ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

লিরিড উল্কাবৃষ্টি: আকাশে ঝলমলে আলোর খেলা

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

রাতের আকাশে হঠাৎ আগুনের মতো ছুটে চলা আলোর রেখা—এমন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করছে লিরিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতি বছরের মতো এবারও এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

জানা গেছে, লিরিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এর সবচেয়ে বেশি উল্কা দেখা যায় ২২ বা ২৩ এপ্রিলের দিকে। এ বছরও ওই সময়েই এর শিখর পর্যায় ছিল। উত্তর গোলার্ধের অনেক জায়গায় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সময়টি ছিল সবচেয়ে ভালো দেখার সুযোগ।

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি উল্কা দেখা যায়। তবে কখনো কখনো হঠাৎ বেড়ে গিয়ে এই সংখ্যা ১০০-তেও পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে কিছু উল্কা এত উজ্জ্বল হয় যে, তা শুক্র গ্রহের থেকেও বেশি আলো ছড়ায় (খুব উজ্জ্বল গ্রহ)।

এই উল্কাবৃষ্টির নাম এসেছে ‘লাইরা’ নক্ষত্রমণ্ডল (তারকার একটি গুচ্ছ) থেকে। এর উল্কাগুলো তৈরি হয় ‘কমেট থ্যাচার’ নামের একটি ধূমকেতুর ধ্বংসাবশেষ থেকে। এই ধূমকেতুটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৪১৫ বছর সময় নেয়। চীনের প্রাচীন নথি বলছে, এই উল্কাবৃষ্টি প্রায় ২,৫০০ বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোরের আগে সময়টি উল্কা দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো। তখন আকাশে এর উৎসবিন্দু সবচেয়ে উপরে থাকে। শহরের আলো থেকে দূরে, অন্ধকার জায়গায় গেলে বেশি উল্কা দেখা যায়। তবে উজ্জ্বল উল্কা শহর থেকেও দেখা সম্ভব।

এ বছর চাঁদ সরু অবস্থায় আকাশের নিচে থাকায় আলো কম, তাই উল্কা দেখার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হয়নি। কোনো বিশেষ যন্ত্রের দরকার নেই। শুধু খোলা আকাশের নিচে শুয়ে থেকে কিছু সময় চোখ অন্ধকারে অভ্যস্ত করলেই দেখা মিলবে এই দারুণ দৃশ্যের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

লিরিড উল্কাবৃষ্টি: আকাশে ঝলমলে আলোর খেলা

আপডেট সময় ০৯:১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

রাতের আকাশে হঠাৎ আগুনের মতো ছুটে চলা আলোর রেখা—এমন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করছে লিরিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতি বছরের মতো এবারও এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

জানা গেছে, লিরিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এর সবচেয়ে বেশি উল্কা দেখা যায় ২২ বা ২৩ এপ্রিলের দিকে। এ বছরও ওই সময়েই এর শিখর পর্যায় ছিল। উত্তর গোলার্ধের অনেক জায়গায় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সময়টি ছিল সবচেয়ে ভালো দেখার সুযোগ।

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি উল্কা দেখা যায়। তবে কখনো কখনো হঠাৎ বেড়ে গিয়ে এই সংখ্যা ১০০-তেও পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে কিছু উল্কা এত উজ্জ্বল হয় যে, তা শুক্র গ্রহের থেকেও বেশি আলো ছড়ায় (খুব উজ্জ্বল গ্রহ)।

এই উল্কাবৃষ্টির নাম এসেছে ‘লাইরা’ নক্ষত্রমণ্ডল (তারকার একটি গুচ্ছ) থেকে। এর উল্কাগুলো তৈরি হয় ‘কমেট থ্যাচার’ নামের একটি ধূমকেতুর ধ্বংসাবশেষ থেকে। এই ধূমকেতুটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৪১৫ বছর সময় নেয়। চীনের প্রাচীন নথি বলছে, এই উল্কাবৃষ্টি প্রায় ২,৫০০ বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোরের আগে সময়টি উল্কা দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো। তখন আকাশে এর উৎসবিন্দু সবচেয়ে উপরে থাকে। শহরের আলো থেকে দূরে, অন্ধকার জায়গায় গেলে বেশি উল্কা দেখা যায়। তবে উজ্জ্বল উল্কা শহর থেকেও দেখা সম্ভব।

এ বছর চাঁদ সরু অবস্থায় আকাশের নিচে থাকায় আলো কম, তাই উল্কা দেখার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হয়নি। কোনো বিশেষ যন্ত্রের দরকার নেই। শুধু খোলা আকাশের নিচে শুয়ে থেকে কিছু সময় চোখ অন্ধকারে অভ্যস্ত করলেই দেখা মিলবে এই দারুণ দৃশ্যের।