ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাহাত্তরের সংবিধান থেকেই ফ্যাসিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল: ড. দিলারা চৌধুরী দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দিলে গণতন্ত্র অবশিষ্ট থাকে না: আখতার হোসেন তিন সীমান্তে ২২ জনকে পুশইন চেষ্টা নস্যাৎ বিজিবির ভালো কাজ না করলে সমর্থনের প্রয়োজন নেই: সারজিস দেশের প্রথম কমিউনিটিভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্পে ১০০০ ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন জুলাই সনদে ফাঁকফোকর ছিল: মান্না ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

একই পরিবারের ১১ জনের ফাঁসি কার্যকর করল চীন

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর লাউককাইং দাপিয়ে বেড়ানো কুখ্যাত ‘মিং’ পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করেছে চীন।

গত সেপ্টেম্বরে আদালতের রায়ের পর এই সাজা কার্যকর করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চীন বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও মিং পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন।

২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের শান রাজ্যের রিমোট বর্ডার টাউন লাউককাইং শাসন করে আসছিল মিং, বাউ, ওয়েই এবং লিউ নামের চারটি প্রভাবশালী পরিবার। বর্তমান সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের আশীর্বাদে তারা ক্ষমতায় আসে।

একসময় আফিম ও মেথামফেটামিন উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও পরবর্তীতে তারা ক্যাসিনো এবং অনলাইন প্রতারণার (অনলাইন স্ক্যাম) এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তাদের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরোক্ষ সমর্থন ছিল এবং পরিবারের অনেক সদস্য জান্তা সমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।

লাউককাইংয়ের এই স্ক্যাম সেন্টারগুলো এশিয়ার অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি নৃশংস ছিল। বিশেষ করে মিং পরিবারের পরিচালিত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ ছিল যমপুরীর মতো। হাজার হাজার চীনা নাগরিককে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে বন্দি করে রাখা হতো এবং তাদের দিয়ে ‘পিগ-বাচারিং’ এর মতো ভয়াবহ অনলাইন জালিয়াতি করানো হতো। সেখানে শারীরিক নির্যাতন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টার সময় রক্ষীরা বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিককে হত্যা করলে বেইজিং কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের সুযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ লাউককাইং দখল করে নেয় এবং এই চার পরিবারের প্রধানদের আটক করে চীনের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মিং পরিবারের প্রধান মিং সুয়েচ্যাং ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে এই পরিবারের এক সদস্য স্বীকার করেছেন যে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি র্যান্ডমলি বা উদ্দেশ্যহীনভাবে একজনকে হত্যা করেছিলেন। চীন এই নৃশংসতার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে এনেছে যাতে তাদের এই কঠোর শাস্তিকে বিশ্ববাসীর কাছে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরা যায়।

মিং পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও অন্যান্য পরিবারের বিচার এখনো চলমান। বাউ পরিবারের পাঁচজন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন এবং ওয়েই ও লিউ পরিবারের বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু মিয়ানমার নয়, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও অনলাইন স্ক্যাম সাম্রাজ্যের হোতাদের হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে চীন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বড় কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও এই অনলাইন প্রতারণার ব্যবসা এখন মিয়ানমারের নতুন নতুন দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা দমানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ মাসেই অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

একই পরিবারের ১১ জনের ফাঁসি কার্যকর করল চীন

আপডেট সময় ১১:২২:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর লাউককাইং দাপিয়ে বেড়ানো কুখ্যাত ‘মিং’ পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করেছে চীন।

গত সেপ্টেম্বরে আদালতের রায়ের পর এই সাজা কার্যকর করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চীন বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও মিং পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন।

২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের শান রাজ্যের রিমোট বর্ডার টাউন লাউককাইং শাসন করে আসছিল মিং, বাউ, ওয়েই এবং লিউ নামের চারটি প্রভাবশালী পরিবার। বর্তমান সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের আশীর্বাদে তারা ক্ষমতায় আসে।

একসময় আফিম ও মেথামফেটামিন উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও পরবর্তীতে তারা ক্যাসিনো এবং অনলাইন প্রতারণার (অনলাইন স্ক্যাম) এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তাদের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরোক্ষ সমর্থন ছিল এবং পরিবারের অনেক সদস্য জান্তা সমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।

লাউককাইংয়ের এই স্ক্যাম সেন্টারগুলো এশিয়ার অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি নৃশংস ছিল। বিশেষ করে মিং পরিবারের পরিচালিত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ ছিল যমপুরীর মতো। হাজার হাজার চীনা নাগরিককে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে বন্দি করে রাখা হতো এবং তাদের দিয়ে ‘পিগ-বাচারিং’ এর মতো ভয়াবহ অনলাইন জালিয়াতি করানো হতো। সেখানে শারীরিক নির্যাতন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টার সময় রক্ষীরা বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিককে হত্যা করলে বেইজিং কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের সুযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ লাউককাইং দখল করে নেয় এবং এই চার পরিবারের প্রধানদের আটক করে চীনের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মিং পরিবারের প্রধান মিং সুয়েচ্যাং ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে এই পরিবারের এক সদস্য স্বীকার করেছেন যে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি র্যান্ডমলি বা উদ্দেশ্যহীনভাবে একজনকে হত্যা করেছিলেন। চীন এই নৃশংসতার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে এনেছে যাতে তাদের এই কঠোর শাস্তিকে বিশ্ববাসীর কাছে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরা যায়।

মিং পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও অন্যান্য পরিবারের বিচার এখনো চলমান। বাউ পরিবারের পাঁচজন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন এবং ওয়েই ও লিউ পরিবারের বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু মিয়ানমার নয়, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও অনলাইন স্ক্যাম সাম্রাজ্যের হোতাদের হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে চীন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বড় কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও এই অনলাইন প্রতারণার ব্যবসা এখন মিয়ানমারের নতুন নতুন দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা দমানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।