ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

স্টিফেন হকিংয়ের সবচেয়ে বড় রহস্যের জট খুলছে

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত আর চরম অবস্থার জিনিসের নাম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। এর আকর্ষণ এতই বেশি যে, এর ভেতর থেকে আলোও পালাতে পারে না। কিন্তু সত্যিই কি সেখান থেকে কিছুই বের হতে পারে না?

বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ১৯৭৪ সালে বলেছিলেন অন্য কথা। তিনি জানান, ব্ল্যাক হোল থেকেও এক ধরনের বিকিরণ বা রেডিয়েশন বের হয়। এর ফলে এটি ধীরে ধীরে শক্তি হারায়। এই বিকিরণের নাম দেওয়া হয় ‘হকিং রেডিয়েশন’।

এবার এই তত্ত্ব নিয়েই দারুণ এক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির প্যাডারবর্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক লরেঞ্জো প্রোকোপিওর দল ল্যাবরেটরিতে আলোর সাহায্যে নকল ব্ল্যাক হোল তৈরি করেন। তাদের এই গবেষণার খবরটি ‘নেচার’ জার্নালে ছাপা হয়েছে।

আসল ব্ল্যাক হোলের বিকিরণ অনেক দুর্বল হওয়ায় তা মাপা প্রায় অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা অপটিক্যাল ফাইবার ও দ্রুত গতির লেজার রশ্মি ব্যবহার করে ল্যাবরেটরিতে ব্ল্যাক হোলের পরিবেশ তৈরি করেন। সেখান থেকেই তারা ‘ব্যাকরিঅ্যাকশন’ বা শক্তি হারানোর প্রমাণ পান।

ব্যাপারটা অনেকটা রোলার স্কেট পায়ে দুজনের দাঁড়িয়ে থাকার মতো। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিলে দুজনই উল্টো দিকে সরে যায়। ঠিক তেমনি, বিকিরণ যখন শক্তি নিয়ে বেরিয়ে যায়, তখন ব্ল্যাক হোলও শক্তি হারায়। লেজার রশ্মির সামান্য পরিবর্তন মেপে বিজ্ঞানীরা এই প্রমাণ পেয়েছেন।

আগে ধারণা ছিল এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সরাসরি এবং সহজেই ঘটে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার ব্ল্যাক হোলের শক্তি হারানো এবং হকিংয়ের ‘ইনফরমেশন প্যারাডক্স’ রহস্য সমাধানে দারুণ কাজে আসবে। আসল ব্ল্যাক হোলে এটি মাপা কঠিন হলেও, মহাবিশ্বের বড় রহস্যগুলো জানতে এটি অনেক বড় এক পদক্ষেপ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

স্টিফেন হকিংয়ের সবচেয়ে বড় রহস্যের জট খুলছে

আপডেট সময় ০৬:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মহাবিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত আর চরম অবস্থার জিনিসের নাম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর। এর আকর্ষণ এতই বেশি যে, এর ভেতর থেকে আলোও পালাতে পারে না। কিন্তু সত্যিই কি সেখান থেকে কিছুই বের হতে পারে না?

বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ১৯৭৪ সালে বলেছিলেন অন্য কথা। তিনি জানান, ব্ল্যাক হোল থেকেও এক ধরনের বিকিরণ বা রেডিয়েশন বের হয়। এর ফলে এটি ধীরে ধীরে শক্তি হারায়। এই বিকিরণের নাম দেওয়া হয় ‘হকিং রেডিয়েশন’।

এবার এই তত্ত্ব নিয়েই দারুণ এক আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। জার্মানির প্যাডারবর্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক লরেঞ্জো প্রোকোপিওর দল ল্যাবরেটরিতে আলোর সাহায্যে নকল ব্ল্যাক হোল তৈরি করেন। তাদের এই গবেষণার খবরটি ‘নেচার’ জার্নালে ছাপা হয়েছে।

আসল ব্ল্যাক হোলের বিকিরণ অনেক দুর্বল হওয়ায় তা মাপা প্রায় অসম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা অপটিক্যাল ফাইবার ও দ্রুত গতির লেজার রশ্মি ব্যবহার করে ল্যাবরেটরিতে ব্ল্যাক হোলের পরিবেশ তৈরি করেন। সেখান থেকেই তারা ‘ব্যাকরিঅ্যাকশন’ বা শক্তি হারানোর প্রমাণ পান।

ব্যাপারটা অনেকটা রোলার স্কেট পায়ে দুজনের দাঁড়িয়ে থাকার মতো। একজন আরেকজনকে ধাক্কা দিলে দুজনই উল্টো দিকে সরে যায়। ঠিক তেমনি, বিকিরণ যখন শক্তি নিয়ে বেরিয়ে যায়, তখন ব্ল্যাক হোলও শক্তি হারায়। লেজার রশ্মির সামান্য পরিবর্তন মেপে বিজ্ঞানীরা এই প্রমাণ পেয়েছেন।

আগে ধারণা ছিল এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এটি সরাসরি এবং সহজেই ঘটে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার ব্ল্যাক হোলের শক্তি হারানো এবং হকিংয়ের ‘ইনফরমেশন প্যারাডক্স’ রহস্য সমাধানে দারুণ কাজে আসবে। আসল ব্ল্যাক হোলে এটি মাপা কঠিন হলেও, মহাবিশ্বের বড় রহস্যগুলো জানতে এটি অনেক বড় এক পদক্ষেপ।