ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার ১ বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে

পদধারী বড় নেতাদের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়তায়ই কাল হয়েছে আমার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মনে করেন, বিএনপির বড় নেতাদের চেয়ে তার বেশি জনপ্রিয়তাই ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুমিন ফারহানার ভাষ্য, অসুস্থতা ও কারাবরণের কারণে খালেদা জিয়া যখন রাজনীতি থেকে ক্রমে দূরে সরতে থাকেন, তখন থেকেই তার প্রতি কারও কারও বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। ‘যারা আমার ওপর নাখোশ ছিল, তারা আমাকে হিংসা করত। মূলত পদধারী বড় নেতাদের চেয়ে আমার জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ায় আমি টার্গেটে পরিণত হই।

টকশোতে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘যেদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মারা যান, সেদিনই বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করল।সকাল ৬টায় দেশনেত্রী তিনি মারা যান, আর আমাকে বিকাল ৪টায় বহিষ্কার করা হয়।দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়।মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এই বহিষ্কারাদেশ। অথচ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তখনও ১০-১৫ দিন সময় বাকি ছিল, সেটুকুও অপেক্ষা করা হয়নি।’

বহিষ্কারের পর মানসিকভাবে ‘হালকা’ অনুভব করছেন জানিয়ে এই নেত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি ব্যর্থ দলকে ডিফেন্ড করার যে চাপ ছিল, তা থেকে মুক্তি পেয়েছি। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় টকশোতে উপস্থাপকরা মুচকি হেসে প্রশ্ন করতেন—এবার কী করবেন? এই চাপ বহন করা সহজ ছিল না,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু প্রতিপক্ষই নয়, দলের ভেতরের নেতাকর্মীদের একটি অংশও তাকে নানাভাবে হেনস্তা করেছে। ‘অনলাইনে বড় নেতাদের খুশি করতে কিছু লোক আমাকে তাচ্ছিল্য ও অপমান করত। আওয়ামী লীগের লোকজনের পাশাপাশি বিএনপির ভেতরের অনলাইন গ্রুপের আক্রমণেরও শিকার হয়েছি,’ বলেন তিনি।

সবশেষে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই দল থেকে বের হয়ে আজ আমি যেন সেই চাপ ও হেনস্তা থেকে মুক্তি পেয়েছি।’

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। ওইদিনই দলের স্থায়ী কমিটির সভায় রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

পদধারী বড় নেতাদের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়তায়ই কাল হয়েছে আমার

আপডেট সময় ০৪:১০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মনে করেন, বিএনপির বড় নেতাদের চেয়ে তার বেশি জনপ্রিয়তাই ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুমিন ফারহানার ভাষ্য, অসুস্থতা ও কারাবরণের কারণে খালেদা জিয়া যখন রাজনীতি থেকে ক্রমে দূরে সরতে থাকেন, তখন থেকেই তার প্রতি কারও কারও বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। ‘যারা আমার ওপর নাখোশ ছিল, তারা আমাকে হিংসা করত। মূলত পদধারী বড় নেতাদের চেয়ে আমার জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ায় আমি টার্গেটে পরিণত হই।

টকশোতে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘যেদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মারা যান, সেদিনই বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করল।সকাল ৬টায় দেশনেত্রী তিনি মারা যান, আর আমাকে বিকাল ৪টায় বহিষ্কার করা হয়।দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়।মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এই বহিষ্কারাদেশ। অথচ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তখনও ১০-১৫ দিন সময় বাকি ছিল, সেটুকুও অপেক্ষা করা হয়নি।’

বহিষ্কারের পর মানসিকভাবে ‘হালকা’ অনুভব করছেন জানিয়ে এই নেত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি ব্যর্থ দলকে ডিফেন্ড করার যে চাপ ছিল, তা থেকে মুক্তি পেয়েছি। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় টকশোতে উপস্থাপকরা মুচকি হেসে প্রশ্ন করতেন—এবার কী করবেন? এই চাপ বহন করা সহজ ছিল না,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু প্রতিপক্ষই নয়, দলের ভেতরের নেতাকর্মীদের একটি অংশও তাকে নানাভাবে হেনস্তা করেছে। ‘অনলাইনে বড় নেতাদের খুশি করতে কিছু লোক আমাকে তাচ্ছিল্য ও অপমান করত। আওয়ামী লীগের লোকজনের পাশাপাশি বিএনপির ভেতরের অনলাইন গ্রুপের আক্রমণেরও শিকার হয়েছি,’ বলেন তিনি।

সবশেষে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই দল থেকে বের হয়ে আজ আমি যেন সেই চাপ ও হেনস্তা থেকে মুক্তি পেয়েছি।’

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। ওইদিনই দলের স্থায়ী কমিটির সভায় রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন।