ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

শাহজালালে যাত্রীসেবা নিয়ে ক্ষোভ, সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হলেও, এখান থেকে সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লাগেজ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, লাগেজ হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অস্পষ্ট নিয়মকানুন, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সহায়তার অভাব নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে দেশে ফেরা প্রবাসী, বয়স্ক যাত্রী, অভিবাসী কর্মী ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য এসব বিষয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের দাবি এখন সময়ের দাবি।

যাত্রীরা টিকিট কাটার পাশাপাশি বিমানবন্দর ফি প্রদান করেন, যার বিনিময়ে তাদের দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। লাগেজ নিরাপদে বুঝে পাওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্যের সহজলভ্যতা, ট্রলির পর্যাপ্ততা এবং টার্মিনাল থেকে নির্বিঘ্নে বের হওয়া প্রতিটি যাত্রীর মৌলিক অধিকার। বিমানবন্দরের যাত্রীসংখ্যা বাড়ায় অবকাঠামোগত চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে অতিরিক্ত ভিড়কে কোনোভাবেই বিলম্ব বা কর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিমান অবতরণের আগে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের তৎপরতা বাড়ানো এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।

টার্মিনালের ভেতরে বিভিন্ন সেবার অবস্থান চিহ্নিতকরণ, বয়স্ক ও অনভিজ্ঞ যাত্রীদের সহায়তায় দক্ষ কর্মী মোতায়েন এবং যানজট নিরসনে সঠিক দিকনির্দেশনা থাকা আবশ্যক। নিরাপত্তা বা ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনে যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, তবে সেই কারণটি পরিষ্কারভাবে জানানো বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি দালালি, অননুমোদিত অর্থ লেনদেন ও দুর্নীতির মতো অভিযোগগুলো কঠোরভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো লাগেজের ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা ও যাত্রীদের জন্য স্বচ্ছ অনুসরণ প্রক্রিয়া (ট্র্যাকিং) নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সমস্যার সর্বশেষ অবস্থা জানা যায়।

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর ফলে সক্ষমতা বাড়লেও, কেবল অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। প্রতিটি শিফটে সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা এখন অপরিহার্য।

যাত্রীদের আস্থার জায়গা ফিরিয়ে আনতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সরকারের জন্য জরুরি। লাগেজ সরবরাহের সময়, অভিযোগ নিষ্পত্তি, ট্রলির প্রাপ্যতা, নিরাপত্তা সারির ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক যাত্রী সন্তুষ্টির মতো বিষয়গুলো নিয়মিত পরিমাপ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে একটি অনুসরণ নম্বর দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজারে নিখোঁজ বিড়ালের সন্ধানে মাইকিং ও পুরস্কার ঘোষণা

শাহজালালে যাত্রীসেবা নিয়ে ক্ষোভ, সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

আপডেট সময় ০৬:৩০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হলেও, এখান থেকে সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লাগেজ পেতে দীর্ঘসূত্রতা, লাগেজ হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অস্পষ্ট নিয়মকানুন, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সহায়তার অভাব নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে দেশে ফেরা প্রবাসী, বয়স্ক যাত্রী, অভিবাসী কর্মী ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য এসব বিষয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের দাবি এখন সময়ের দাবি।

যাত্রীরা টিকিট কাটার পাশাপাশি বিমানবন্দর ফি প্রদান করেন, যার বিনিময়ে তাদের দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। লাগেজ নিরাপদে বুঝে পাওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্যের সহজলভ্যতা, ট্রলির পর্যাপ্ততা এবং টার্মিনাল থেকে নির্বিঘ্নে বের হওয়া প্রতিটি যাত্রীর মৌলিক অধিকার। বিমানবন্দরের যাত্রীসংখ্যা বাড়ায় অবকাঠামোগত চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে অতিরিক্ত ভিড়কে কোনোভাবেই বিলম্ব বা কর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিমান অবতরণের আগে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের তৎপরতা বাড়ানো এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।

টার্মিনালের ভেতরে বিভিন্ন সেবার অবস্থান চিহ্নিতকরণ, বয়স্ক ও অনভিজ্ঞ যাত্রীদের সহায়তায় দক্ষ কর্মী মোতায়েন এবং যানজট নিরসনে সঠিক দিকনির্দেশনা থাকা আবশ্যক। নিরাপত্তা বা ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনে যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, তবে সেই কারণটি পরিষ্কারভাবে জানানো বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি দালালি, অননুমোদিত অর্থ লেনদেন ও দুর্নীতির মতো অভিযোগগুলো কঠোরভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো লাগেজের ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা ও যাত্রীদের জন্য স্বচ্ছ অনুসরণ প্রক্রিয়া (ট্র্যাকিং) নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সমস্যার সর্বশেষ অবস্থা জানা যায়।

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর ফলে সক্ষমতা বাড়লেও, কেবল অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এর জন্য প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ জনবল এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। প্রতিটি শিফটে সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা এখন অপরিহার্য।

যাত্রীদের আস্থার জায়গা ফিরিয়ে আনতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সরকারের জন্য জরুরি। লাগেজ সরবরাহের সময়, অভিযোগ নিষ্পত্তি, ট্রলির প্রাপ্যতা, নিরাপত্তা সারির ব্যবস্থাপনা এবং সামগ্রিক যাত্রী সন্তুষ্টির মতো বিষয়গুলো নিয়মিত পরিমাপ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে একটি অনুসরণ নম্বর দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।