অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দেশের রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যাওয়াকে অর্থনৈতিক ‘উন্নয়নের সূচক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধনের সময় এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে। একসময় আমরা দেখেছি যারা হয়তো একটা গাড়ি ব্যবহার করত, এখন তাদের পরিবারই দুইটা-তিনটা করে গাড়ি ব্যবহার করে। আজকে যেভাবে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে… এটা হ্যাঁ, কিছু কিছু যানজটের সমস্যা হচ্ছে; কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এটাও দেখা যায় যে, আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আজকে এই গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। অর্থাৎ এটা হচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটা সূচক।’
‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন যত হবে, তত মানুষের সবকিছু ব্যবহার করার প্রবণতাটাও বাড়বে। আর সে কারণে ঢাকা শহরে যানজট প্রচণ্ড। এই যানজট প্রশমনের জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। এরই মধ্যে আপনারা জানেন যে বিজয় সরণি ফ্লাইওভার, জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় সরকারের নেওয়া অন্যান্য প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। নবনির্মিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং সেইসঙ্গে সময় বাঁচবে, কর্মচাঞ্চল্য আরো বৃদ্ধি পাবে।
এ সময় ফ্লাইওভারটি নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। তিনি রাস্তা, ফ্লাইওভার ব্যবহারকারীদের এসবের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাফিক নিয়ম মেনে পথ চলতে বলেন তিনি। এই ফ্লাইওভারকে জাতীয় সম্পদ এবং জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কথা মাথায় রেখে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ বিশ্বে এখন একটি সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে মন্তব্য করে এ অবস্থান ধরে রাখার জন্য কাজ করতে দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় নয় কিলোমিটার লম্বা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ফ্লাইওভারটির কাজ তিন ভাগে করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ মার্চ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশে যান চলাচল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লাইওভারের ইস্কাটন-মৌচাক অংশের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তৃতীয় ধাপে এফডিসি মোড় থেকে সোনারগাঁও হোটেলের দিকের অংশটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় এ বছর ১৭ মে। এখন খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ফ্লাইওভারের মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ অংশ।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার অর্থায়ন করেছে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) দিয়েছে ৭৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য ১৫টি র্যাম্প রয়েছে। তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি পিলার পাইলের গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার গভীর।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















