আকাশ নিউজ ডেস্ক:
গরমকালে অতিরিক্ত চুলপড়ার পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে— ঘাম, ধুলাবালি ও মাথার ত্বকের আর্দ্রতা কমে যাওয়া। প্রখর রোদে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং ঘামের কারণে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে চুল ঝরতে থাকে। কারণ গরমে বাইরে বের হওয়া মানেই ঘাম। তার সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতা। দুয়ে মিলে যাচ্ছেতাই দশা। এর ফলে বাড়ছে চুলপড়া। অনেকেই বলেন, বর্ষার মৌসুমে নাকি চুলপড়া বাড়ে। তা যেমন প্রমাণিত সত্য, ঠিক তেমনই আবার প্রচণ্ড গরমেও বাড়ে চুলপড়া। তবে গরমে বাইরে বের হলে ছাতা কিংবা টুপি ব্যবহার করা উচিত। আর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে চুলপড়ার সমস্যা বাড়ার একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত বাইরের অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে চুলপড়া বাড়ে। আবার চুলের গোড়ায় ঘাম জমার ফলে গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে চুল পড়ে। কারও কারও মতে, এই সময়ে ঘামের ফলে শরীরে পানিশূন্যতার সমস্যা তৈরি হয়। তা থেকেও চুলপড়ার সমস্যা দেখা দেয়। তাই এগুলো থেকে চুলকে বাঁচাতে পারলেই মিলবে সমস্যা থেকে রেহাই।
কয়েক দিন অন্তর অন্তর শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে ভুল করেও অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু কিংবা কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন না। তাতে চুলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর এই সময়ে অতিরিক্ত গরমে ক্লান্তিবোধ বেশি অনুভূত হয়। তাই ভালো করে ঘুমান। কম ঘুমানোর ফলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। বারবার কাঠের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান। তাতেই সুস্থ থাকবে স্ক্যাল্প। চুলপড়ার সমস্যাও দূর হবে।
সে জন্য চুলপড়া রোধে কয়েকটি কার্যকর ঘরোয়া উপায় জেনে রাখা ভালো। প্রথমত মেথি ও নারিকেল তেলের ব্যবহার। মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন। এটি নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মেথিতে থাকা প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুলের গোড়া শক্ত করে।
এ ছাড়া পেঁয়াজের রস ব্যবহার। পেঁয়াজের রসে থাকা সালফার চুলের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। সপ্তাহে দুদিন পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এটি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
আর অ্যালোভেরা জেল মাথার ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায় এবং পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। তাজা অ্যালোভেরা জেল সরাসরি মাথায় লাগিয়ে ৪০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।
আবার টকদই ও লেবুর রসও ব্যবহার করতে পারেন। কারণ টকদই চুলের জন্য প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। টকদইয়ের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে চুলে মাখলে খুশকি দূর হয় এবং চুলের গোড়া মজবুত হয়।
আর আমলকীর রস চুলের যত্নে অতুলনীয়। কারণ আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন-সি থাকে, যা কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। আমলকীর রস বা গুঁড়ো নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করলে চুলপড়া অনেকটাই কমে যায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























