আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্তগুলো যে কত ছোটখাটো কাকতালীয় ঘটনার ওপর নির্ভর করতে পারে, ববি দেওলের সাম্প্রতিক সাফল্য তারই এক অনন্য প্রমাণ। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ব্লকবাস্টার ‘অ্যানিমেল’ ছবিতে দুর্দান্ত খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন তিনি।
শুরু হয়েছে ববি দেওলের ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায়, যা ভক্তদের কাছে ‘লর্ড ববি’র পুনরুত্থান নামে পরিচিত।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ববি দেওল এই চরিত্রে সুযোগ পাওয়া, নিজের দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং ছেলের এমন ভয়ানক রূপ দেখে বাবা ধর্মেন্দ্রর প্রতিক্রিয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
‘অ্যানিমেল’-এ এই অভিনেতার সুযোগ পাওয়ার গল্পটাও কিছুটা অন্যরকম। ছবির পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা কোনো প্রথাগত অডিশন বা অতীতের অভিনয় দেখে এতে ববিকে কাস্ট করেননি। বরং ‘সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগ’ চলাকালীন ববির তোলা একটি সাধারণ ছবির এক্সপ্রেশন বা অভিব্যক্তিই মুগ্ধ করেছিল সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গাকে।
পরিচালক সন্দীপ সেই ছবিতে ববির চোখের তীব্রতা দেখেই বুঝেছিলেন, ছবির নির্বাক খলনায়ক ‘আবরার হক’ চরিত্রের জন্য এই মুখটি একদম নিখুঁত। ববি সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে বলেন, ‘যখন আমি সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার কাছ থেকে ফোন পাই, তিনি বলেছিলেন— আপনার এই ছবিটার এক্সপ্রেশন আমার দারুণ লেগেছে, আমি এই লুকটাই চাই।’
তবে চরিত্রটির জন্য সম্মতি দেওয়া ববির জন্য শুরুতে খুব একটা সহজ ছিল না, কারণ পুরো ছবিতে তার কোনো সংলাপই ছিল না।
তাই ববি দেওল শুরুতে বেশ সংশয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘যখন সন্দীপ আমাকে বললেন আমার চরিত্রটি বাকপ্রতিবন্ধী হবে, তখন আমি ভেবেছিলাম— আমার কণ্ঠই তো আমার আসল শক্তি! তাও আমি চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’
সংলাপের অভাব পুষিয়ে নিতে ববি নিজের শারীরিক অভিব্যক্তি ও অঙ্গভঙ্গির ওপর জোর দেন। পর্দায় চরিত্রটিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে সাংকেতিক ভাষা শেখেন। ছবিটির প্রতি ববির একাগ্রতা এতটাই ছিল যে, সিনেমাটির চুক্তি সই করার পর নিজের অংশের শুটিং শুরু হওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘ দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
ছেলের এমন ভয়ানক খলনায়কের রূপ দেখে বলিউড কিংবদন্তি এবং ববি দেওলের বাবা ধর্মেন্দ্রর প্রতিক্রিয়া ছিল একই সঙ্গে রসাত্মক ও আবেগপূর্ণ। ববি দেওল জানান, ‘যখন অ্যানিমেল মুক্তি পেল, বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুই কি ভিলেন? আমি উত্তর দিলাম, হ্যা বাবা, তবে এটা খুব ভালো একটা চরিত্র।’
পর্দায় ছেলের এই নৃশংস রূপ দেখে ধর্মেন্দ্র যেমন অবাক হয়েছিলেন, তেমনই ছেলের সাফল্যে তার বুক ভরে উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধর্মেন্দ্রও পরবর্তীতে ছেলেকে ভালোবেসে ভক্তদের দেওয়া ‘লর্ড ববি’ নামে ডাকতে শুরু করেন। মজার ছলে ডাকার পাশাপাশি, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে ছেলে যে এমন আকাশচুম্বী সাফল্য ও প্রশংসা পাচ্ছেন, তা দেখে প্রবীণ এই অভিনেতা অত্যন্ত গর্ববোধ করতেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























