ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন যার ডাকে এতদিন আন্দোলন করেছি সেদিন তিনিই আমাকে তাড়িয়ে দিলেন: ইসহাক সরকার আগুন নিয়ে খেলবেন না: হিজবুল্লাহকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করলেন ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য রাশিয়া সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করবে: পুতিন ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জামায়াত কর্মীকে হত্যা সংসদে শক্ত প্রভাবের চেষ্টায় এনসিপি, দুর্বল জামায়াত: রুমিন ফারহানা আমেরিকা অপমানিত, ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: জার্মানি ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি চায় না শিক্ষার্থীরা : হুইপ বকুল

ইরাক ও ইরান ভূমিকম্পে নিহত সংখ্যা বেড়ে চার শতাধিক

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইরাক ও ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার শতাধিক। আহত হয়েছে আরো ৭ হাজারের বেশি মানুষ। রোববার রাতে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্প ইরাকের উত্তরাঞ্চলের আধা স্বায়ত্তশাসিত এলাকা সুলাইমানিয়ার হালাবজাহ শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় আঘাত হানে।

ইসরায়েল, কুয়েত এবং কাতারেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে ইরান সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় সারপোল-ই-জাহাব শহর এবং কারমানসাহ প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পে বহু বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ইরাক-ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় আঘাত হানা এই ভূমিকম্পকে এ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শহরের প্রধান হাসপাতালটিও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আহতদের চিকিৎসা দিতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে এক নারী এবং এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শহরের বেশ কিছু বাড়ি-ঘর এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, এগুলো যে কোনো সময়ই ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ি-ঘর ধসে পড়ায় লোকজনকে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটাতে হচ্ছে।

ইরানের বেশ কয়েকটি প্রদেশে ভূমিকম্পের সময় প্রচণ্ড কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে কারমানসাহ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়ি-ঘরই কাদামাটি বা ইটের তৈরি। এগুলো ভূমিকম্পে খুব সহজেই ধসে পড়ে। সাধারণ মানুষকে সহায়তা করতে ইতোমধ্যেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সারপোল-ই-জাহাবের এক ব্যক্তি বলেন, আমার খালা, বোন এবং বোনের ছেলে-মেয়ে মারা গেছে। এখানে কোনো সাহায্য আসেনি। এখানে কেউ আসেনি। একটি মানবিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৭০ হাজার মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে ভূমিকম্পে ৪১৩ জন নিহত হয়েছে।

রেড ক্রিসেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ইরাকে নয়জন নিহত হয়েছেন। দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। ইরবিল, সুলাইমানিয়া, কিরকুক, বাসরা এবং রাজধানী বাগদাদে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বর্তমানে জামায়াতের কথাবার্তা শুনলে মন খারাপ হয়’: সরদার সরফুদ্দিন

ইরাক ও ইরান ভূমিকম্পে নিহত সংখ্যা বেড়ে চার শতাধিক

আপডেট সময় ০১:৩২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইরাক ও ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার শতাধিক। আহত হয়েছে আরো ৭ হাজারের বেশি মানুষ। রোববার রাতে ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্প ইরাকের উত্তরাঞ্চলের আধা স্বায়ত্তশাসিত এলাকা সুলাইমানিয়ার হালাবজাহ শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় আঘাত হানে।

ইসরায়েল, কুয়েত এবং কাতারেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে ইরান সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় সারপোল-ই-জাহাব শহর এবং কারমানসাহ প্রদেশেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ভূমিকম্পে বহু বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ইরাক-ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় আঘাত হানা এই ভূমিকম্পকে এ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শহরের প্রধান হাসপাতালটিও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আহতদের চিকিৎসা দিতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে এক নারী এবং এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

শহরের বেশ কিছু বাড়ি-ঘর এমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, এগুলো যে কোনো সময়ই ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ি-ঘর ধসে পড়ায় লোকজনকে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটাতে হচ্ছে।

ইরানের বেশ কয়েকটি প্রদেশে ভূমিকম্পের সময় প্রচণ্ড কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে কারমানসাহ প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়ি-ঘরই কাদামাটি বা ইটের তৈরি। এগুলো ভূমিকম্পে খুব সহজেই ধসে পড়ে। সাধারণ মানুষকে সহায়তা করতে ইতোমধ্যেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সারপোল-ই-জাহাবের এক ব্যক্তি বলেন, আমার খালা, বোন এবং বোনের ছেলে-মেয়ে মারা গেছে। এখানে কোনো সাহায্য আসেনি। এখানে কেউ আসেনি। একটি মানবিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রায় ৭০ হাজার মানুষের আশ্রয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে ভূমিকম্পে ৪১৩ জন নিহত হয়েছে।

রেড ক্রিসেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ইরাকে নয়জন নিহত হয়েছেন। দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। ইরবিল, সুলাইমানিয়া, কিরকুক, বাসরা এবং রাজধানী বাগদাদে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।