ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট নিরসনে নতুন যুক্ত হচ্ছে ট্রলি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের ট্রলি সংকট কাটাতে নতুন করে ২০০টি ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে আরও ১৫০টি ট্রলি দ্রুতই যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যা যাত্রীদের লাগেজ পরিবহনের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ২০০টি ট্রলি আসার পর বিমানবন্দরে এখন ট্রলির মোট সংখ্যা ৪ হাজার ৩৯০টিতে দাঁড়িয়েছে। আর অবশিষ্ট ১৫০টি ট্রলি যুক্ত হলে এই সংখ্যা ৪ হাজার ৫৪০টিতে উন্নীত হবে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, গত ৩ অক্টোবর কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে এই ২০০টি ট্রলি ঢাকায় আনা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আরও ২০০টি ট্রলি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ১৫০টি শাহজালাল বিমানবন্দরে এবং বাকি ৫০টি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সরবরাহ করা হবে। তিনি আশা করছেন, এতে সংকট কেটে যাবে, তবে একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট নামলে যাত্রীদের চাপের কারণে মাঝে মাঝে সাময়িক ঘাটতি হতে পারে। তবে একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করলে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ট্রলির ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি। ফিরতি হজ মৌসুমে ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

প্রায় এক বছর ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকটের কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন শেষে লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলি পেতে যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতো। গত হজ মৌসুমের আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। সেসময় ৫০০টি ট্রলি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত না হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়, যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে এক পর্যায়ে বিমানবন্দরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামলাতে তখন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি ধার করে আনা হয়েছিল। পরে ৫০০টি ট্রলি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও তা অনুমোদন না পাওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। কক্সবাজার ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ট্রলির এই নতুন সংযোজন সাময়িকভাবে যাত্রীসেবার মান উন্নত করলেও, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ট্রলি সংযোজন অব্যাহত রাখা জরুরি। সম্প্রতি ট্রলি সংকট নিয়ে আবারও যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা সামনে আসে। তবে যাত্রীসংখ্যা ও ফ্লাইটের চাপ বিবেচনায় নিয়মিত ট্রলির সংখ্যা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রলি সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: ১৩ কোটি নাম বাদ?

শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট নিরসনে নতুন যুক্ত হচ্ছে ট্রলি

আপডেট সময় ০৮:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের ট্রলি সংকট কাটাতে নতুন করে ২০০টি ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে আরও ১৫০টি ট্রলি দ্রুতই যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যা যাত্রীদের লাগেজ পরিবহনের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ২০০টি ট্রলি আসার পর বিমানবন্দরে এখন ট্রলির মোট সংখ্যা ৪ হাজার ৩৯০টিতে দাঁড়িয়েছে। আর অবশিষ্ট ১৫০টি ট্রলি যুক্ত হলে এই সংখ্যা ৪ হাজার ৫৪০টিতে উন্নীত হবে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, গত ৩ অক্টোবর কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে এই ২০০টি ট্রলি ঢাকায় আনা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আরও ২০০টি ট্রলি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ১৫০টি শাহজালাল বিমানবন্দরে এবং বাকি ৫০টি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সরবরাহ করা হবে। তিনি আশা করছেন, এতে সংকট কেটে যাবে, তবে একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট নামলে যাত্রীদের চাপের কারণে মাঝে মাঝে সাময়িক ঘাটতি হতে পারে। তবে একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করলে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ট্রলির ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি। ফিরতি হজ মৌসুমে ট্রলি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

প্রায় এক বছর ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকটের কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন শেষে লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলি পেতে যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতো। গত হজ মৌসুমের আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিল। সেসময় ৫০০টি ট্রলি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত না হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়, যার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে এক পর্যায়ে বিমানবন্দরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামলাতে তখন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি ধার করে আনা হয়েছিল। পরে ৫০০টি ট্রলি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও তা অনুমোদন না পাওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। কক্সবাজার ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ট্রলির এই নতুন সংযোজন সাময়িকভাবে যাত্রীসেবার মান উন্নত করলেও, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যাত্রী ও ফ্লাইটের চাপের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ট্রলি সংযোজন অব্যাহত রাখা জরুরি। সম্প্রতি ট্রলি সংকট নিয়ে আবারও যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা সামনে আসে। তবে যাত্রীসংখ্যা ও ফ্লাইটের চাপ বিবেচনায় নিয়মিত ট্রলির সংখ্যা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রলি সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।