ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন

সরাইলে তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষে আহত ৩০, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সরাইল-নাসিরনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তি ও সূর্যকান্তি গ্রামের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সূর্যকান্তি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বিলের মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বাঁশের চাটাই ধরন্তি গ্রামের আশিক, আলাল ও হাদিসের কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় নয় মাস ধরে ওই টাকার পুরোটা পরিশোধ করা হয়নি। এ নিয়ে গত রবিবার বিকেলে সরাইল শহীদ মিনার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। ওই সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে হাদিস মিয়া (৫০) নিহত হন। তিনি সরাইল উপজেলার ধর্মতীর্থ চাকসার এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে।

পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় হাদিস মিয়ার জানাজা শেষে কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদেরসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহতের ঘটনায় বা সংঘর্ষের বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনাগুলোর বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক ৪৩০ রান তাড়া

সরাইলে তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষে আহত ৩০, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৩০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সরাইল-নাসিরনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তি ও সূর্যকান্তি গ্রামের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সূর্যকান্তি গ্রামের ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বিলের মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বাঁশের চাটাই ধরন্তি গ্রামের আশিক, আলাল ও হাদিসের কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় নয় মাস ধরে ওই টাকার পুরোটা পরিশোধ করা হয়নি। এ নিয়ে গত রবিবার বিকেলে সরাইল শহীদ মিনার এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। ওই সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে হাদিস মিয়া (৫০) নিহত হন। তিনি সরাইল উপজেলার ধর্মতীর্থ চাকসার এলাকার সামসু মিয়ার ছেলে।

পরদিন সোমবার সন্ধ্যায় হাদিস মিয়ার জানাজা শেষে কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদেরসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিহতের ঘটনায় বা সংঘর্ষের বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনাগুলোর বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।