ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন

সরাইলে লাখ টাকার পুরষ্কারে দিঘিতে বড়শি ফেলার প্রতিযোগিতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়ায় বীরেশ দিঘিতে আয়োজিত হয়েছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবমুখর আয়োজন বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলবে। এতে অংশ নিতে ২৬ জন শৌখিন মাছ শিকারি ২৬ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট সংগ্রহ করেছেন। প্রবেশপত্রের ফি বাবদ আয়োজকদের মোট ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জমা হয়েছে, যার বিপরীতে বিজয়ীদের জন্য মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার ছয়টি পুরস্কার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতা দেখতে দিঘির চারপাশে দর্শকেরও ভিড় জমেছে। সমিতিটি প্রতিবছর কয়েকবার মাছ ধরার প্রতিযোগিতা আয়োজন করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লটারিতে নির্ধারিত দিঘির চারের ২৯টি মাচায় বসে সুক্ষ্ম নজর রাখছেন শিকারিরা। কেউ ছাতু বা চার তৈরি করছেন, কেউ আবার দিঘির জলে বড়শি ফেলছেন। মাচা থেকে বড় মাছ পাওয়ার হাঁকডাক উঠলেই আশপাশের উৎসুক দর্শনার্থী ও সহযোগীরা হইচই করে উঠছেন। আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের পাশাপাশি ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা থেকেও প্রতিযোগীরা সেখানে ছুটে এসেছেন। টিকিট ছাড়াও সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক কাজে প্রত্যেক শিকারির অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। অনেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা মজুরিতে চুক্তিবদ্ধ ভাড়াটে শিকারিও সঙ্গে এনেছেন। তাঁদের দিতে হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। লটারির মাধ্যমে তাঁদের আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতার পুরষ্কার তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রথম পুরস্কার হিসেবে নগদ ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থানে ১ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে থাকা বিজয়ীরা যথাক্রমে ৪৫, ৪০ ও ৩৫ হাজার টাকা করে পাবেন। কোনো একক প্রতিযোগী প্রথম তিনটি স্থানেই সফল হলে একসঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকা জিতে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার দৃষ্টান্ত অতীতেও রয়েছে। পৌনে তিন একর আয়তনের এই দিঘিতে ৫ থেকে ৮ কেজি ওজনের রুই ও কাতলা মাছ রয়েছে। প্রতিযোগিতা চলাকালে সকাল ৯টার দিকে ৪ কেজি ৬৭৫ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা ধরে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ইলিয়াছ হোসেন শীর্ষে উঠে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এর চেয়ে বড় কোনো মাছ কারো বড়শিতে ধরা পড়েনি। আয়োজকদের ভাষ্য, এমন ঘটনা আগে একাধিকবার ঘটেছে।

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরিবারের মালিকানাধীন বীরেশ দিঘিটি ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে বন্ধক নিয়েছে ‘সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প’ নামে একটি সমিতি। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে এবং চলতি বছর এটি তাদের সপ্তম আয়োজন। সমিতির সভাপতি আলী মিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিবছরই শৌখিন শিকারিরা সরাইলে এসে এই রোমাঞ্চকর আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

সরাইলে লাখ টাকার পুরষ্কারে দিঘিতে বড়শি ফেলার প্রতিযোগিতা

আপডেট সময় ০২:২৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়ায় বীরেশ দিঘিতে আয়োজিত হয়েছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবমুখর আয়োজন বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলবে। এতে অংশ নিতে ২৬ জন শৌখিন মাছ শিকারি ২৬ হাজার টাকা মূল্যের টিকিট সংগ্রহ করেছেন। প্রবেশপত্রের ফি বাবদ আয়োজকদের মোট ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জমা হয়েছে, যার বিপরীতে বিজয়ীদের জন্য মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার ছয়টি পুরস্কার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতা দেখতে দিঘির চারপাশে দর্শকেরও ভিড় জমেছে। সমিতিটি প্রতিবছর কয়েকবার মাছ ধরার প্রতিযোগিতা আয়োজন করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লটারিতে নির্ধারিত দিঘির চারের ২৯টি মাচায় বসে সুক্ষ্ম নজর রাখছেন শিকারিরা। কেউ ছাতু বা চার তৈরি করছেন, কেউ আবার দিঘির জলে বড়শি ফেলছেন। মাচা থেকে বড় মাছ পাওয়ার হাঁকডাক উঠলেই আশপাশের উৎসুক দর্শনার্থী ও সহযোগীরা হইচই করে উঠছেন। আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের পাশাপাশি ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা থেকেও প্রতিযোগীরা সেখানে ছুটে এসেছেন। টিকিট ছাড়াও সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক কাজে প্রত্যেক শিকারির অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। অনেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা মজুরিতে চুক্তিবদ্ধ ভাড়াটে শিকারিও সঙ্গে এনেছেন। তাঁদের দিতে হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। লটারির মাধ্যমে তাঁদের আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতার পুরষ্কার তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রথম পুরস্কার হিসেবে নগদ ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থানে ১ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে থাকা বিজয়ীরা যথাক্রমে ৪৫, ৪০ ও ৩৫ হাজার টাকা করে পাবেন। কোনো একক প্রতিযোগী প্রথম তিনটি স্থানেই সফল হলে একসঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকা জিতে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার দৃষ্টান্ত অতীতেও রয়েছে। পৌনে তিন একর আয়তনের এই দিঘিতে ৫ থেকে ৮ কেজি ওজনের রুই ও কাতলা মাছ রয়েছে। প্রতিযোগিতা চলাকালে সকাল ৯টার দিকে ৪ কেজি ৬৭৫ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা ধরে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ইলিয়াছ হোসেন শীর্ষে উঠে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এর চেয়ে বড় কোনো মাছ কারো বড়শিতে ধরা পড়েনি। আয়োজকদের ভাষ্য, এমন ঘটনা আগে একাধিকবার ঘটেছে।

প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরিবারের মালিকানাধীন বীরেশ দিঘিটি ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে বন্ধক নিয়েছে ‘সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প’ নামে একটি সমিতি। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে এবং চলতি বছর এটি তাদের সপ্তম আয়োজন। সমিতির সভাপতি আলী মিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিবছরই শৌখিন শিকারিরা সরাইলে এসে এই রোমাঞ্চকর আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।