ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে: জামায়াত আমির ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: রিজভী টানা ছয় জয় বাংলাদেশের মেয়েদের যে সরকারই আসুক, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার এই নির্বাচন দিকনির্দেশনা দেবে আগামীতে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে: তারেক রহমান রাজধানীর উত্তরায় পার্কিং করা বাসে আগুন জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহ-সভাপতি বাংলাদেশ গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে, এমন দাবি ভিত্তিহীন: প্রেস উইং মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক ইসলামের নামে তারা মিথ্যাচার করছেন: চরমোনাই পীর

দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে: জামায়াত আমির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে জনগণের আমানত ও ভোটে জয়ী হওয়ার পর ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে ১০ দলের আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে তা হতে দিতে পারি না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। এ দেশে একজন রিকশাচালকও তার যোগ্যতায় এমপি-মন্ত্রী হতে পারবে। আমরা চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে আমাদের বোনদের ওপরও আঘাত করতে শাসকরা দ্বিধা করেনি।

শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, সে বুক পেতে বলেছিল, ‘বুক পেতেছি, গুলি কর’। সে পালিয়ে যায়নি, বরং তার রক্ত আমাদের কাছে আমানত রেখে গেছে। এই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার, যা প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রকৃতির ওপর জুলুম ও বর্তমান পরিবেশ-সমসাময়িক আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, মাঘ মাসে শীত নাই, বর্ষায় বৃষ্টি নাই। কেন নাই? কারণ, এ দেশ যারা পরিচালনা করেছে, তারা প্রকৃতির ওপর জুলুম করেছে, প্রকৃতিকে লুণ্ঠন করেছে। মানুষের এই হঠকারী আচরণের মূল্য এখন পুরো জাতিকে ধুঁকে ধুঁকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এর ফলে কৃষক, পরিবহণ মালিক এবং খুচরা ব্যবসায়ী— সবাই আজ ক্ষতিগ্রস্ত ও অতিষ্ঠ।

জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে প্রশাসন যন্ত্রের অবহেলা বা কিছু ক্ষেত্রে ভাগ-বাটোয়ারার কারণে চাঁদাবাজি চললেও আগামীতে তা আর সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার মা বা কার সন্তান—তা দেখা হবে না। আমরা সেদিন হবো নির্দয়, নিষ্ঠুর ও কঠোর। যারা রাজনীতি করবেন আবার চাঁদাবাজিও করবেন, তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।

জনসভায় ফেনী-১ আসনের জামাতের প্রার্থী এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ এর প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-২ আসনে আমার বাংলাদেশের (এবি পার্টির) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুক্তি আবদুল হান্নান। সমাবেশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেনীতে ২৪ সালের ৪ আগস্ট হাসিনা সরকারের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত-আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম

দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০২:০৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে জনগণের আমানত ও ভোটে জয়ী হওয়ার পর ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে ১০ দলের আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে তা হতে দিতে পারি না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। এ দেশে একজন রিকশাচালকও তার যোগ্যতায় এমপি-মন্ত্রী হতে পারবে। আমরা চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে আমাদের বোনদের ওপরও আঘাত করতে শাসকরা দ্বিধা করেনি।

শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, সে বুক পেতে বলেছিল, ‘বুক পেতেছি, গুলি কর’। সে পালিয়ে যায়নি, বরং তার রক্ত আমাদের কাছে আমানত রেখে গেছে। এই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার, যা প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রকৃতির ওপর জুলুম ও বর্তমান পরিবেশ-সমসাময়িক আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, মাঘ মাসে শীত নাই, বর্ষায় বৃষ্টি নাই। কেন নাই? কারণ, এ দেশ যারা পরিচালনা করেছে, তারা প্রকৃতির ওপর জুলুম করেছে, প্রকৃতিকে লুণ্ঠন করেছে। মানুষের এই হঠকারী আচরণের মূল্য এখন পুরো জাতিকে ধুঁকে ধুঁকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এর ফলে কৃষক, পরিবহণ মালিক এবং খুচরা ব্যবসায়ী— সবাই আজ ক্ষতিগ্রস্ত ও অতিষ্ঠ।

জামায়াত আমির বলেন, বর্তমানে প্রশাসন যন্ত্রের অবহেলা বা কিছু ক্ষেত্রে ভাগ-বাটোয়ারার কারণে চাঁদাবাজি চললেও আগামীতে তা আর সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার মা বা কার সন্তান—তা দেখা হবে না। আমরা সেদিন হবো নির্দয়, নিষ্ঠুর ও কঠোর। যারা রাজনীতি করবেন আবার চাঁদাবাজিও করবেন, তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।

জনসভায় ফেনী-১ আসনের জামাতের প্রার্থী এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ এর প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-২ আসনে আমার বাংলাদেশের (এবি পার্টির) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুক্তি আবদুল হান্নান। সমাবেশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেনীতে ২৪ সালের ৪ আগস্ট হাসিনা সরকারের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত-আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।