ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুলগেরিয়ার পর্বতে ছয়জনের রহস্যজনক মৃত্যু

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

বুলগেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম পর্বতগুলোতে গত কয়েক দিনে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো যেসব স্থানে পাওয়া গেছে, সেসব জায়গার রহস্যজনক পরিবেশ এবং পরস্পরবিরোধী তথ্য তাদের মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা আরও গভীর করেছে।

দেশটির জাতীয় পুলিশ অধিদপ্তরের পরিচালক জহারি ভাস্কভ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি এমন একটি ঘটনা যার তুলনা দেওয়ার মতো কিছু আমাদের দেশে নেই।”

তদন্তকারী আইনজীবীদের সন্দেহ, এসব মৃত্যুর কারণ ‘খুন-আত্মহত্যা’ অথবা ‘আত্মহত্যা’। এসব মৃত্যু নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা না থাকায় বুলগেরিয়ানদের মাঝে জল্পনা-কল্পনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ওকোলচিতসা পিক এলাকায় পড়ে থাকা একটি মাইক্রোবাস থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও আছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, এর এক সপ্তাহ আগে বলকান পর্বতমালায় অবস্থিত গিরিপথ পেত্রোহানের কাছে একটি পার্বত্য কুটিরে হওয়া তিন হত্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে। ওই কুটিরটি পরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ওই কুটিরটি প্রকৃতি সুরক্ষার জন্য নিবেদিত একটি এনজিও তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতো। তবে কিছু ভাষ্যে এই এনজিওর সদস্যদের ‘বনরক্ষী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যারা অনেক বছর ধরে সার্বিয়ার সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় পাহারা দিতো আর সীমান্ত পুলিশকে সাহায্য করতো।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে পাঁচজন ‘ন্যাশনাল এজেন্সি ফর কন্ট্রোল অব প্রটেক্টেড এরিয়াস’ নামের এনজিওর সদস্য আর তারা ওই কুটিরেই বসবাস করতো। আর নিহত ওই বালক তাদের এক বন্ধুর ছেলে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটির কোনো সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তারা।

পুলিশ ১ ফেব্রুয়ারি ওই কুটিরের বাইরে থেকে ধারণ করা সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। এদিনই হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই ছয়জন একে অপরকে বিদায় জানাচ্ছেন। যে তিনজন কুটিরে থেকে যায় তারা পরে সেটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এনজিওটির সদস্যরা তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। ওই কুটিরের ভেতরে বৌদ্ধ ধর্মের বইপত্র ও ব্যানার পাওয়া গেছে।

পুলিশ ওই এনজিওর একজন সদস্যের এক আত্মীয়কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটির মধ্যে ‘ব্যতিক্রমী মানসিক অস্থিরতা’ ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলোর কাছে দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল ও চারটি গুলির খোসা পাওয়া গেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন, খুব কাছ থেকে গুলিগুলো ছোড়া হয়েছে।

প্রথম তিনজনের মৃতদেহ পাওয়ার পর খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে একটি মাইক্রোবাসে বাকি তিনজনের লাশ পাওয়া যায়।

বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার আপিল প্রসিকিউটর দপ্তরের ডেপুটি প্রসিকিউটর নাতালিয়া নিকোলোভা জানিয়েছেন, এগুলো সম্ভবত ‘খুন-আত্মহত্যা ও আত্মহত্যা’।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বুলগেরিয়ার পর্বতে ছয়জনের রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:২০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

বুলগেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম পর্বতগুলোতে গত কয়েক দিনে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো যেসব স্থানে পাওয়া গেছে, সেসব জায়গার রহস্যজনক পরিবেশ এবং পরস্পরবিরোধী তথ্য তাদের মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা আরও গভীর করেছে।

দেশটির জাতীয় পুলিশ অধিদপ্তরের পরিচালক জহারি ভাস্কভ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি এমন একটি ঘটনা যার তুলনা দেওয়ার মতো কিছু আমাদের দেশে নেই।”

তদন্তকারী আইনজীবীদের সন্দেহ, এসব মৃত্যুর কারণ ‘খুন-আত্মহত্যা’ অথবা ‘আত্মহত্যা’। এসব মৃত্যু নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা না থাকায় বুলগেরিয়ানদের মাঝে জল্পনা-কল্পনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ওকোলচিতসা পিক এলাকায় পড়ে থাকা একটি মাইক্রোবাস থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও আছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, এর এক সপ্তাহ আগে বলকান পর্বতমালায় অবস্থিত গিরিপথ পেত্রোহানের কাছে একটি পার্বত্য কুটিরে হওয়া তিন হত্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে। ওই কুটিরটি পরে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ওই কুটিরটি প্রকৃতি সুরক্ষার জন্য নিবেদিত একটি এনজিও তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতো। তবে কিছু ভাষ্যে এই এনজিওর সদস্যদের ‘বনরক্ষী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যারা অনেক বছর ধরে সার্বিয়ার সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় পাহারা দিতো আর সীমান্ত পুলিশকে সাহায্য করতো।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে পাঁচজন ‘ন্যাশনাল এজেন্সি ফর কন্ট্রোল অব প্রটেক্টেড এরিয়াস’ নামের এনজিওর সদস্য আর তারা ওই কুটিরেই বসবাস করতো। আর নিহত ওই বালক তাদের এক বন্ধুর ছেলে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটির কোনো সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তারা।

পুলিশ ১ ফেব্রুয়ারি ওই কুটিরের বাইরে থেকে ধারণ করা সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। এদিনই হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই ছয়জন একে অপরকে বিদায় জানাচ্ছেন। যে তিনজন কুটিরে থেকে যায় তারা পরে সেটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এনজিওটির সদস্যরা তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। ওই কুটিরের ভেতরে বৌদ্ধ ধর্মের বইপত্র ও ব্যানার পাওয়া গেছে।

পুলিশ ওই এনজিওর একজন সদস্যের এক আত্মীয়কে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটির মধ্যে ‘ব্যতিক্রমী মানসিক অস্থিরতা’ ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলোর কাছে দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল ও চারটি গুলির খোসা পাওয়া গেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন, খুব কাছ থেকে গুলিগুলো ছোড়া হয়েছে।

প্রথম তিনজনের মৃতদেহ পাওয়ার পর খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে একটি মাইক্রোবাসে বাকি তিনজনের লাশ পাওয়া যায়।

বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার আপিল প্রসিকিউটর দপ্তরের ডেপুটি প্রসিকিউটর নাতালিয়া নিকোলোভা জানিয়েছেন, এগুলো সম্ভবত ‘খুন-আত্মহত্যা ও আত্মহত্যা’।