ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

দিল্লির কোথাও একটি করমর্দন অপেক্ষা করছে। এখনো সেই করমর্দনের সঙ্গে কোনো নির্ধারিত তারিখ, সম্মত সফরসূচি কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিশ্চিত হয়নি। এই লেখা প্রকাশের সময় ভারত ও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছে। আলোচনায় নভেম্বর মাসের কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখও রয়েছে। তবে দুই পক্ষই জানিয়েছে, এ সফরের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হতে হবে। আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে, কিন্তু সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও বাংলাদেশের দুই নেতার মধ্যে একটি করমর্দন নিছক আলোকচিত্রের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করবে। সেটি সম্পর্কের মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হবে কি না, তা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বেশি নির্ভর করবে দুই সরকার কী নিয়ে আলোচনা করতে, দর-কষাকষি করতে এবং বাস্তবে কী অর্জন করতে প্রস্তুত, তার ওপর। নয়াদিল্লি, বেইজিং, ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য রাজধানীতে তার এই ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আবির্ভাব একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে বসবাস করেছেন। যে দেশের রাজনীতি তার জীবনকে গড়ে তুলেছে, সেই দেশ থেকে তিনি ছিলেন দূরে। ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে, তার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন তারেক রহমান। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক দীর্ঘ নির্বাসনের সমাপ্তি। দলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তার পিতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা একটি দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ নির্বাসনের সময় তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংস্টনে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমাকে নিয়ে বসবাস করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিদিনের কোলাহল থেকে দূরে তার জীবনযাপনের ধরন ছিল তুলনামূলক শান্ত। তিনি এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের রাজনীতিতে আগমন ঘটেছিল বিএনপির হাত ধরে। পরবর্তীতে দলটির নেতৃত্ব দেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন। একই সঙ্গে বংশানুক্রমিক রাজনীতি, তার নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিরোধী দলে থাকার সময় তাকে ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগের কারণে তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি এক ব্যতিক্রমী জীবনযাপন করেছেন। বৃটেনে সাধারণ জীবনের স্বাধীনতা, বিশেষ করে সার্বক্ষণিক সরকারি দায়িত্বের চাপ ছাড়াই সাধারণ মানুষের মতো হাঁটাচলার সুযোগের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে স্মরণ করেছেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশের সামনে থাকা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। রিচমন্ড পার্কের সবুজ বিস্তৃত পথ ধরে হাঁটা এবং ইতিহাসের বই পড়া ছিল তার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে। বিদেশে কাটানো বছরগুলো তাকে জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে চলা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরত্ব তৈরি করার সুযোগও দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাসনে অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শাসন পরিচালনার কাজে কীভাবে প্রতিফলিত হবে।

নির্বাচনী সাফল্য ও সরকার গঠন

২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিশ্চিত বিজয় অর্জন করে। নির্বাচনী ফলাফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় পালাবদল সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে তার কাঁধে দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের দায়িত্বও পুরোপুরি এসে পড়েছে। এখন আর শুধু ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি বিরোধী দল হিসেবে নয়, বরং একটি কার্যকর রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাকে। সরকার গঠনের পর তিনি জাতীয় ঐক্য ও প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন।

কূটনৈতিক বার্তা ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া

ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো এসেছে ব্যক্তিগত শোকের একটি মুহূর্তে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত শোকবার্তা পৌঁছে দেন। নির্বাচনের পরও ভারতের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রকাশ্য বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’ একই সঙ্গে নেতাদের ব্যক্তিগত সখ্যের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক বৈধতা ও অভিন্ন স্বার্থের প্রেক্ষাপটে সম্পর্কটিকে তুলে ধরা হয়েছে।

দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার পথ তৈরি করেছে, তবে তাতে এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়া হয়নি যে প্রতিবেশীদের মধ্যকার কঠিন সমস্যাগুলো একরাতে মিটে গেছে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকেও নতুন সরকারকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তারেক রহমানের বিজয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। চীনও নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে, ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, বাণিজ্য ও অত্যন্ত দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তের বন্ধনে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী গভীর অবিশ্বাসের একটি অধ্যায় পেরিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক পুনর্গঠন শুরু করতে পারে কি না। নির্বাচনের আগে দেয়া সাক্ষাৎকারগুলোতে তারেক রহমান একদিকে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়িয়ে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই ভারসাম্য তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে ধারণ করতে পারে কি না, সেটিই হবে প্রকৃত পরীক্ষা।

নতুন রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক ভারসাম্য

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়াও আরেকটি ইঙ্গিত যে নয়াদিল্লি এই সম্পর্কটিকে নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব দিতে চায়। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ত্রিবেদী এমন একটি পদে নিয়োগ পেয়েছেন, যেখানে সাধারণত পেশাদার diplomats বা অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুই দেশের সরকার যখন আগের সময়ের টানাপোড়েন কাটিয়ে উঠতে চাইছে, তখন তার মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে পাঠানো একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে বাস্তব গুরুত্ব দেয়ার ইঙ্গিত বহন করে। হামিদুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

  • হাইকমিশনার ত্রিবেদীর প্রকাশ্য বক্তব্য অত্যন্ত সংযত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নভেম্বর সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে এবং তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।
  • বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বলেছেন, আলোচনা চলছে। তবে সফরের জন্য উভয় পক্ষের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন এবং তা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে।
  • পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উভয় দেশই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করছে। ভৌগোলিক নৈকট্য রাজনৈতিক সমন্বয় নিশ্চিত করে— ভারতের এমন ধারণা করা উচিত নয়। একইভাবে, সবচেয়ে বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতাও ঢাকার উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, জননিরাপত্তার উন্নতি এবং রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করতে চান। তার নির্বাচনী প্রচারে নিম্ন আয়ের পরিবার, কৃষক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি ছিল। এছাড়া, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের বার্তা হিসেবে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দুর্গাপূজার নানা অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে, অর্থনীতি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা তুঙ্গে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে, যেটিকে ব্যাপকভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে আগের তুলনায় কম ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের প্রয়োজন বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি তার নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।

তিনি দেশের উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০ অক্টোবর রংপুরের রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান— সবার সমান অধিকার আছে এই দেশে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলনে মানুষের মধ্যে যে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখা গিয়েছিল, সেটিও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রতিশোধের রাজনীতি দেশের কোনো উপকার করবে না বলেও তিনি বারবার যুক্তি দিয়েছেন। কোনো দেশই অন্য দেশের কাছে তাদের প্রতিটি দাবি অন্ধভাবে মেনে নেয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না, তাই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যায় ছাড়াও আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নতুন কাজের সূচনা ও যৌথ অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

আপডেট সময় ১০:৪২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লির কোথাও একটি করমর্দন অপেক্ষা করছে। এখনো সেই করমর্দনের সঙ্গে কোনো নির্ধারিত তারিখ, সম্মত সফরসূচি কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিশ্চিত হয়নি। এই লেখা প্রকাশের সময় ভারত ও বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছে। আলোচনায় নভেম্বর মাসের কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখও রয়েছে। তবে দুই পক্ষই জানিয়েছে, এ সফরের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হতে হবে। আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে, কিন্তু সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও বাংলাদেশের দুই নেতার মধ্যে একটি করমর্দন নিছক আলোকচিত্রের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করবে। সেটি সম্পর্কের মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হবে কি না, তা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বেশি নির্ভর করবে দুই সরকার কী নিয়ে আলোচনা করতে, দর-কষাকষি করতে এবং বাস্তবে কী অর্জন করতে প্রস্তুত, তার ওপর। নয়াদিল্লি, বেইজিং, ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য রাজধানীতে তার এই ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আবির্ভাব একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে বসবাস করেছেন। যে দেশের রাজনীতি তার জীবনকে গড়ে তুলেছে, সেই দেশ থেকে তিনি ছিলেন দূরে। ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে, তার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন তারেক রহমান। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক দীর্ঘ নির্বাসনের সমাপ্তি। দলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তার পিতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা একটি দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ নির্বাসনের সময় তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংস্টনে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমাকে নিয়ে বসবাস করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিদিনের কোলাহল থেকে দূরে তার জীবনযাপনের ধরন ছিল তুলনামূলক শান্ত। তিনি এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও নেতৃত্বের ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের রাজনীতিতে আগমন ঘটেছিল বিএনপির হাত ধরে। পরবর্তীতে দলটির নেতৃত্ব দেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন। একই সঙ্গে বংশানুক্রমিক রাজনীতি, তার নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিরোধী দলে থাকার সময় তাকে ঘিরে ওঠা নানা অভিযোগের কারণে তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি এক ব্যতিক্রমী জীবনযাপন করেছেন। বৃটেনে সাধারণ জীবনের স্বাধীনতা, বিশেষ করে সার্বক্ষণিক সরকারি দায়িত্বের চাপ ছাড়াই সাধারণ মানুষের মতো হাঁটাচলার সুযোগের কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে স্মরণ করেছেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশের সামনে থাকা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। রিচমন্ড পার্কের সবুজ বিস্তৃত পথ ধরে হাঁটা এবং ইতিহাসের বই পড়া ছিল তার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে। বিদেশে কাটানো বছরগুলো তাকে জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে চলা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরত্ব তৈরি করার সুযোগও দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাসনে অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শাসন পরিচালনার কাজে কীভাবে প্রতিফলিত হবে।

