ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম নির্বাচনে কোনও ব্যাঘাত ঘটলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বিঘ্নিত হবে: শামসুজ্জামান দুদু নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান

আরব আমিরাতের আবুধাবীতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর শিল্পনগরী মোচ্ছাফ্ফার সাপ্তাহিক বাংলাবাজার আর অবৈধ নয়। আবুধাবী মিউনিসিপ্যালটির তত্ত্বাবধায়নে এখন চলছে এ বাজারে জমজমাট বেচাকেনা।

বছর খানেক আগেও যেখানে স্থানীয় প্রশাসন এ সাপ্তাহিক বাংলাবাজারসহ অন্যান্য বাংলাবাজার বন্ধ করতে তৎপর ছিলেন এখন তাদেরই বিশেষ সহযোগিতায় বৈধভাবে বেচাকেনা করতে পেরে স্বল্প আয়ের প্রবাসীরা অনেকখুশী। এখানে বেচাকেনায় জড়িত প্রবাসীরা আবুধাবী সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার হাট বাজারের প্রতিচ্ছবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর শিল্পনগরী মোচ্ছাফ্ফার ৪৩নং সেকটরের সাপ্তাহিক বাংলা বাজার। সপ্তাহ জুড়ে যে সমস্ত শ্রমিকরা বাগানে, মাজরা (কৃষি খামার) ওজবাতে (উটের খামার), দোকানে ও বিভিন্ন ঠিকাদারের সাথে ও কোম্পানীতে অল্প বেতনে চাকুরী করেন বিশেষ করে তারাই এ বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা (আসর নামাজের পর) থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সারাদিন ৪৩ নম্বর সেক্টরের বিশাল এলাকাজুড়ে স্থানীয় কতৃপক্ষের নির্মিত বড় বড় সেইডের নীচে সারিবদ্ধভাবে বসেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত বিত্রেুতারা তাদের হরেক রকম পসরা নিয়ে। আগে এ বাজারে ছিল না কোন সেইড।

উম্মুক্ত খোলা জায়গায় বসত দোকানীরা তাদের পসরা নিয়ে। এখন আবুধাবী মিউনিসিপ্যালটি নির্মিত বড় করোগেটেড সেইডের নীচে ঠাণ্ডা ছায়াযুক্ত জায়গায় নিজেদের মালামাল নিয়ে বসতে পেরে অস্হায়ী দোকানীরা অনেক খুশী। বাজারে আগত ক্রেতারাও আবুধাবী সরকারের এ আয়োজনকে সাধুবাদ জানান।

আমিরাতে অবস্থানরত বৈধ যে কোন প্রবাসী নিজের আমিরাত আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ফেরতযোগ্য ১০০দিরহাম (প্রায়২২৩০ টাকা) জমা দিয়ে (বাংলাবাজারে অবস্তিত অফিসে) এ বাজারে যেকোন পসরা নিয়ে বসতে পারেন। নেই আগের মত অবৈধ তাস ও জুয়ার আসর। আগের মত বিত্রিু করা যায় না পাকিস্তানি নেছোয়ারসহ নেশা জাতীয় দ্রব্যাদি। আছে সার্বক্ষণিক পুলিশী টহলসহ নানা সুযোগ সুবিধা।

দোকানের ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ তেমন না থাকায় সুপার মার্কেট ও স্থানীয় দোকান থেকে অনেকটা সস্তায় বেচাকেনা করা হয় বিভিন্ন মালামাল। এসব দোকানদাররা জানান, তাদের ফায়দাও হয় অনেক। সস্তায় মালামাল কিনতে পেরে এ বাজারে আগত ক্রেতারাও তাদের সন্তুস্টির কথা জানান।

