ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তরিত মির্জা আব্বাস আমার এলাকার হাসপাতাল নিজেই রোগীর মতো: রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের আমলের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে : আইনমন্ত্রী মার্কিন অবরোধের মধ্যেই হরমুজ পার হলো ইরানি জাহাজ ‘আওয়ামী লীগ আমলে বিসিএসে নিয়োগে দলীয়করণের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ ইউক্রেনকে আর বিনামূল্যে অস্ত্র দেবে না যুক্তরাষ্ট্র : জেডি ভ্যান্স হরমুজ নিয়ে এবার যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল ইরান ২০০ কোটি ডলার ঋণ নাকি অনুদান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বললেন ‘এখানে খোঁচাখুঁচির কিছু নাই’ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে’ খুলে দেওয়া হচ্ছে: ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর

মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান এমাসে পরিচালিত সমন্বিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অভিযানটি চালানো হয় রাজধানীর একটি বাণিজ্যিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক স্থানে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী (হিট সেন্সর) ব্যবহার করে একের পর এক অভিযানে আটক হচ্ছেন শত শত অবৈধ অভিবাসী। এরই ধারাবাহিকতায় ওই এলাকাগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের আধিপত্য ও অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন সদর দপ্তর, নেগেরি সেম্বিলান ও পেরাক রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের ২৭৯ কর্মকর্তা অংশ নেন। পাশাপাশি জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) ১০ কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন। পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে ১ হাজার ৮৭ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনসহ ইমিগ্রেশন আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ ভবনের ছাদে, কেউ সিলিংয়ের ওপরে লুকিয়ে পড়েন। তবে আধুনিক তাপ শনাক্তকারী সেন্সরযুক্ত ড্রোনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আটক করতে সক্ষম হয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এতে অভিযানের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও জানায়, দেশটির ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭-এর আওতায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত, আটক, বিচার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তরিত মির্জা আব্বাস

মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক

আপডেট সময় ১০:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান এমাসে পরিচালিত সমন্বিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অভিযানটি চালানো হয় রাজধানীর একটি বাণিজ্যিক এলাকা ও পার্শ্ববর্তী আবাসিক স্থানে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী (হিট সেন্সর) ব্যবহার করে একের পর এক অভিযানে আটক হচ্ছেন শত শত অবৈধ অভিবাসী। এরই ধারাবাহিকতায় ওই এলাকাগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের আধিপত্য ও অবৈধ অবস্থানের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন সদর দপ্তর, নেগেরি সেম্বিলান ও পেরাক রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের ২৭৯ কর্মকর্তা অংশ নেন। পাশাপাশি জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) ১০ কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন। পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে ১ হাজার ৮৭ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, পাসের শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনসহ ইমিগ্রেশন আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ ভবনের ছাদে, কেউ সিলিংয়ের ওপরে লুকিয়ে পড়েন। তবে আধুনিক তাপ শনাক্তকারী সেন্সরযুক্ত ড্রোনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আটক করতে সক্ষম হয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এতে অভিযানের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও জানায়, দেশটির ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭-এর আওতায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত, আটক, বিচার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।