ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার ১ বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে

ফ্যাসিবাদী আমলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনী করে ফেলা হয় : রাষ্ট্রপতি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার, আধুনিক এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনর্গঠন, অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি এ ভাষণ দেন।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৫ সালে ৭৯১ জনকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে, ৮,০১১ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। একই বছরে কনস্টেবল হতে এসআই পর্যন্ত বিভিন্ন পদে সর্বমোট ৩ হাজার ৫৬০ জন সদস্যকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার পুলিশে আরও ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেবে। একই সঙ্গে পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্যপদে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে। দেশে কারাগার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পাঁচটি নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, ‘১৬১৯১’ কল সেন্টার, ডিজিটাল বন্দি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে ঘরে-বাইরে শান্তি, স্বস্তি এবং নিরাপত্তা বোধ করেন এটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে বর্তমান সরকার অনলাইন জুয়াসহ সকল ধরনের জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকে চিহ্নিত করেছে। ফলে জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান চলবে। এ ছাড়া চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহ এবং কোস্ট গার্ড ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

ফ্যাসিবাদী আমলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনী করে ফেলা হয় : রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৫:৩০:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার, আধুনিক এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনর্গঠন, অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি এ ভাষণ দেন।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৫ সালে ৭৯১ জনকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে, ৮,০১১ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। একই বছরে কনস্টেবল হতে এসআই পর্যন্ত বিভিন্ন পদে সর্বমোট ৩ হাজার ৫৬০ জন সদস্যকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার পুলিশে আরও ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেবে। একই সঙ্গে পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্যপদে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে। দেশে কারাগার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পাঁচটি নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, ‘১৬১৯১’ কল সেন্টার, ডিজিটাল বন্দি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে ঘরে-বাইরে শান্তি, স্বস্তি এবং নিরাপত্তা বোধ করেন এটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে বর্তমান সরকার অনলাইন জুয়াসহ সকল ধরনের জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকে চিহ্নিত করেছে। ফলে জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান চলবে। এ ছাড়া চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহ এবং কোস্ট গার্ড ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলছে।