ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোনালদোর পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ইতিহাস কঙ্গোর জি৭ সম্মেলনে লেবাননে যুদ্ধবিরতির আহ্বান নেতাদের শিল্পকলায় সার্কাস ও যাত্রাপালা কর্মশালার সমাপ্তি: সুস্থ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর ৩৬ পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার : মীর হেলাল চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি

এবার চট্টগ্রামের রাউজানে বুকে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

চট্টগ্রামের রাউজানে জানে আলম (৫০) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের শিকদারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানে আলম উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের শিকদার ঘাটা এলাকার মৃত হামদু মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে এসে জানে আলমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি বুকে গুলিবিদ্ধ হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নগরীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

স্থানীয় বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি একটি চাঁদাবাজি মামলায় আটক হয়ে কারাভোগ শেষে মুক্তি পান। তবে তিনি রাউজানে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মাসে রাউজানে ১৯ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিল ১৩টি। এছাড়া গত ১৬ মাসে গুলি বিনিময়ের ৩২টি ঘটনায় অর্ধশত লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় জানে আলম দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন।

এর আগে ৫ নভেম্বর কোয়েপাড়া গ্রামে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। গত ২৫ অক্টোবর তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পৌরসভার ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের চারাবটতল এলাকায় যুবদল নেতা আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ৬ জুলাই কদলপুর ইউনিয়নে গুলিতে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মো. সেলিম নিহত হন। এ সময় এক যুবদলকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। ২২ এপ্রিল সদর ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী মো. ইব্রাহীমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন কদলপুরে একজন অটোরিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হন।

গত ১৯ এপ্রিল রাউজানের বাগোয়ানে যুবদল নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মানিককে মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় নিহতের এক সহযোগীও গুলিবিদ্ধ হন। ২৪ জানুয়ারি নোয়াপাড়ায় চাক্তাইয়ের শুঁটকি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাগনেও গুলিবিদ্ধ হন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার চট্টগ্রামের রাউজানে বুকে গুলি করে যুবদল নেতাকে হত্যা

আপডেট সময় ১০:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

চট্টগ্রামের রাউজানে জানে আলম (৫০) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের ৫ নাম্বার ওয়ার্ডের শিকদারবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নগরীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানে আলম উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের শিকদার ঘাটা এলাকার মৃত হামদু মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে এসে জানে আলমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি বুকে গুলিবিদ্ধ হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নগরীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

স্থানীয় বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিনি একটি চাঁদাবাজি মামলায় আটক হয়ে কারাভোগ শেষে মুক্তি পান। তবে তিনি রাউজানে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মাসে রাউজানে ১৯ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ছিল ১৩টি। এছাড়া গত ১৬ মাসে গুলি বিনিময়ের ৩২টি ঘটনায় অর্ধশত লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় জানে আলম দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন।

এর আগে ৫ নভেম্বর কোয়েপাড়া গ্রামে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। গত ২৫ অক্টোবর তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পৌরসভার ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের চারাবটতল এলাকায় যুবদল নেতা আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ৬ জুলাই কদলপুর ইউনিয়নে গুলিতে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মো. সেলিম নিহত হন। এ সময় এক যুবদলকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। ২২ এপ্রিল সদর ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী মো. ইব্রাহীমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন কদলপুরে একজন অটোরিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হন।

গত ১৯ এপ্রিল রাউজানের বাগোয়ানে যুবদল নেতা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মানিককে মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় নিহতের এক সহযোগীও গুলিবিদ্ধ হন। ২৪ জানুয়ারি নোয়াপাড়ায় চাক্তাইয়ের শুঁটকি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাগনেও গুলিবিদ্ধ হন।