আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানামুখী চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজার সম্প্রসারণে একটি দূরদর্শী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে যাচ্ছে।
এই কৌশলগত সমন্বয়ের আওতায় এশিয়ার অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক হাব হংকংয়ে একটি বৃহৎ পরিসরে অ্যাপারেল রোডশো আয়োজন করা হবে। এই রোডশো আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড এবং বিশ্বমানের অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে প্রথাগত বাজারের বাইরে এশিয়া অঞ্চলে নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য ও সক্ষমতা তুলে ধরা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে আয়োজিত হতে যাওয়া বৃহৎ বস্ত্র প্রদর্শনী বাটেক্সপো এর মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করা হবে।
এই দূরদর্শী বৈশ্বিক রোডশো এবং বাজার সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে কৌশলগত রূপ দিতে আজ রবিবার উত্তরায় বিজিএমইএ দফতরে বিজিএমইএ এবং এইচএসবিসি এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং এইচএসবিসির সিইও মো. মাহবুব উর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, পরিচালক এ.বি.এম. সামছুদ্দিন, বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন, কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং মো. আশফাকুর রহমানসহ এইচএসবিসি বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক থাকার কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সাথে এইচএসবিসির একটি সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে এবং বৈশ্বিক ক্রেতারা এইচএসবিসির মূল্যায়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা এই অনন্য কানেকশনকে কাজে লাগিয়ে হংকংয়ের অ্যাপারেল রোডশো’তে সেইসব আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানাব, যারা বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে সেভাবে পণ্য সোর্সিং করছে না। এর মাধ্যমে আমাদের রফতানি পরিধি আরও প্রসারিত হবে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান পোশাক খাতের অমিত সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং এই খাত থেকে দেশের আরও অনেক কিছু পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই শিল্পের অগ্রযাত্রার সাথে ব্যাংকিং খাতের একটি ধারাবাহিক ও গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। এইচএসবিসি প্রত্যাশা করে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আরও বড় পরিসরে বিকশিত হোক এবং এই প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে এইচএসবিসি সবসময় বিজিএমইএর পাশে থাকতে চায়।
তিনি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ডেস্টিনেশন বা সোর্সিংয়ের উৎস পরিবর্তনের প্রবণতা তুলে ধরে এই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও গভীর গবেষণা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মো. মাহবুব উর রহমান বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দকে পোশাকের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণ, সাপ্লাই চেইনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শেয়ার বাড়ানোর লক্ষ্যে ৩ থেকে ৫টি সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণের পরামর্শ দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলো বাস্তবায়নে এইচএসবিসি নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত বিজিএমইএর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে বিজিএমইএ ও এইচএসবিসি এই যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উদ্যোগটির মূল লক্ষ্যসমূহ:
• নতুন বাজার অনুসন্ধান ও প্রমোশন: হংকং রোডশোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও অংশীজনদের সাথে অর্থপূর্ণ সংলাপের সুযোগ তৈরি করা এবং নতুন রফতানি বাজার সম্প্রসারণে গতি আনা।
• ভ্যালু চেইন ও সোর্সিং সুবিধা: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং সোর্সিংয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে কৌশলগত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া।
• টেকসই প্রবৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং টেকসই রূপান্তরকে তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন, কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং মো. আশফাকুর রহমান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















