ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

ইউরোপ নেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পাচারকারীরা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাচারকারীদের কারণে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমাগতভাবে বাড়ছে অভিবাসী সংকট। তারা ওই অঞ্চল নাগরিক বাদেও বাংলাদেশিদের পাচার করে দিনে প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড বা ১০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি কনজারভেটিভ মিডেল ইস্ট কাউন্সিলের (সিএমইসি) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

ওই প্রতিবেদনের বরাতে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, যুদ্ধাহত সিরিয়া থেকে ইতালিতে অভিবাসীদের গমন কমতে থাকলেও এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলো থেকে বেড়েছে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ সংখ্যা। পাচারকারীদের জন্য নতুন এ ব্যবসা প্রসারিত হতে থাকায় সামনে লিবিয়ার বিপজ্জনক উপকূলীয় অঞ্চলটিতে তাদের আধিপত্য আরও বাড়বে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

সিসিলিতে অভিবাসীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচারকারীরা প্রথমে বাংলাদেশ থেকে তাদের তুরস্কের ইস্তাম্বুল কিংবা দুবাই নিয়ে যান। সেখান থেকে পরবর্তীতে তাদের লিবিয়াতে নিয়ে আসেন। আর সেখান থেকেই সমুদ্র পথে তাদের ইতালিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও পাচারকারীদের এই চক্রটি পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট ও গিনিতে সচল রয়েছে। ইতালি যেতে ইচ্ছুক এমন সব মানুষদের প্রাণনাশের ভয় নিয়েই প্রায় ১০০টি নৌকা পাড় করেন পাচারকারীরা। আর এর মাধ্যমে তারা প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা।

সিএমইসি’র পরিচালক ও সাবেক এমপি শার্লট লেসলি, কোয়েসি কোয়ার্টিং এবং লিউ ডোচার্টি ওই প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে লেসলি বলেন, যুদ্ধাহত মানুষদের এই অঞ্চল দিয়ে গমনের ফলে যেই মানবিক সংকট তৈরি হয়েছিল এখনকার সংকট তার চাইতেও বড়। বর্তমানে এখানে অবৈধ ব্যবসার পরিমাণ বাড়ছে।

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে গিয়ে তাদের খদ্দের জোগাড় করছেন। তাদের অবৈধ আয়ের জন্য এটা সীমানাহীন বাজার। যাওয়ার পথে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেন এমন ভাবনা থাকলেও তারা পথে আসলে কোনো নির্যাতনের শিকার হন না।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে শুধুমাত্র ৬৩৫ জন সিরিয়ান এবং ১৭০ জন লিবিয়ার নাগরিক ইতালিতে প্রবেশ করলেও নাইজেরিয়া থেকে প্রবেশ করেছে ১০ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ১৩৫ জন। সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে লিবিয়া হয়ে মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৭০ জন ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ হাজার ৮০৭ জন ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ১৭ হাজার ৪৮ জন নাইজেরিয়ান। অন্যদিকে এই পথ ব্যবহার করে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৯৮৭ জন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

ইউরোপ নেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পাচারকারীরা

আপডেট সময় ১০:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

পাচারকারীদের কারণে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমাগতভাবে বাড়ছে অভিবাসী সংকট। তারা ওই অঞ্চল নাগরিক বাদেও বাংলাদেশিদের পাচার করে দিনে প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড বা ১০ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি কনজারভেটিভ মিডেল ইস্ট কাউন্সিলের (সিএমইসি) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

ওই প্রতিবেদনের বরাতে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, যুদ্ধাহত সিরিয়া থেকে ইতালিতে অভিবাসীদের গমন কমতে থাকলেও এশিয়ার দরিদ্র দেশগুলো থেকে বেড়েছে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ সংখ্যা। পাচারকারীদের জন্য নতুন এ ব্যবসা প্রসারিত হতে থাকায় সামনে লিবিয়ার বিপজ্জনক উপকূলীয় অঞ্চলটিতে তাদের আধিপত্য আরও বাড়বে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

সিসিলিতে অভিবাসীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচারকারীরা প্রথমে বাংলাদেশ থেকে তাদের তুরস্কের ইস্তাম্বুল কিংবা দুবাই নিয়ে যান। সেখান থেকে পরবর্তীতে তাদের লিবিয়াতে নিয়ে আসেন। আর সেখান থেকেই সমুদ্র পথে তাদের ইতালিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও পাচারকারীদের এই চক্রটি পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট ও গিনিতে সচল রয়েছে। ইতালি যেতে ইচ্ছুক এমন সব মানুষদের প্রাণনাশের ভয় নিয়েই প্রায় ১০০টি নৌকা পাড় করেন পাচারকারীরা। আর এর মাধ্যমে তারা প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রায় ১০ কোটি টাকা।

সিএমইসি’র পরিচালক ও সাবেক এমপি শার্লট লেসলি, কোয়েসি কোয়ার্টিং এবং লিউ ডোচার্টি ওই প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন।

এ বিষয়ে লেসলি বলেন, যুদ্ধাহত মানুষদের এই অঞ্চল দিয়ে গমনের ফলে যেই মানবিক সংকট তৈরি হয়েছিল এখনকার সংকট তার চাইতেও বড়। বর্তমানে এখানে অবৈধ ব্যবসার পরিমাণ বাড়ছে।

তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে গিয়ে তাদের খদ্দের জোগাড় করছেন। তাদের অবৈধ আয়ের জন্য এটা সীমানাহীন বাজার। যাওয়ার পথে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেন এমন ভাবনা থাকলেও তারা পথে আসলে কোনো নির্যাতনের শিকার হন না।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে শুধুমাত্র ৬৩৫ জন সিরিয়ান এবং ১৭০ জন লিবিয়ার নাগরিক ইতালিতে প্রবেশ করলেও নাইজেরিয়া থেকে প্রবেশ করেছে ১০ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ১৩৫ জন। সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে লিবিয়া হয়ে মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৭০ জন ইতালিতে পাড়ি জমিয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ হাজার ৮০৭ জন ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ১৭ হাজার ৪৮ জন নাইজেরিয়ান। অন্যদিকে এই পথ ব্যবহার করে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৯৮৭ জন।