ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২ হেরে যাওয়ায় ব্রাজিলের সাপোর্টাররা হতাশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দেশ হোক সব প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল: প্রধানমন্ত্রী

লিরিড উল্কাবৃষ্টি: আকাশে ঝলমলে আলোর খেলা

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

রাতের আকাশে হঠাৎ আগুনের মতো ছুটে চলা আলোর রেখা—এমন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করছে লিরিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতি বছরের মতো এবারও এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

জানা গেছে, লিরিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এর সবচেয়ে বেশি উল্কা দেখা যায় ২২ বা ২৩ এপ্রিলের দিকে। এ বছরও ওই সময়েই এর শিখর পর্যায় ছিল। উত্তর গোলার্ধের অনেক জায়গায় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সময়টি ছিল সবচেয়ে ভালো দেখার সুযোগ।

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি উল্কা দেখা যায়। তবে কখনো কখনো হঠাৎ বেড়ে গিয়ে এই সংখ্যা ১০০-তেও পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে কিছু উল্কা এত উজ্জ্বল হয় যে, তা শুক্র গ্রহের থেকেও বেশি আলো ছড়ায় (খুব উজ্জ্বল গ্রহ)।

এই উল্কাবৃষ্টির নাম এসেছে ‘লাইরা’ নক্ষত্রমণ্ডল (তারকার একটি গুচ্ছ) থেকে। এর উল্কাগুলো তৈরি হয় ‘কমেট থ্যাচার’ নামের একটি ধূমকেতুর ধ্বংসাবশেষ থেকে। এই ধূমকেতুটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৪১৫ বছর সময় নেয়। চীনের প্রাচীন নথি বলছে, এই উল্কাবৃষ্টি প্রায় ২,৫০০ বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোরের আগে সময়টি উল্কা দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো। তখন আকাশে এর উৎসবিন্দু সবচেয়ে উপরে থাকে। শহরের আলো থেকে দূরে, অন্ধকার জায়গায় গেলে বেশি উল্কা দেখা যায়। তবে উজ্জ্বল উল্কা শহর থেকেও দেখা সম্ভব।

এ বছর চাঁদ সরু অবস্থায় আকাশের নিচে থাকায় আলো কম, তাই উল্কা দেখার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হয়নি। কোনো বিশেষ যন্ত্রের দরকার নেই। শুধু খোলা আকাশের নিচে শুয়ে থেকে কিছু সময় চোখ অন্ধকারে অভ্যস্ত করলেই দেখা মিলবে এই দারুণ দৃশ্যের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিরিড উল্কাবৃষ্টি: আকাশে ঝলমলে আলোর খেলা

আপডেট সময় ০৯:১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

রাতের আকাশে হঠাৎ আগুনের মতো ছুটে চলা আলোর রেখা—এমন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করছে লিরিড উল্কাবৃষ্টি। প্রতি বছরের মতো এবারও এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা আকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

জানা গেছে, লিরিড উল্কাবৃষ্টি সাধারণত ১৬ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এর সবচেয়ে বেশি উল্কা দেখা যায় ২২ বা ২৩ এপ্রিলের দিকে। এ বছরও ওই সময়েই এর শিখর পর্যায় ছিল। উত্তর গোলার্ধের অনেক জায়গায় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত সময়টি ছিল সবচেয়ে ভালো দেখার সুযোগ।

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ১৫টি উল্কা দেখা যায়। তবে কখনো কখনো হঠাৎ বেড়ে গিয়ে এই সংখ্যা ১০০-তেও পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে কিছু উল্কা এত উজ্জ্বল হয় যে, তা শুক্র গ্রহের থেকেও বেশি আলো ছড়ায় (খুব উজ্জ্বল গ্রহ)।

এই উল্কাবৃষ্টির নাম এসেছে ‘লাইরা’ নক্ষত্রমণ্ডল (তারকার একটি গুচ্ছ) থেকে। এর উল্কাগুলো তৈরি হয় ‘কমেট থ্যাচার’ নামের একটি ধূমকেতুর ধ্বংসাবশেষ থেকে। এই ধূমকেতুটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৪১৫ বছর সময় নেয়। চীনের প্রাচীন নথি বলছে, এই উল্কাবৃষ্টি প্রায় ২,৫০০ বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোরের আগে সময়টি উল্কা দেখার জন্য সবচেয়ে ভালো। তখন আকাশে এর উৎসবিন্দু সবচেয়ে উপরে থাকে। শহরের আলো থেকে দূরে, অন্ধকার জায়গায় গেলে বেশি উল্কা দেখা যায়। তবে উজ্জ্বল উল্কা শহর থেকেও দেখা সম্ভব।

এ বছর চাঁদ সরু অবস্থায় আকাশের নিচে থাকায় আলো কম, তাই উল্কা দেখার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হয়নি। কোনো বিশেষ যন্ত্রের দরকার নেই। শুধু খোলা আকাশের নিচে শুয়ে থেকে কিছু সময় চোখ অন্ধকারে অভ্যস্ত করলেই দেখা মিলবে এই দারুণ দৃশ্যের।