সাপ্তাহিক এ বাংলা বাজারে কাঁচা শাক-সবজি, ফল-মূল, তাজা মাছ-মাংস, কাপড় ছোপড়, চাল, ডাল, সাইকেল, জুতা, কম্বল, মরিচ-মসল্লাসহে আবুধাবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না এমন জীবিত হাঁস মুরগীও এখানে পাওয়া যায়। আছে কাপড় সেলাইয়ের টেইলার ও জুতা মেরামতের মুচী। দেশের ঐতিহ্যবাহী ঝাল মুড়ি, চটপটি, সিদ্ধ ডিম, বিরানী, দেশীয় আমেজে পিয়াজু সিংগারাসহ চাও পাওয়া যায় এ বাংলাবাজারে। তবে আগের মত তাজা গরু গোশত আর মাছ মুরগী কেটে বা পরিস্কার করে দেবার সুবিধাটা এখন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সাপ্তাহিক এ বাংলাবাজারের ক্রেতা বিক্রেতা অধিকাংশ বাংলাদেশি হলেও ইনডিয়ান,পাকিস্তানীসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরাও প্রচুর। লক্ষ্য একটা্ই কম দামে কেনা বেচা করা। মিশরি, সিরীয়ান, সুদানি, ইয়েমেনি আরবি ক্রেতা্ও আছে অনেক। আগত ক্রেতারা্ও জানান, তারা তুলনামূলক কম দামে দেশীয় আমেজে বৈধভাবে মালামাল কিনতে পেরে অনেক খুশী। তবে দেশীয় ক্রেতা বিত্রেুতাদের অনেকেই আক্ষেপ করে জানান, দেশের নতুন ভিসা বা ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ চালু থাকলে ছুটির দিনে তাদের কষ্ট করে সামান্য কয়টা টাকা লাভের জন্য এখানে এসে মালামাল কেনাবেচা করতে হত না।

অভিজ্ঞ প্রবাসীদের মতে, আমিরাত সরকার যেমন স্বল্প আয়ের প্রবাসীদের বেচাকেনার সুবিধার্থে এ বাজারের সম্প্রসারণ করেছে, বাজারকে বৈধতা দিয়েছে তেমনি সকল প্রবাসীদের উচিত স্থানীয় আইন কানুন মেনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করে এ বাংলা বাজারকে ঠিকিয়ে রাখা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আরব আমিরাতের আবুধাবীতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর

আপডেট সময় ১১:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর শিল্পনগরী মোচ্ছাফ্ফার সাপ্তাহিক বাংলাবাজার আর অবৈধ নয়। আবুধাবী মিউনিসিপ্যালটির তত্ত্বাবধায়নে এখন চলছে এ বাজারে জমজমাট বেচাকেনা।

বছর খানেক আগেও যেখানে স্থানীয় প্রশাসন এ সাপ্তাহিক বাংলাবাজারসহ অন্যান্য বাংলাবাজার বন্ধ করতে তৎপর ছিলেন এখন তাদেরই বিশেষ সহযোগিতায় বৈধভাবে বেচাকেনা করতে পেরে স্বল্প আয়ের প্রবাসীরা অনেকখুশী। এখানে বেচাকেনায় জড়িত প্রবাসীরা আবুধাবী সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশের গ্রাম বাংলার হাট বাজারের প্রতিচ্ছবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবীর শিল্পনগরী মোচ্ছাফ্ফার ৪৩নং সেকটরের সাপ্তাহিক বাংলা বাজার। সপ্তাহ জুড়ে যে সমস্ত শ্রমিকরা বাগানে, মাজরা (কৃষি খামার) ওজবাতে (উটের খামার), দোকানে ও বিভিন্ন ঠিকাদারের সাথে ও কোম্পানীতে অল্প বেতনে চাকুরী করেন বিশেষ করে তারাই এ বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা (আসর নামাজের পর) থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সারাদিন ৪৩ নম্বর সেক্টরের বিশাল এলাকাজুড়ে স্থানীয় কতৃপক্ষের নির্মিত বড় বড় সেইডের নীচে সারিবদ্ধভাবে বসেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত বিত্রেুতারা তাদের হরেক রকম পসরা নিয়ে। আগে এ বাজারে ছিল না কোন সেইড।

