আকাশ জাতীয় ডেস্ক :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, কথা দিচ্ছি যদি আমাদের বিরুদ্ধেও ভোট দেন, আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য আমরা জীবন দেবো ইনশাআল্লাহ। কেউ যদি ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট চুরির চেষ্টা করে তাহলে তার পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এরকম কোনও চেষ্টা করা হলে এদেশে আরেকটি ৫ আগস্টের বিপ্লব ঘটবে।
শুক্রবার দুপুরে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ৫ আগস্টের পর নতুন কোনও জালিমের আবির্ভাব দেখতে চাই না। যারা নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু করেছে, নতুন করে জমি দখল শুরু করেছে, নতুন করে মানুষকে নির্যাতন করছে, পাথর মেরে মানুষকে হত্যা করছে, তারা আইনত জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সারা বাংলাদেশে ১১ দলের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ চায় পরিবর্তন, সংস্কার এবং ইনসাফ। যদি আবার ঋণখেলাপিরা, ভূমিদস্যুরা এবং বিদেশি নাগরিকত্ব যাদের রয়েছে তারা সংসদে যায় তাহলে এই বাংলাদেশের কোনও পরিবর্তন হবে না। এই কারণে গণঅভ্যুত্থান করেনি, রক্ত দেয়নি, জীবন দেয়নি। এবারের নির্বাচন পরিবর্তনের নির্বাচন, সংস্কারের নির্বাচন এবং ১১ দলীয় ঐক্য হচ্ছে সেই পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হবে ঢাকা থেকে, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ করবে এদেশের জনগণ। দিল্লির তাঁবেদারি যারা করে এসেছে এবং নতুন করে দিল্লির তাঁবেদারি যারা করতে চায় তাদের রাজনীতি বাংলাদেশে আর কখনই প্রতিষ্ঠিত হবে না। আমরা জীবন দিয়েছি, আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত আছি, কিন্তু আজাদি এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা একবিন্দুও ছাড় দেব না।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শরীফ ওসমান হাদির বিচারের প্রশ্নে আমরা একবিন্দু ছাড় দেব না। শরিফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করতে না পারা, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারা এই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।
বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা দেখেছি শেরপুরে আমাদের এক ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, যারা হত্যা করে লাশের উপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায় পুরোনো কায়দায়, ফ্যাসিস্টদের কায়দায়, তাদের রুখে দেওয়ার দিন হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
তিনি বলেন, একটি দলের নেতা যখন দেশে এসে নামলেন তিনি বললেন তার একটি প্ল্যান রয়েছে, আমরা সাধুবাদ জানিয়েছি। আমরা প্ল্যান থাকলে প্ল্যান শেয়ার করে চাই বাংলাদেশ পরিবর্তন হোক। আমরা সম্প্রীতির রাজনীতিই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি তিনি কোথায় চিনিকল আছে কোথায় নেই, কোথায় ইপিজেড আছে কোথায় নেই, কোনটা বাণিজ্যিক রাজধানী, কোনটা কী হবে, কোথায় সয়াবিন চাষ হয়, কোথায় ভুট্টা চাষ বেশি হয় উনি কিছুই জানেন না। যার দেশ সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই, যিনি ১৬-১৭ বছর বিদেশে ছিলেন, যিনি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন তার দেশ নিয়ে কী প্ল্যান রয়েছে সেটি জনগণ বুঝে গেছে। এমন কোনও প্ল্যান করবেন না যে বাংলাদেশকে আবারও পিছিয়ে নিয়ে যাবে, এমন কোনও প্ল্যান আমরা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে দেব না যা ফ্যাসিস্টকে পুনর্বাসন করবে, এমন কোনও প্ল্যান আমরা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হতে দেব না যা বাংলাদেশে আবার আধিপত্যবাদী রাজনীতি তৈরি করবে।
আয়োজিত জনসভায় ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক হাসান মাহবুব মাস্টারসহ স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















