ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশ হবে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ছাত্রশিবিরকে বিদায় জানালেন সাদিক কায়েম ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ আইএমএফ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পে স্কেলের বিষয়ে আলোচনা হয়নি: অর্থমন্ত্রী হবিগঞ্জে ড্রোন দিয়ে সহায়তা নিয়ে দুর্গতের পাশে বিজিবি বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন দায়ী: রিজভী শেখ হাসিনা যেখানেই আত্মসমর্পণ করুক তাকে আগে জেলে যেতে হবে:পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় আলোকিত সমাজ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, একটি রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সমৃদ্ধির মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হবে। রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনে এবং একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জ্ঞানী-গুণীদের সম্মানিত করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানী-গুণীজনরাই প্রকৃত দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন। তাদের মেধা ও সৃষ্টিশীলতা সমাজকে সমৃদ্ধ করে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের বাংলাদেশ, প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে আমাদের বিজ্ঞজনদের অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা এবার ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করছি। একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা এবং স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। একটি উদার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যাত্রায় আমরা দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তা তিনটি ঐতিহাসিক আলোকধারায় নির্মিত ২১, ৭১ এবং জুলাই (গণঅভ্যুত্থান)।

তিনি বলেন, ২১ শিখিয়েছে অস্তিত্ব, ৭১ শিখিয়েছে মর্যাদা আর জুলাই শিখিয়েছে রাষ্ট্রকে ন্যায় ও জবাবদিহিতার আলোয় পুনর্গঠন করতে হয়। সংস্কৃতিই জাতির আত্মাকে রক্ষা করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একুশে পদক কেবল একটি পুরস্কার নয়, এটি একটি আদর্শ ও দায়বদ্ধতার স্মারক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নয়জন গুণী ব্যক্তিকে পদক প্রদানের মাধ্যমে এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন।

১৯৭৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এ পর্যন্ত ৬০৫ জন ব্যক্তি ও নয়টি প্রতিষ্ঠানকে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট কূটনীতিক এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রপ্তরা হলেন- অভিনয় ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার। স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। নৃত্যে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার।

এছাড়া সাংবাদিকতায় ‘একুশে পদক ২০২৬’ পেয়েছেন শফিক রেহমান। শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। সেই সঙ্গে সংগীতাঙ্গনে অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে এই পদক দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে মনোনীত প্রত্যেকে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননা সনদ এবং নির্দিষ্ট অংকের অর্থ পেয়ে থাকেন। শিক্ষা, শিল্পকলা, সমাজসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের কাজের মূল্যায়ন হিসেবে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় আলোকিত সমাজ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গুণীজনদের দিকনির্দেশনায় একটি সমৃদ্ধ, নৈতিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, একটি রাষ্ট্রে কৃতি মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, সমৃদ্ধির মানদণ্ডে সেই সমাজ তত বেশি আলোকিত হবে। রাষ্ট্র তার নিজের প্রয়োজনে এবং একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জ্ঞানী-গুণীদের সম্মানিত করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিবিদরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, জ্ঞানী-গুণীজনরাই প্রকৃত দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন। তাদের মেধা ও সৃষ্টিশীলতা সমাজকে সমৃদ্ধ করে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের বাংলাদেশ, প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে আমাদের বিজ্ঞজনদের অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা এবার ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করছি। একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা এবং স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। একটি উদার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যাত্রায় আমরা দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রসত্তা তিনটি ঐতিহাসিক আলোকধারায় নির্মিত ২১, ৭১ এবং জুলাই (গণঅভ্যুত্থান)।

তিনি বলেন, ২১ শিখিয়েছে অস্তিত্ব, ৭১ শিখিয়েছে মর্যাদা আর জুলাই শিখিয়েছে রাষ্ট্রকে ন্যায় ও জবাবদিহিতার আলোয় পুনর্গঠন করতে হয়। সংস্কৃতিই জাতির আত্মাকে রক্ষা করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, একুশে পদক কেবল একটি পুরস্কার নয়, এটি একটি আদর্শ ও দায়বদ্ধতার স্মারক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নয়জন গুণী ব্যক্তিকে পদক প্রদানের মাধ্যমে এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন।

১৯৭৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এ পর্যন্ত ৬০৫ জন ব্যক্তি ও নয়টি প্রতিষ্ঠানকে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট কূটনীতিক এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের একুশে পদকপ্রপ্তরা হলেন- অভিনয় ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার। স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। নৃত্যে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার।

এছাড়া সাংবাদিকতায় ‘একুশে পদক ২০২৬’ পেয়েছেন শফিক রেহমান। শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। সেই সঙ্গে সংগীতাঙ্গনে অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে এই পদক দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে মনোনীত প্রত্যেকে একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননা সনদ এবং নির্দিষ্ট অংকের অর্থ পেয়ে থাকেন। শিক্ষা, শিল্পকলা, সমাজসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের কাজের মূল্যায়ন হিসেবে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।