উম্মুক্ত খোলা জায়গায় বসত দোকানীরা তাদের পসরা নিয়ে। এখন আবুধাবী মিউনিসিপ্যালটি নির্মিত বড় করোগেটেড সেইডের নীচে ঠাণ্ডা ছায়াযুক্ত জায়গায় নিজেদের মালামাল নিয়ে বসতে পেরে অস্হায়ী দোকানীরা অনেক খুশী। বাজারে আগত ক্রেতারাও আবুধাবী সরকারের এ আয়োজনকে সাধুবাদ জানান।

আমিরাতে অবস্থানরত বৈধ যে কোন প্রবাসী নিজের আমিরাত আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ফেরতযোগ্য ১০০দিরহাম (প্রায়২২৩০ টাকা) জমা দিয়ে (বাংলাবাজারে অবস্তিত অফিসে) এ বাজারে যেকোন পসরা নিয়ে বসতে পারেন। নেই আগের মত অবৈধ তাস ও জুয়ার আসর। আগের মত বিত্রিু করা যায় না পাকিস্তানি নেছোয়ারসহ নেশা জাতীয় দ্রব্যাদি। আছে সার্বক্ষণিক পুলিশী টহলসহ নানা সুযোগ সুবিধা।

দোকানের ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ তেমন না থাকায় সুপার মার্কেট ও স্থানীয় দোকান থেকে অনেকটা সস্তায় বেচাকেনা করা হয় বিভিন্ন মালামাল। এসব দোকানদাররা জানান, তাদের ফায়দাও হয় অনেক। সস্তায় মালামাল কিনতে পেরে এ বাজারে আগত ক্রেতারাও তাদের সন্তুস্টির কথা জানান।

সাপ্তাহিক এ বাংলা বাজারে কাঁচা শাক-সবজি, ফল-মূল, তাজা মাছ-মাংস, কাপড় ছোপড়, চাল, ডাল, সাইকেল, জুতা, কম্বল, মরিচ-মসল্লাসহে আবুধাবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না এমন জীবিত হাঁস মুরগীও এখানে পাওয়া যায়। আছে কাপড় সেলাইয়ের টেইলার ও জুতা মেরামতের মুচী। দেশের ঐতিহ্যবাহী ঝাল মুড়ি, চটপটি, সিদ্ধ ডিম, বিরানী, দেশীয় আমেজে পিয়াজু সিংগারাসহ চাও পাওয়া যায় এ বাংলাবাজারে। তবে আগের মত তাজা গরু গোশত আর মাছ মুরগী কেটে বা পরিস্কার করে দেবার সুবিধাটা এখন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

সাপ্তাহিক এ বাংলাবাজারের ক্রেতা বিক্রেতা অধিকাংশ বাংলাদেশি হলেও ইনডিয়ান,পাকিস্তানীসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসীরাও প্রচুর। লক্ষ্য একটা্ই কম দামে কেনা বেচা করা। মিশরি, সিরীয়ান, সুদানি, ইয়েমেনি আরবি ক্রেতা্ও আছে অনেক। আগত ক্রেতারা্ও জানান, তারা তুলনামূলক কম দামে দেশীয় আমেজে বৈধভাবে মালামাল কিনতে পেরে অনেক খুশী। তবে দেশীয় ক্রেতা বিত্রেুতাদের অনেকেই আক্ষেপ করে জানান, দেশের নতুন ভিসা বা ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ চালু থাকলে ছুটির দিনে তাদের কষ্ট করে সামান্য কয়টা টাকা লাভের জন্য এখানে এসে মালামাল কেনাবেচা করতে হত না।

অভিজ্ঞ প্রবাসীদের মতে, আমিরাত সরকার যেমন স্বল্প আয়ের প্রবাসীদের বেচাকেনার সুবিধার্থে এ বাজারের সম্প্রসারণ করেছে, বাজারকে বৈধতা দিয়েছে তেমনি সকল প্রবাসীদের উচিত স্থানীয় আইন কানুন মেনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করে এ বাংলা বাজারকে ঠিকিয়ে রাখা।