ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা দেশ গড়ার কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া ভারতীয় নারীর সন্ধানে আদালতের কড়া নির্দেশ

ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া এক ভারতীয় নারীর অবস্থান শনাক্ত করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও আসাম প্রশাসনকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, গত জুন মাসে মমতাজ বেগম নামের ওই গৃহবধূকে আইনগত সুযোগ না দিয়েই সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে, যখন আসামের নগাঁওয়ের চার নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে মমতাজ বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর স্বামী আদালতে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করেন। আবেদনে উঠে আসে যে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি না পাওয়ার কারণে মমতাজ উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালের মে মাসের রায়ের সারসংক্ষেপ কোন তারিখে তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে চলমান প্রশাসনিক তদন্তের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে উচ্চতর আদালতে আবেদনের সুযোগও তিনি পাননি। প্রশাসনিক নির্দেশে কোনো মানুষকে সীমানার ওপারে পাঠালেও তাঁর জীবনের সুরক্ষা ও অবস্থানের তথ্য সরকারি স্তরে থাকা কতটা জরুরি, তা এই রায়ে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।

তদন্তে জানা যায়, নগাঁও থেকে গোয়ালপাড়ার মাটিয়া আটককেন্দ্রে নেওয়ার পর জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে মমতাজ বেগমকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং এরপরই তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।

গত বুধবার বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের ডিভিশন বেঞ্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য প্রশাসনকে দ্রুত ওই নারীর বর্তমান অবস্থান খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ নারীর সন্ধানে অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বরের পরবর্তী শুনানিতে সরকারি হলফনামার ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।

মমতাজ বেগমের আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০১৯ সালেও ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চ আদালত সেই রায় খারিজ করে পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার নির্ধারিত দিনে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীর অপেক্ষায় থাকার সময় তাঁর অনুপস্থিতিতেই মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা আইনি প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতাকে সামনে এনেছে। এ ঘটনা নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় আইনি ধারাবাহিকতা ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।

আদালতের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করলে প্রশাসনকে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। এই মামলার ফলাফল সীমান্তপারের মানবিক পরিস্থিতি ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টসহ ভারতের বিভিন্ন আদালত ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতাকে বেশ কয়েকবার কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে অন্য একটি ঘটনায় বাংলাদেশে ‘ঠেলে পাঠানো’ ভারতীয় নাগরিকের স্বামীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। এই মামলার পরবর্তী ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে, সীমান্তপারের মানবিক পরিস্থিতি ও আইনি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ পথরেখা।

আপলোডকারীর তথ্য

সালমান খানের পাশাপাশি বলিউড তারকাদের নতুন করে হুমকি

বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া ভারতীয় নারীর সন্ধানে আদালতের কড়া নির্দেশ

আপডেট সময় ০১:৪৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া এক ভারতীয় নারীর অবস্থান শনাক্ত করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও আসাম প্রশাসনকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, গত জুন মাসে মমতাজ বেগম নামের ওই গৃহবধূকে আইনগত সুযোগ না দিয়েই সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে, যখন আসামের নগাঁওয়ের চার নম্বর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে মমতাজ বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর স্বামী আদালতে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করেন। আবেদনে উঠে আসে যে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি না পাওয়ার কারণে মমতাজ উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালের মে মাসের রায়ের সারসংক্ষেপ কোন তারিখে তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে চলমান প্রশাসনিক তদন্তের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে উচ্চতর আদালতে আবেদনের সুযোগও তিনি পাননি। প্রশাসনিক নির্দেশে কোনো মানুষকে সীমানার ওপারে পাঠালেও তাঁর জীবনের সুরক্ষা ও অবস্থানের তথ্য সরকারি স্তরে থাকা কতটা জরুরি, তা এই রায়ে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে।

তদন্তে জানা যায়, নগাঁও থেকে গোয়ালপাড়ার মাটিয়া আটককেন্দ্রে নেওয়ার পর জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে মমতাজ বেগমকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং এরপরই তাঁকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।

গত বুধবার বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের ডিভিশন বেঞ্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য প্রশাসনকে দ্রুত ওই নারীর বর্তমান অবস্থান খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ নারীর সন্ধানে অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বরের পরবর্তী শুনানিতে সরকারি হলফনামার ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।

মমতাজ বেগমের আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০১৯ সালেও ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চ আদালত সেই রায় খারিজ করে পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবার নির্ধারিত দিনে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীর অপেক্ষায় থাকার সময় তাঁর অনুপস্থিতিতেই মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা আইনি প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতাকে সামনে এনেছে। এ ঘটনা নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় আইনি ধারাবাহিকতা ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে।

আদালতের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করলে প্রশাসনকে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। এই মামলার ফলাফল সীমান্তপারের মানবিক পরিস্থিতি ও আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টসহ ভারতের বিভিন্ন আদালত ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতাকে বেশ কয়েকবার কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে অন্য একটি ঘটনায় বাংলাদেশে ‘ঠেলে পাঠানো’ ভারতীয় নাগরিকের স্বামীকে ২ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। এই মামলার পরবর্তী ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে, সীমান্তপারের মানবিক পরিস্থিতি ও আইনি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ পথরেখা।