ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী জনগণের কল্যাণে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে : ডিএমপি কমিশনার টকশোতে আর দেখা যাবে না গোলাম মাওলা রনিকে গাজা পুনর্গঠনে ১০০ কোটি ডলারের সহায়তা উদ্যোগ ঘোষণা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের দুই বছরের কারাদণ্ড মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর চালু হলে কমবে পণ্য পরিবহন ব্যয়: নৌমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়পুরহাটে মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে; যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে।

আজ শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পর্যবেক্ষক মিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো, নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল, একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল; যা মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে মর্যাদাপূর্ণ করে। বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা, যাইহোক না কেন, প্রায়শই ম্যানিপুলেটেড অনলাইন আখ্যান দ্বারা সৃষ্ট হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছভাবে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা সমুন্নত রেখে কাজ করেছে। মিশনটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য পরিচালিত হয় এবং ২০২৫ সালের সংশোধনী অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে। আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা হ্রাস করে এমন ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার জন্য আরও সংস্কার প্রয়োজন।

ইইউ মিশনের প্রধান বলেন, আমরা দেখেছি, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা কমিশনকে যে সমর্থন দিয়েছিলেন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা সবার কাছে কথা বলেছে। নারীরা জুলাই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন৷ কিন্তু ২১ মাস পরে নারীরা ইনভিজিবল। মাত্র ৪ শতাংশ নারীদের দেখা গেছে। ডিজিটাল হয়রানি, বৈষম্য হয়েছে নারীদের সাথে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও ডিসএপয়েন্টিং। নারী প্রার্থীদের হয়রানি করা হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চায় শারীরিক বা ডিজিটাল কোনোভাবেই নারীদের হয়রানির সুযোগ নেই। গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়টিও এখনও ভারনারেবল। ৮১ জন ইউরোপীয় নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিবার্চনে ভালোভাবে নির্বাচন আয়োজন করেছে। যদিও নারীদের সাথে এখনও নতুন সরকারের মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য এবং শান্ত ব্যবহারকে আমরা স্বাগত জানাই।

ইইউ প্রধান বলেন, সব দেশেই কিছু স্পর্শকাতর ঘটনা আছে। কিন্তু সবকিছু নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গণভোট পর্যবেক্ষণ করছে না। আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এসেছি।

অংশগ্রহণ মানে সব রাজনৈতিক সামাজিক দলের অংশগ্রহণ। ভোটের হার বড় ইস্যু না। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশ এখনই ছাড়ছে না। প্রাথমিক প্রতিবেদন এখন দিচ্ছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, নীরবতা ভাঙলেন শ্রাবন্তী

নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন

আপডেট সময় ০১:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে; যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে।

আজ শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পর্যবেক্ষক মিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো, নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল, একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল; যা মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে মর্যাদাপূর্ণ করে। বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা, যাইহোক না কেন, প্রায়শই ম্যানিপুলেটেড অনলাইন আখ্যান দ্বারা সৃষ্ট হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছভাবে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা সমুন্নত রেখে কাজ করেছে। মিশনটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য পরিচালিত হয় এবং ২০২৫ সালের সংশোধনী অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে। আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা হ্রাস করে এমন ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার জন্য আরও সংস্কার প্রয়োজন।

ইইউ মিশনের প্রধান বলেন, আমরা দেখেছি, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা কমিশনকে যে সমর্থন দিয়েছিলেন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে।

ইভার্স ইজাবস বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা সবার কাছে কথা বলেছে। নারীরা জুলাই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন৷ কিন্তু ২১ মাস পরে নারীরা ইনভিজিবল। মাত্র ৪ শতাংশ নারীদের দেখা গেছে। ডিজিটাল হয়রানি, বৈষম্য হয়েছে নারীদের সাথে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও ডিসএপয়েন্টিং। নারী প্রার্থীদের হয়রানি করা হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চায় শারীরিক বা ডিজিটাল কোনোভাবেই নারীদের হয়রানির সুযোগ নেই। গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়টিও এখনও ভারনারেবল। ৮১ জন ইউরোপীয় নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।

ইভার্স ইজাবস আরও বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিবার্চনে ভালোভাবে নির্বাচন আয়োজন করেছে। যদিও নারীদের সাথে এখনও নতুন সরকারের মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য এবং শান্ত ব্যবহারকে আমরা স্বাগত জানাই।

ইইউ প্রধান বলেন, সব দেশেই কিছু স্পর্শকাতর ঘটনা আছে। কিন্তু সবকিছু নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গণভোট পর্যবেক্ষণ করছে না। আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এসেছি।

অংশগ্রহণ মানে সব রাজনৈতিক সামাজিক দলের অংশগ্রহণ। ভোটের হার বড় ইস্যু না। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশ এখনই ছাড়ছে না। প্রাথমিক প্রতিবেদন এখন দিচ্ছি।