ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আ.লীগ দেশ বিক্রি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ভোগ করেছিল: আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, একজনের মৃত্যু ভোটের মাঠে ১ লাখ সেনাসহ থাকবে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: জোনায়েদ সাকি অনিয়মের প্রমাণ থাকলে যেকোনো বিচার মেনে নিতে প্রস্তুত: আসিফ এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন রোগীসহ চারজন ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী

ইসিতে বিএনপির ব্যয়বহুল প্রস্তাব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৫ অক্টোবর রোববার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত সংলাপে বসে। এ সময় দলের পক্ষ থেকে ২০টি প্রস্তাব দেয়া হয় কমিশনকে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, তার একটি বাস্তবায়ন করতে গেলেই কমিশনের চার হাজার কোটি টাকার মতো লাগতে পারে।

যার একটিতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট বা সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। অথচ নির্বাচনের জন্য এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ২৯২ কোটি টাকা। আর এই ব্যয়ের হিসাব না করেই বিএনপি নেতারা তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।

দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮ হাজার ২০৮টি আর ভোটকক্ষ ৯১ হাজার ২১৩টি। আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র কতগুলো হবে সেটি এখনো সুনির্দিষ্ট হয়নি। তবে ভোটার সংখ্যা বাড়লে বাড়তে পারে কেন্দ্রও এবং সেটি এক লাখে পৌঁছার সম্ভাবনাও রয়েছে।

পাঁচ হাজার সিসি ক্যামেরা, সিসিটিভি কন্ট্রোল সেন্টার সরবরাহ ও স্থাপনে যদি ওই টাকার অর্ধেক ২২১ কোটি টাকাও ধরা হয় তাহলে সারাদেশে এক লাখ সিসি ক্যামেরা বসাতে খরচ পড়বে চার হাজার কোটি টাকা। অথচ গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির মোট বাজেট ছিল ২৯২ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সিসিটিভি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ করবে কি করবে না সেটি ইসির বিষয়। আর গ্রহণ করলে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে কত টাকা লাগবে সেটি ইসিই দেখবে। সেখানে টাকার হিসাব আমাদের করার দরকার নেই। আমরা সেটি করিও নাই।’

তবে একটি ক্যামেরা বসানো থেকে শুরু করে সার্বিক প্রক্রিয়া শেষ করতে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে। সে হিসেবে সারাদেশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলে তাতে খরচ পড়বে ২০০ কোটি টাকা। এছাড়া ফুটেজ সংরক্ষণ, তার জন্য ডিভাইস কেনা, কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। এতেও খরচ পড়বে আরো বিপুল অংকের টাকা।

নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিএনপির এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন আমাদের পক্ষে কঠিন। তবে এ বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো ঘোষণা দিতে চায় না।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে। তখন নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০০ কোটি টাকা। তবে দেড় শতাধিক আসনে ভোট না হওয়ায় অত টাকা ব্যয় হয়নি। সব মিলিয়ে খরচ হয় ২৯২ কোটি টাকা। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খরচ হয় ১৬৫ কোটি টাকা। আর এর আগের অর্থাৎ ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাজেট ছিল ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ করতে অন্যান্য যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি, এখন থেকেই রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ সব স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিতকরণ, প্রশাসন দলীয় প্রভাবমুক্তকরণ, ইভিএম/ডিভিএম যন্ত্র ব্যবহার না করা, ২০০৮ সালের আগের নির্বাচনী সীমানা পুনর্বহাল, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়া, আরপিও সংশোধন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্তকরণ এবং নির্বাচনের কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকে নতুন সরকারের দায়িত্বগ্রহণ পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ক্ষমতাসহ প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন ইত্যাদি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসিতে বিএনপির ব্যয়বহুল প্রস্তাব

আপডেট সময় ০২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

১৫ অক্টোবর রোববার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত সংলাপে বসে। এ সময় দলের পক্ষ থেকে ২০টি প্রস্তাব দেয়া হয় কমিশনকে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, তার একটি বাস্তবায়ন করতে গেলেই কমিশনের চার হাজার কোটি টাকার মতো লাগতে পারে।

যার একটিতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট বা সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। অথচ নির্বাচনের জন্য এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ২৯২ কোটি টাকা। আর এই ব্যয়ের হিসাব না করেই বিএনপি নেতারা তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।

দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮ হাজার ২০৮টি আর ভোটকক্ষ ৯১ হাজার ২১৩টি। আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র কতগুলো হবে সেটি এখনো সুনির্দিষ্ট হয়নি। তবে ভোটার সংখ্যা বাড়লে বাড়তে পারে কেন্দ্রও এবং সেটি এক লাখে পৌঁছার সম্ভাবনাও রয়েছে।

পাঁচ হাজার সিসি ক্যামেরা, সিসিটিভি কন্ট্রোল সেন্টার সরবরাহ ও স্থাপনে যদি ওই টাকার অর্ধেক ২২১ কোটি টাকাও ধরা হয় তাহলে সারাদেশে এক লাখ সিসি ক্যামেরা বসাতে খরচ পড়বে চার হাজার কোটি টাকা। অথচ গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির মোট বাজেট ছিল ২৯২ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সিসিটিভি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ করবে কি করবে না সেটি ইসির বিষয়। আর গ্রহণ করলে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে কত টাকা লাগবে সেটি ইসিই দেখবে। সেখানে টাকার হিসাব আমাদের করার দরকার নেই। আমরা সেটি করিও নাই।’

তবে একটি ক্যামেরা বসানো থেকে শুরু করে সার্বিক প্রক্রিয়া শেষ করতে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে। সে হিসেবে সারাদেশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হলে তাতে খরচ পড়বে ২০০ কোটি টাকা। এছাড়া ফুটেজ সংরক্ষণ, তার জন্য ডিভাইস কেনা, কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। এতেও খরচ পড়বে আরো বিপুল অংকের টাকা।

নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বিএনপির এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন আমাদের পক্ষে কঠিন। তবে এ বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো ঘোষণা দিতে চায় না।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে। তখন নির্বাচন কমিশনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০০ কোটি টাকা। তবে দেড় শতাধিক আসনে ভোট না হওয়ায় অত টাকা ব্যয় হয়নি। সব মিলিয়ে খরচ হয় ২৯২ কোটি টাকা। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খরচ হয় ১৬৫ কোটি টাকা। আর এর আগের অর্থাৎ ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাজেট ছিল ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ করতে অন্যান্য যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি, এখন থেকেই রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ সব স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নিশ্চিতকরণ, প্রশাসন দলীয় প্রভাবমুক্তকরণ, ইভিএম/ডিভিএম যন্ত্র ব্যবহার না করা, ২০০৮ সালের আগের নির্বাচনী সীমানা পুনর্বহাল, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়া, আরপিও সংশোধন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্তকরণ এবং নির্বাচনের কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে থেকে নতুন সরকারের দায়িত্বগ্রহণ পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ক্ষমতাসহ প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন ইত্যাদি।