অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘তোষামোদী’ ছেড়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে ইসির ভূমিকা মূল্যায়ন করে এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে তিনি সিইসি (এম নূরুল হুদার) উদ্দেশে এই আহ্বান জানান।
সিইসি নূরুল হুদা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংলাপে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের গুণগান করেছিলেন, যা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনায়ও পড়েন তিনি। পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা বলেছিলেন নূরুল হুদা।
ঘটনা দু`টি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, “তিনি তোষামোদী করে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন আনতে চান। আজকে বিএনপিকে খুব খুশি করার চেষ্টা করছেন। আবার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানুষ দিয়ে আওয়ামী লীগের কথা বলছেন।”
ফখরুল আরো বলেন, “আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, কাউকে তোষামোদী করার তো দরকার নেই। এটার প্রয়োজন নেই। এসব কথা বললে লাভ হবে না। কাজ দেখান। কাজের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে আপনারা নিরপেক্ষ প্রমাণ করুন।”
বিএনপি মহাসচিব ভোটের আগে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিও জানান। বিএনপি মনে করে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে ভোট হলে সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সব কিছু আওয়ামী লীগ করে যাবে। তারা মহাসুখে হেলিকপ্টারে চড়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে। “আর আমরা একটা মিটিংও করতে পারব না, একটা সত্য কথা বলতেও পারব না, আমরা কোর্টের বারান্দায় ঘুরব, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সপ্তাহে সপ্তাহে হাজিরা দিতে হবে, আমাদের সব নেতা-কর্মীদের হাজিরা দিতে হবে- এভাবে নির্বাচন হবে না।”
সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিতের অংশ হিসেবে বিএনপিসহ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মওলানা ভাসানী স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনায় এই দাবি তুলে ফখরুল সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, বিএনপি অংশ না নিলে আগামীতে নির্বাচন হবে না। “এখন ক্ষমতায় আছেন কিছু দিনের জন্য। খুব আনন্দিত হচ্ছেন, বগল বাজাচ্ছেন যে আমরা তো ক্ষমতায় এসে যাব, কোনো চিন্তা নেই, বিএনপি না আসলে না আসবে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মানুষের কাছে যান, তাদের হৃদয়ের ভাষাটা বুঝুন, চোখের ভাষাটা বুঝুন, দেওয়ালের লিখনটা পড়ুন, দেখুন তারা কী বলেছে। “তারা সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তন সম্ভব যদি একটা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়।”
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















