আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তাপ যখন ফাইনালের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে, তখন চলমান এই টুর্নামেন্ট নিয়ে নিজের ব্লগে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করলেন বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। টুর্নামেন্টের বেশ কিছু ‘অন্যায় সিদ্ধান্ত’ নিয়ে যেমন তিনি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ঠিক তেমনই অনভিজ্ঞ ও নতুন ফুটবলারদের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে যেভাবে অভাবনীয় ও নাটকীয় পরিবর্তন ঘটছে, তা দেখে মুগ্ধতাও প্রকাশ করেছেন বিগ বি।
সেইসঙ্গে সময়ের বিবর্তন এবং এক প্রজন্মের রেখে যাওয়া ব্যাটন অন্য প্রজন্মের হাতে ওঠার চিরায়ত নিয়ম নিয়ে জীবনমুখী দর্শনও ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।
হালকা মেজাজে লেখা শুরু করে অমিতাভ বচ্চন জানান, বিশ্বকাপের এই ব্যস্ত সময়সূচি তার দৈনন্দিন রুটিনকে ওলটপালট করে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, সময়ের হিসাব ও চেনাজানা সূচি এখন অবিন্যস্ত। এর কারণ অবশ্যই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। খেলা দেখার সময়গুলো এতটাই অদ্ভুত যে আমাদের দিনগুলোকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আমরা প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটাচ্ছি, আবার কখনো হতাশ হচ্ছি। কিন্তু এক দলের পক্ষে ও অন্য দলের বিপক্ষে যে ধরনের অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে যে সমস্ত দেশ এত দূর আসতে পারবে বলে আমরা ভাবতেও পারিনি, তাদের এই অভাবনীয় জয় আমাদের দারুণভাবে আন্দোলিত করছে।
এ ছাড়া ফুটবল বিশ্বের বহু নামী ও প্রতিষ্ঠিত দেশের বিদায় তাকে বিস্মিত করলেও, ছোট দলগুলোর লড়াকু মানসিকতা ও আত্মপ্রকাশ তাকে গভীরভাবে আনন্দিত করেছে বলে জানান তিনি।
বিশ্বকাপের এই দলগত লড়াইয়ের সঙ্গে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ আইপিএলের একটি চমৎকার তুলনা টেনেছেন অমিতাভ। তিনি লিখেছেন, আইপিএলে যেভাবে খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, ঠিক সেভাবেই বিশ্বকাপের দলগুলোতেও ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের ফুটবলাররা যখন জাতীয় দলের জার্সিতে এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখন তারা হয়ে ওঠে একটাই দল—আর এর জন্য প্রয়োজন সুদৃঢ় চরিত্রের। প্রতিটা বিশ্বকাপেই নতুন প্রতিভা ও কৌশলের এক দারুণ বিবর্তন ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র ১৭ বা ১৮ বছর বয়সের তরুণরা যখন মাঠে নেমে গোটা একটা জাতির প্রতিনিধিত্ব করে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
সময়ের এই দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে গিয়ে বিগ বি কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, বয়স ও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগের দিনে যা ভাবাও যেত না, এখনকার নিয়ম ও শর্তে তেমন কত পরিবর্তনই না ঘটে চলেছে। তবে উন্নতির এই দ্রুত ধাবমান গতি মানবজাতির জন্য এক আশীর্বাদ। আজকের যুবসমাজ এর প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করছে। প্রবীণরা হয়তো অবাক হয়ে ভাবেন যে তাদের সময়ে কেন এমনটা ঘটল না, তবে এখন আর আক্ষেপ করে লাভ নেই। কারণ আগামী বছরগুলোতে কী কী নতুন পরিবর্তন আসবে, তা দেখার জন্য আমরা হয়তো বেঁচে থাকব না, কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্ম থাকবে—আর এটাই একধরনের বড় মানসিক তৃপ্তি।
উল্লেখ্য, বিনিদ্র রজনী আর টানটান উত্তেজনার একাধিক ম্যাচ পেরিয়ে বিশ্বকাপ এখন সেমিফাইনালের চূড়ান্ত লড়াইয়ে উপনীত হয়েছে, যেখানে ট্রফির লড়াইয়ে টিকে রয়েছে ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। আর মাঠের সেই মহাযুদ্ধের মাঝেই কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো অমিতাভ বচ্চনও বুঁদ হয়ে আছেন ফুটবলের এই জাদুকরি উন্মাদনায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















