সমঝোতায় আসতে হবে। একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে আওয়ামী লীগ যদি হেরেও যায় তবুও প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেবেন ‘

মওদুদের এই বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এমন কোন অবস্থা তৈরি করেনি যে, বাংলাদেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। জনগণ সব সময় আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষে। আর জনগণ যখন পক্ষে থাকবে তখন আর কেউ ক্ষমতা থেকে অপমানজনকভাবে সরাতে পারবে না।’

মওদুদকে ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা হারানো আর ৯৬ সালে খালেদা জিয়া সরকারের পতনের কথা স্বরণ করিয়ে দেন হানিফ।

হানিফের ভাষায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, পল্টিবাজ নেতা হচ্ছেন মওদুদ। তিনি বলেন, ‘সেই ধরনের একজন ব্যাক্তি বর্তমান সরকারের সম্পর্কে যখন এমন উক্তি ব্যবহার করে এটা জনগণের কাছে ধৃষ্টতা বলেই মনে হয়।’

রাজনীতিতে মওদুদের ‘ডিগবাগি’ ছাত্রজীবন থেকেই শুরু হয় জানিয়ে হানিফ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আনেন। বলেন, ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারে ডাকটিকিট থেকে অর্থ আত্মসাতের কারণে দায়িত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৭৩ সালে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চর হিসেবে কাজ করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার শ্বশুর পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের অনুরোধে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর তিনি তার সরকারে যোগ দেন। কিন্তু দুর্নীতির কারণে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া হয়। এরশাদ সরকারের আমলে দুর্নীতি মামলায় তার ১২ বছরের কারাদণ্ড হয়। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংবিধান মেনে বাংলাদেশের সব দল অংশ নেবে বলেও আশা করছেন হানিফ। এই সময় সরকারকে টেনে নামানোর মতো কথা ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য পরিহার করতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে মওদুদকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান হানিফ।