ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প সরকার সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে আছে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী একটি মহলের অতি লোভের কারণে ইসলাম বিজয়ী হয়নি: চরমোনাই পীর ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা চলতি বছরেই প্রতি উপজেলা হাসপাতালে স্থাপন হবে ক্যাথ ল্যাব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার ১ বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী নাটোরে নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দরজা খুলেই দেখলেন শাশুড়ির রক্তাক্ত লাশ, পাশের কক্ষে কাঁদছিল দুই বছরের মেয়ে

ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদেশে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন: মির্জা ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিগত শাসনামলে গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর অবর্ণনীয় কষ্টের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রের শুভযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে বিশেষ ‘ভাতা’ চালুর ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ কেউ মন্ত্রী হয়েছি, কেউ এমপি বা বড় আমলা হয়েছি। কিন্তু যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে গুম হয়ে গেছেন, তাদের সন্তানরা আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে। বিভিন্ন খাতে সরকারি ভাতা দেওয়া হলেও, এই পরিবারগুলোর জন্য এখনো আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিতে পারিনি। আমি আজই ফিরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব, যেন এই পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। এটি দয়া নয়, এটি তাদের প্রাপ্য।’

বক্তৃতাকালে মন্ত্রী বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে রমজান মাসে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আমরা গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের নিয়ে প্রথম ইফতার মাহফিল করেছিলাম গুলশানের একটি হোটেলে। আজ পাশে তুলির মা, পেছনে মুন্নার মাকে দেখে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। মুন্নার বাবা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ভারত পর্যন্ত গিয়েছিলেন, শেষে বিচার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এই যে পিতার হাহাকার, এটি ভোলার মতো নয়।’

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সাহসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘যখন কেউ কথা বলতে ভয় পেত, তখন এই মেয়েটি একা জেনেভায় হিউম্যান রাইটস কমিশনের কাছে লড়াই করেছে। তবে আমার একটি বড় দুঃখ ও লজ্জা যে, যে মেয়েটি এত সংগ্রাম করল, তাকে আমরা নির্বাচনে জয়ী করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা।’

নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘৫২-র ভাষা আন্দোলনের পর আমাদের জাতীয় সংগ্রাম নিয়ে উচ্চমানের সাহিত্য বা শিল্পকর্ম খুব একটা দেখা যায়নি। আমি আশা করি, ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রটি সেই মান অর্জন করবে এবং আমাদের সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে।’

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে খারাপ লাগে কোথায় জানেন? আজকে সেই ফ্যাসিস্ট মহিলা (স্বৈরাচার শেখ হাসিনা) বিদেশে বসে এতটুকু অনুশোচনা নেই, সমানে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, যেটাকে আমি মনে করি যে একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। যেটা মানবতার বিরুদ্ধে একটা অফেন্স।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গুম হওয়া পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, কিছুই খেতে পারছি না, চুলাও জ্বলছে না’

ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদেশে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০২:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিগত শাসনামলে গুমের শিকার হওয়া পরিবারগুলোর অবর্ণনীয় কষ্টের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রের শুভযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে বিশেষ ‘ভাতা’ চালুর ঘোষণা দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ কেউ মন্ত্রী হয়েছি, কেউ এমপি বা বড় আমলা হয়েছি। কিন্তু যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে গুম হয়ে গেছেন, তাদের সন্তানরা আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে। বিভিন্ন খাতে সরকারি ভাতা দেওয়া হলেও, এই পরিবারগুলোর জন্য এখনো আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিতে পারিনি। আমি আজই ফিরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব, যেন এই পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। এটি দয়া নয়, এটি তাদের প্রাপ্য।’

বক্তৃতাকালে মন্ত্রী বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে রমজান মাসে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আমরা গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের নিয়ে প্রথম ইফতার মাহফিল করেছিলাম গুলশানের একটি হোটেলে। আজ পাশে তুলির মা, পেছনে মুন্নার মাকে দেখে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ছে। মুন্নার বাবা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে ভারত পর্যন্ত গিয়েছিলেন, শেষে বিচার না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এই যে পিতার হাহাকার, এটি ভোলার মতো নয়।’

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির সাহসিকতার প্রশংসা করে মন্ত্রী তাকে ‘প্রকৃত হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘যখন কেউ কথা বলতে ভয় পেত, তখন এই মেয়েটি একা জেনেভায় হিউম্যান রাইটস কমিশনের কাছে লড়াই করেছে। তবে আমার একটি বড় দুঃখ ও লজ্জা যে, যে মেয়েটি এত সংগ্রাম করল, তাকে আমরা নির্বাচনে জয়ী করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা।’

নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘৫২-র ভাষা আন্দোলনের পর আমাদের জাতীয় সংগ্রাম নিয়ে উচ্চমানের সাহিত্য বা শিল্পকর্ম খুব একটা দেখা যায়নি। আমি আশা করি, ‘মায়ের ডাক’ চলচ্চিত্রটি সেই মান অর্জন করবে এবং আমাদের সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে।’

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সবচেয়ে খারাপ লাগে কোথায় জানেন? আজকে সেই ফ্যাসিস্ট মহিলা (স্বৈরাচার শেখ হাসিনা) বিদেশে বসে এতটুকু অনুশোচনা নেই, সমানে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, যেটাকে আমি মনে করি যে একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। যেটা মানবতার বিরুদ্ধে একটা অফেন্স।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী গুম হওয়া পরিবারগুলোর সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।