নির্বাচনী সাফল্য ও সরকার গঠন

২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিশ্চিত বিজয় অর্জন করে। নির্বাচনী ফলাফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় পালাবদল সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে তার কাঁধে দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের দায়িত্বও পুরোপুরি এসে পড়েছে। এখন আর শুধু ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি বিরোধী দল হিসেবে নয়, বরং একটি কার্যকর রাষ্ট্রপরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাকে। সরকার গঠনের পর তিনি জাতীয় ঐক্য ও প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন।

কূটনৈতিক বার্তা ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া

ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো এসেছে ব্যক্তিগত শোকের একটি মুহূর্তে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত শোকবার্তা পৌঁছে দেন। নির্বাচনের পরও ভারতের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রকাশ্য বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’ একই সঙ্গে নেতাদের ব্যক্তিগত সখ্যের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক বৈধতা ও অভিন্ন স্বার্থের প্রেক্ষাপটে সম্পর্কটিকে তুলে ধরা হয়েছে।

দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি। এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার পথ তৈরি করেছে, তবে তাতে এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়া হয়নি যে প্রতিবেশীদের মধ্যকার কঠিন সমস্যাগুলো একরাতে মিটে গেছে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকেও নতুন সরকারকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তারেক রহমানের বিজয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। চীনও নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে, ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, বাণিজ্য ও অত্যন্ত দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তের বন্ধনে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী গভীর অবিশ্বাসের একটি অধ্যায় পেরিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক পুনর্গঠন শুরু করতে পারে কি না। নির্বাচনের আগে দেয়া সাক্ষাৎকারগুলোতে তারেক রহমান একদিকে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়িয়ে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই ভারসাম্য তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে ধারণ করতে পারে কি না, সেটিই হবে প্রকৃত পরীক্ষা।

নতুন রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক ভারসাম্য

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়াও আরেকটি ইঙ্গিত যে নয়াদিল্লি এই সম্পর্কটিকে নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব দিতে চায়। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ত্রিবেদী এমন একটি পদে নিয়োগ পেয়েছেন, যেখানে সাধারণত পেশাদার diplomats বা অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুই দেশের সরকার যখন আগের সময়ের টানাপোড়েন কাটিয়ে উঠতে চাইছে, তখন তার মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে পাঠানো একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ। বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে বাস্তব গুরুত্ব দেয়ার ইঙ্গিত বহন করে। হামিদুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

  • হাইকমিশনার ত্রিবেদীর প্রকাশ্য বক্তব্য অত্যন্ত সংযত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নভেম্বর সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে এবং তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।
  • বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বলেছেন, আলোচনা চলছে। তবে সফরের জন্য উভয় পক্ষের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন এবং তা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে।
  • পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উভয় দেশই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করছে। ভৌগোলিক নৈকট্য রাজনৈতিক সমন্বয় নিশ্চিত করে— ভারতের এমন ধারণা করা উচিত নয়। একইভাবে, সবচেয়ে বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতাও ঢাকার উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, জননিরাপত্তার উন্নতি এবং রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করতে চান। তার নির্বাচনী প্রচারে নিম্ন আয়ের পরিবার, কৃষক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি ছিল। এছাড়া, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের বার্তা হিসেবে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দুর্গাপূজার নানা অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে, অর্থনীতি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা তুঙ্গে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে, যেটিকে ব্যাপকভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে আগের তুলনায় কম ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের প্রয়োজন বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি তার নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে।

তিনি দেশের উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০ অক্টোবর রংপুরের রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান— সবার সমান অধিকার আছে এই দেশে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলনে মানুষের মধ্যে যে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখা গিয়েছিল, সেটিও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রতিশোধের রাজনীতি দেশের কোনো উপকার করবে না বলেও তিনি বারবার যুক্তি দিয়েছেন। কোনো দেশই অন্য দেশের কাছে তাদের প্রতিটি দাবি অন্ধভাবে মেনে নেয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না, তাই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যায় ছাড়াও আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নতুন কাজের সূচনা ও যৌথ অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।