অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে মাইকের শব্দের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এই মাইক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যা বলা হবে তাই বলবে। কারণ উনি জনতার মঞ্চে উঠেছেন। তাঁকে দলীয় দায়িত্বে শপথ পড়িয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানো হয়েছে।’
আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কচিকাঁচা মিলনায়তনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তিনি একটি কথা বললেন। ইভিএম ব্যবহার হবে না। সামনের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। তার একদিন পরেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার বললেন, না না না এটা তাঁর ভিন্ন মত। একজন কমিশনার যখন বলবেন তখন এটা তো গোটা নির্বাচন কমিশনারেরই কথা। এ রকম কথা বলার কারণটা কী? প্রধান নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন একটা মাইকের হর্ন। এই মাইকের হর্ন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যা বলা হবে তাই বলবে। কারণ উনি জনতার মঞ্চে উঠেছেন। তাঁকে দলীয় দায়িত্বে শপথ পড়িয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানানো হয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জনগণের দাবি হচ্ছে ইভিএম দেওয়া চলবে না। কারণ ইভিএম এ দূর থেকে প্রভাব বিস্তার করার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা শুধু বিএনপি আপত্তি জানায়নি। অনেক সামাজিক সংগঠন ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাসহ যেসব সংগঠন আছে তারাও এর বিরোধিতা করেছেন। এবং ম্যাজিস্ট্রেসিসহ সেনা মোতায়নের কথা বলা হয়েছে কিন্তু এটা তো প্রধানমন্ত্রীর পছন্দ হবে না। উনি হাসিনা মার্কা নির্বাচন করবেন। রাত ৩টার মধ্যে ব্যালট বাক্স ভরে যাবে। ভোর রাতে সুবহে সাদিকের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ জিতে যাবে। তো এই নির্বাচন ছেড়ে আসল প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন করবেন কেন?’
রিজভী বলেন, ‘সবার উপরে সুপ্রিম বিচারপতি শেখ হাসিনা। উনি অন্য কোনো সংগঠনের বা রাষ্ট্রের অন্য কোনো অঙ্গের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করবেন তা করতে গিয়ে যদি বিরোধী দলকে কোনো প্রতিকার দেন সেটা চলবে না। তাকে পালিয়ে যেতে হবে। আর না হলে গুম হয়ে যেতে হবে। যেমন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা চিফ জাস্টিস অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন। তবে তিনি ওই ভাবে না বললেও বলেছেন।’
‘সর্বশেষ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের একটি রায় দিয়েছেন। যেটা প্রধানমন্ত্রীর অপছন্দের। প্রধানমন্ত্রী এটাকে একেবারে সহ্য করতে পারেননি। বহু চেষ্টা করেছেন কিন্তু প্রধান বিচারপতির যে দৃঢ়তা, সেই দৃঢ়তা থেকে ষোড়শ সংশোধনীর রায় দেওয়া থেকে বিচ্যুতি ঘটাতে পারেননি।” যোগ করেন রিজভী।
এসব নানা কারণে সুরেন্দ্র কুমার সিনহারে জোর করে সরানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। তবে যারা তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে জনগণ তাঁদের কড়ায় গণ্ডায় হিসাব নেবে বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।
জাসাস সভাপতি ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক হেলাল খানের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমদ উজ্জল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও নির্বাহী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















