আকাশ নিউজ ডেস্ক:
মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত আর চরম অবস্থার জিনিসের নাম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। এর আকর্ষণ এতই বেশি যে, এর ভেতর থেকে আলোও পালাতে পারে না। কিন্তু সত্যিই কি সেখান থেকে কিছুই বের হতে পারে না?
বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ১৯৭৪ সালে বলেছিলেন অন্য কথা। তিনি জানান, ব্ল্যাক হোল থেকেও এক ধরনের বিকিরণ বা রেডিয়েশন বের হয়। এর ফলে এটি ধীরে ধীরে শক্তি হারায়। এই বিকিরণের নাম দেওয়া হয় ‘হকিং রেডিয়েশন’।
এবার এই তত্ত্ব নিয়েই দারুণ এক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির প্যাডারবর্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক লরেঞ্জো প্রোকোপিওর দল ল্যাবরেটরিতে আলোর সাহায্যে নকল ব্ল্যাক হোল তৈরি করেন। তাদের এই গবেষণার খবরটি ‘নেচার’ জার্নালে ছাপা হয়েছে।
আসল ব্ল্যাক হোলের বিকিরণ অনেক দুর্বল হওয়ায় তা মাপা প্রায় অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা অপটিক্যাল ফাইবার ও দ্রুত গতির লেজার রশ্মি ব্যবহার করে ল্যাবরেটরিতে ব্ল্যাক হোলের পরিবেশ তৈরি করেন। সেখান থেকেই তারা ‘ব্যাকরিঅ্যাকশন’ বা শক্তি হারানোর প্রমাণ পান।
ব্যাপারটা অনেকটা রোলার স্কেট পায়ে দুজনের দাঁড়িয়ে থাকার মতো। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিলে দুজনই উল্টো দিকে সরে যায়। ঠিক তেমনি, বিকিরণ যখন শক্তি নিয়ে বেরিয়ে যায়, তখন ব্ল্যাক হোলও শক্তি হারায়। লেজার রশ্মির সামান্য পরিবর্তন মেপে বিজ্ঞানীরা এই প্রমাণ পেয়েছেন।
আগে ধারণা ছিল এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সরাসরি এবং সহজেই ঘটে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার ব্ল্যাক হোলের শক্তি হারানো এবং হকিংয়ের ‘ইনফরমেশন প্যারাডক্স’ রহস্য সমাধানে দারুণ কাজে আসবে। আসল ব্ল্যাক হোলে এটি মাপা কঠিন হলেও, মহাবিশ্বের বড় রহস্যগুলো জানতে এটি অনেক বড় এক পদক্ষেপ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















