সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। রবিবার, ১৮ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালের ভেতরে ও বাইরে যাত্রী এবং স্বজনদের চিরচেনা ভিড় নেই বললেই চলে। একসময়ের সরগরম আগমনী ও বহির্গমন টার্মিনাল এখন অনেকটা ফাঁকা, আর গাড়ি পার্কিং এলাকাও রয়েছে একেবারেই শূন্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার ঘটনায় ফ্লাইট চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় গত আট দিনে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে পরিচালিত ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এতে ১৭ হাজারের বেশি প্রবাসী আটকে পড়েছেন এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত আরও হাজারো প্রবাসী দেশে ফেরার অপেক্ষায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বহির্গমন টার্মিনালে ওমরাহযাত্রীদের সামান্য উপস্থিতি ছাড়া বড় কোনো চাপ নেই।
কাতারের দোহাগামী যাত্রী আকবর হোসেন জানান, দুই মাস আগে যখন তিনি বিমানবন্দরে এসেছিলেন, তখন যে উপচে পড়া ভিড় ছিল তার ঠিক বিপরীত চিত্র এখন স্পষ্ট। প্রবাসীদের রিসিভ করতে আসা হাবিবুর রহমান জানান, এমন নীরব ও ফাঁকা পরিবেশ তিনি আগে কখনো দেখেননি। সাধারণত প্রবাসীদের নিতে আসা স্বজনদের চাপের কারণে পার্কিং ও টার্মিনাল এলাকা সবসময় উত্তপ্ত থাকে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
এপিবিএনের সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ জানান, বহির্গমন ও আগমনী উভয় অংশেই যাত্রীর উপস্থিতি অনেক কম হওয়ায় দায়িত্বরতদের কাজের চাপও অনেকটা কমে গেছে। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন, কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারাও বর্তমানে কিছুটা অলস সময় পার করছেন। কর্মব্যস্ত পরিবেশে অভ্যস্ত কর্মীদের কাছে এই অস্বাভাবিক নীরবতা কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কর্মচঞ্চলতা ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























