ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঋণের বোঝা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে নতুন

ইউরোপজুড়ে যখন ফ্রান্সের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে গণঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে, তখন প্রশ্ন উঠছে মার্কিন অর্থনীতিও কি একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে? পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঋণের পরিমাণের দিক থেকে আমেরিকার পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক। বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের দাপট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কারণে আমেরিকা এখনই বড় ধসের মুখে না পড়লেও দুটি প্রধান ইস্যু দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং লাগামহীন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া ফ্রান্সের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপের এই সংকটের ধাক্কা কি তবে এবার পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রেও লাগবে। পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঋণের চিত্রও ফ্রান্সের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো সরাসরি ধসের মুখে না থাকলেও দুটি বড় কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থার পেছনে মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং এআই খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বড় ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা তাদের বার্ষিক মোট জিডিপির প্রায় সমান। একইসঙ্গে দেশটির বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ২ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা মোট জিডিপির ৬ শতাংশেরও বেশি। বিপুল এই ঋণের জন্য প্রতি বছর কেবল সুদ বাবদই যুক্তরাষ্ট্রকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটি তাদের মোট ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ সরকারের সংগৃহীত প্রতি সাত ডলার রাজস্বের মধ্যে এক ডলারই চলে যায় ঋণের সুদ মেটাতে। ফ্রান্সের মতোই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশাল অংকের ঋণ ও বাজেট ঘাটতির সমস্যায় জর্জরিত।

ফ্রান্স বা ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো সংকট কাটাতে কর বৃদ্ধি ও সরকারি খরচ কমানোর মতো কঠোর নীতি বাস্তবায়নে এগোলেও মার্কিন রাজনীতিতে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। বিপরীতে সামনে আসছে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধা। আগামী বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আইনগত ঋণ সীমা বা ডেট সিলিং পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হবে। এর জন্য নতুন কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসকে একমতে পৌঁছাতে হবে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে এই সমঝোতা ভেস্তে গেলে দেশটি কৃত্রিম অর্থনৈতিক খেলাপির মুখে পড়তে পারে। তবে এই সুরক্ষা কবচ সত্ত্বেও আগামী বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লুকিয়ে আছে এক বিপজ্জনক এক্স ফ্যাক্টর। এই সীমা বাড়াতে হলে নতুন কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আমেরিকার নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতা সাময়িকভাবে ফ্রান্সে সৃষ্ট তাৎক্ষণিক ধসকে দূরে রাখতে পারছে। তবে লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকা এই বিশাল ঋণ ও আগামী বছরের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতিকে চরম সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। প্যারিসের রাজপথে এখন চরম অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে।

আপলোডকারীর তথ্য

সবাই মিলেমিশে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ঋণের বোঝা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে নতুন

আপডেট সময় ১১:০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপজুড়ে যখন ফ্রান্সের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে গণঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে, তখন প্রশ্ন উঠছে মার্কিন অর্থনীতিও কি একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে? পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঋণের পরিমাণের দিক থেকে আমেরিকার পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক। বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের দাপট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কারণে আমেরিকা এখনই বড় ধসের মুখে না পড়লেও দুটি প্রধান ইস্যু দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আয়ের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং লাগামহীন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া ফ্রান্সের এই ভঙ্গুর অর্থনৈতিক দশা ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—ইউরোপের এই সংকটের ধাক্কা কি তবে এবার পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রেও লাগবে। পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঋণের চিত্রও ফ্রান্সের চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো সরাসরি ধসের মুখে না থাকলেও দুটি বড় কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থার পেছনে মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য এবং এআই খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বড় ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা তাদের বার্ষিক মোট জিডিপির প্রায় সমান। একইসঙ্গে দেশটির বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ২ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা মোট জিডিপির ৬ শতাংশেরও বেশি। বিপুল এই ঋণের জন্য প্রতি বছর কেবল সুদ বাবদই যুক্তরাষ্ট্রকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটি তাদের মোট ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ সরকারের সংগৃহীত প্রতি সাত ডলার রাজস্বের মধ্যে এক ডলারই চলে যায় ঋণের সুদ মেটাতে। ফ্রান্সের মতোই যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশাল অংকের ঋণ ও বাজেট ঘাটতির সমস্যায় জর্জরিত।

ফ্রান্স বা ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো সংকট কাটাতে কর বৃদ্ধি ও সরকারি খরচ কমানোর মতো কঠোর নীতি বাস্তবায়নে এগোলেও মার্কিন রাজনীতিতে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। বিপরীতে সামনে আসছে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধা। আগামী বছরে যুক্তরাষ্ট্রে আইনগত ঋণ সীমা বা ডেট সিলিং পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হবে। এর জন্য নতুন কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসকে একমতে পৌঁছাতে হবে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে এই সমঝোতা ভেস্তে গেলে দেশটি কৃত্রিম অর্থনৈতিক খেলাপির মুখে পড়তে পারে। তবে এই সুরক্ষা কবচ সত্ত্বেও আগামী বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লুকিয়ে আছে এক বিপজ্জনক এক্স ফ্যাক্টর। এই সীমা বাড়াতে হলে নতুন কংগ্রেস এবং হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্টকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আমেরিকার নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতা সাময়িকভাবে ফ্রান্সে সৃষ্ট তাৎক্ষণিক ধসকে দূরে রাখতে পারছে। তবে লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকা এই বিশাল ঋণ ও আগামী বছরের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত মার্কিন অর্থনীতিকে চরম সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে। প্যারিসের রাজপথে এখন চরম অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে।